বিষয়বস্তুতে চলুন

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ওয়েস্টার্ণ গরিলা বা পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা[]
পুরুষ
শিশু সহ স্ত্রী গরিলা
, ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা, নিউ ইয়র্ক
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস সম্পাদনা করুন
অপরিচিত শ্রেণী (ঠিক করুন): গরিলা
প্রজাতি: টেমপ্লেট:শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা/গরিলাগ. গ. (G.) gorilla)
দ্বিপদী নাম
টেমপ্লেট:শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা/গরিলাগর গরিলা (Gorilla gorilla)
(স্যাভেজ, ১৮৪৭)
উপপ্রজাতি

পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলা (গরিলা গরিলা গরিলা)
ক্রস নদী গরিলা (গরিলা গরিলা দিহেলি)

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা বিস্তার

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা বা ইংরাজীতে ওয়েস্টার্ণ গরিলা (গরিলা গরিলা) হ'ল গরিলা গণের অন্তর্গত গ্রেট এপ দের মধ্যে সর্বাধিক জনবহুল প্রজাতি।[]

ট্যাক্সোনমি

[সম্পাদনা]

এই প্রজাতির বিবরণ ১৮৪৭ সালে টমাস স্যাভেজ প্রদান করেছিলেন। তিনি পূর্ব প্রজাতির একদল শিম্পাঞ্জি কে ট্রোগলোডিয়েটস গরিলা হিসাবে নতুন প্রজাতির "ওরাং" হিসাবে অভিহিত করেন। আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে হ্যান্নো যে এক দল "বন্য মানুষ" (wild men) দেখেছিলেন তাদেরই স্যাভেজের মনে হয়েছিল তারা এক প্রজাতির ওরাং। [] এরা মোট দুটি উপ-প্রজাতিতে বিভক্ত ও স্বীকৃত:

চিত্রউপ-প্রজাতিসংখ্যাবিস্তার
পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলা (Gorilla gorilla gorilla)৯৫,০০০[]অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো, নিরক্ষীয় গিনি এবং গ্যাবন।
ক্রস নদী গরিলা (Gorilla gorilla diehli)২৫০ থেকে ৩০০ []ক্যামেরুন-নাইজেরিয়া সীমান্ত অঞ্চল

মনে করা হয় এই অংশের প্রায় সমস্তই উপ-প্রজাতি - পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলা এর অন্তর্ভুক্ত যাদের সংখ্যা প্রায় ৯৫,০০০। এও মনে করা হয় পশ্চিম আফ্রিকান গরিলার মধ্যে কেবলমাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টি রয়েছে উপ-প্রজাতি - ক্রস নদী গরিলা এর অন্তর্গত।

পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমির গরিলা
ক্রস নদী গরিলা

বর্ণনা

[সম্পাদনা]
সান ফ্রান্সিসকো চিড়িয়াখানায় একটি পুরুষ পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা।

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা সাধারণত পূর্ব আফ্রিকান গরিলা এর চেয়ে হালকা রঙের হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলা কালো, গাঢ় ধূসর বা গাঢ় বাদামী-ধূসর বর্ণের লোম এবং বাদামী কপালযুক্ত হয়। বন্য পরিবেশে দেখা যায় যে পরিণত পুরুষদের গড় উচ্চতা ১.৫৫ মিটার (৫ ফুট ১ ইঞ্চি) এবং পরিণত স্ত্রী গড়ে ১.৩৫ মিটার (৪ ফুট ৫ ইঞ্চি) উচ্চ হয়। [] বন্য পরিবেশে এদের ওজন খুব কমই নেওয়া হয়েছে। তবে বন্দী পশ্চিম আফ্রিকান পুরুষ গরিলার গড় ওজন ১৫৭ কিগ্রাম (৩৪৬ পা) এবং স্ত্রীর ওজন হয় ৮০ কিগ্রাম (১৭৬ পা) এর মধ্যে। [] বন্য পরিবেশে পুরুষ পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলার গড় ওজন ১৪৬ কেজি।[] পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নভূমি গরিলার থেকে মাথার খুলি ও দাঁতের মাত্রায় ক্রস নদীর গরিলা পৃথক হয়।

আচরণ এবং বাস্তুতন্ত্র

[সম্পাদনা]

