পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ব্যবস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পশ্চিমবঙ্গে ভূতল সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্য ৯২,০২৩ কিলোমিটার (৫৭,১৮০ মাইল)।[১] এর মধ্যে জাতীয় সড়ক ২,৩৭৭ কিলোমিটার (১,৪৭৭ মাইল),[২] এবং রাজ্য সড়ক ২,৩৯৩ কিলোমিটার (১,৪৮৭ মাইল)। রাজ্যে সড়কপথের ঘনত্ব প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ১০৩.৬৯ কিলোমিটার (প্রতি ১০০ বর্গমাইলে ১৬৬.৯২ মাইল); যা জাতীয় ঘনত্ব প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৭৪.৭ কিলোমিটারের (প্রতি ১০০ বর্গমাইলে ১২০ মাইল) থেকে বেশি।[৩] রাজ্যের সড়কপথে যানবাহনের গড় গতিবেগ ৪০-৫০ কিলোমিটার/ঘণ্টার (২৫-৩১ মাইল/ঘণ্টা) মধ্যে থাকে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে গতিবেগ ২০-২৫ কিলোমিটার/ঘণ্টার (১২-১৬ মাইল/ঘণ্টা) মধ্যে থাকে। এই মূল কারণ রাস্তার নিম্নমান ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। রাজ্যে রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৩,৮২৫ কিলোমিটার (২,৩৭৭ মাইল)।[৪] ভারতীয় রেলের পূর্ব রেলদক্ষিণ পূর্ব রেল ক্ষেত্রদুটির সদর কলকাতায় অবস্থিত।[৫] রাজ্যের উত্তরভাগের রেলপথ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের অন্তর্গত। কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রো রেল পরিষেবা।[৬] উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের অংশ দার্জিলিং হিমালয়ান রেল একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত।[৭]

সড়ক পরিবহন[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পথের মোট দৈর্ঘ্য ৯২,০২৩ কিমি।এর মধ্যে জাতীয় সড়ক হল ২,৫৭৮ কিমি ও রাজ্য সড়ক ২,৩৯৩ কিমি।বাকি ৮৭,০৫২ কিমি হল জেলা সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক।জাতীয় ও রাজ্য সড়ক দ্বারা রাজ্যের বন্দরের সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রগুলি ও শহর ভালোভাবে যুক্ত।

সড়কের ধরন দৈর্ঘ্য (কিমি)
জাতীয় সড়ক ২,৫৭৮
রাজ্য সড়ক ২,৩৯৩
এক্সপ্রেসওয়ে ১২১
জেলা সড়ক ,গ্রামীণ সড়ক ৮৭,০৫২
মোট ৯২,০২৩

এই রাজ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য রয়েছে এক্সপ্রেসওয়ে।পশ্চিমবঙ্গের প্রধান এক্সপ্রেসওয়ে গুলি হল দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে,কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও দুর্গাপুর শহরকে যুক্ত করেছে ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে

এই রাজ্য দিয়ে জাতীয় সড়ক ২ কলকাতা থেক দিল্লি পর্যন্ত গেছে।৬ নং জাতীয় সড়ক কলকাতা [[থেকে খড়গপুর হয়ে সুরাটমুম্বাই পর্যন্ত গেছে।৩৪ নং জাতীয় সড়ক দক্ষিণবঙ্গ-এর সঙ্গে উত্তর বঙ্গকে যুক্ত করেছে ।বর্তমানে ৩৪ নং জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের এবং এই জাতীয় সড়ক চার লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।৩৫ নং জাতীয় সড়ক কলকাতা সঙ্গে হাবরা , চাঁদপাড়া হয়ে সীমান্ত শহর বনগাঁ এর পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।এই জাতীয় সড়ক দ্বারা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। অন্যান্য জাতীয় সড়কগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - ৩১ নং, ৪১ নং, ৫৫ নং ৬০ নং, ৮০ নং ৩১এ , ৩১ ডি , ১৭৭ নং, ১১৬ নং প্রভৃতি।এর মধ্যে ৪১ নং জাতীয় সড়ক হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে মেচেদায় ৬ নং জাতীয় সড়কে যুক্ত করেছে ২ , ৬, ও ৬০ নং জাতীয় সড়ক