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা দুই থেকে বিশ জনের দলে বাস করে থাকে। এই জাতীয় দলগুলি কমপক্ষে একটি পুরুষ, বেশ কয়েকটি স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত। একটি প্রভাবশালী রৌপ্যপিঠের পুরুষ দলটির নেতৃত্ব দেয় এবং কম বয়স্ক পুরুষরা সাধারণত পূর্ণতায় পৌঁছালে দল ছেড়ে চলে যায়। স্ত্রী গরিলা প্রজননের আগে অন্য দলে স্থানান্তরিত হয় এবং তা তাদের আট থেকে নয় বছর বয়সে শুরু হয়। তারা তাদের জীবনের প্রথম তিন থেকে চার বছরের জন্য তাদের শিশুটির যত্ন করে। জন্মের মধ্যবর্তী ব্যবধান দীর্ঘ হওয়ায় এদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে কম করেছে। ফলে পশ্চিম আফ্রিকান গরিলার সংখ্যা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ গর্ভকালীন সময়, পিতামাতার যত্নের দীর্ঘ সময় এবং শিশু মৃত্যুর কারণে একটি স্ত্রী গরিলা কেবল ছয় থেকে আট বছরে পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হয় এবং একটি সন্তানের জন্ম দেয়। গরিলা দীর্ঘজিবী এবং বন্য পরিবেশে তারা ৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। একটি গোষ্ঠীর বিস্তার এলাকা ৩০ বর্গকিলোমিটারের মতো বড় হতে পারে। বন্য পশ্চিম আফ্রিকান গরিলা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে।[]

পশ্চিম আফ্রিকান গরিলার খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যার মধ্যে আছে পাতা, ডালপালা, ফল, তরুমজ্জা, বাকল, অমেরুদন্ডী এবং মাটি। গরিলার দল এবং মরসুমের উপর নির্ভর করে এগুলির প্রতিটির গ্রহণের মাত্রার হেরফের ঘটে। গরিলার বিভিন্ন দলের পৃথক পৃথক রকমের উদ্ভিদ ও অমেরুদন্ডী খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস সাক্ষ্য দেয় যে গরিলাদের একটি খাদ্যাভ্যাস সংস্কৃতি রয়েছে। টেট্র্যাপ্লিউএরা, ক্রাইসোফিলাম, ডায়ালিয়াম, এবং ল্যান্ডোল্ফিয়া গণের ফল গরিলারা পছন্দ করে। যখন ফল দুষ্প্রাপ্য হয় তখন পাতা এবং নিম্নমানের গুল্মের কাষ্ঠল উদ্ভিজ্জ অংশ খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। জানুয়ারী থেকে মার্চ মাসে শুষ্ক মরসুমে রসালো ফল খুব কম প্রাপ্তির সময় তারা নিম্নমানের ভেষজ পাতা এবং বাকলের মতো আরও তন্তুযুক্ত উদ্ভিদ পালিসোটা এবং আফ্রামোমাম খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। অমেরুদন্ডীর মধ্যে আছে প্রধাণত উইপোকা, পিঁপড়ে। খুব কম হলেও এরা শুঁয়োপোকা, লার্ভাও খায়।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি-গরিলা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Groves, C. (২০০৫)। Wilson, D. E., & Reeder, D. M. (সম্পাদক)। Mammal Species of the World (3rd সংস্করণ)। Johns Hopkins University Press। পৃ. ১৮১–১৮২। আইএসবিএন ০-৮০১-৮৮২২১-৪{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: সম্পাদকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  2. 1 2 Maisels, F.; Bergl, R. A.; Williamson, E. A. (২০১৬)। "Gorilla gorilla"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬আইইউসিএন: e.T৯৪০৪A১৭৯৬৩৯৪৯।
  3. Planet Of No Apes? Experts Warn It's Close ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে CBS News Online, 12 September 2007. Retrieved 22 March 2008.
  4. Savage, T.S.; Wyman, J. (১৮৪৭)। "Notice of the external characters and habits of Troglodytes gorilla, a new species of orang from the gaboon river; osteology of the same,"Boston journal of natural history. (4): ৪১৭–৪৪৩Read Aug. 18, 1847.{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পোস্টস্ক্রিপ্ট (লিঙ্ক)
  5. "Animal Info – Gorilla"। AnimalInfo.org। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৭
  6. Wood, B. A. (১৯৭৮)। "Relationship between body size and long bone lengths in Pan and Gorilla"। American Journal of Physical Anthropology৫০ (1): ২৩–৫। ডিওআই:10.1002/ajpa.1330500104পিএমআইডি 736111
  7. Leigh, S. R.; Shea, B. T. (১৯৯৫)। "Ontogeny and the evolution of adult body size dimorphism in apes"। American Journal of Primatology৩৬: ৩৭। ডিওআই:10.1002/ajp.1350360104
  8. Gorilla Biology: A Multidisciplinary Perspective
  9. Breuer, T.; Ndoundou-Hockemba, M.; Fishlock, V. (২০০৫)। "First Observation of Tool Use in Wild Gorillas"PLoS Biology (11): e৩৮০। ডিওআই:10.1371/journal.pbio.0030380পিএমসি 1236726পিএমআইডি 16187795{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পতাকাভুক্ত নয় এমন বিনামূল্যে ডিওআই (লিঙ্ক)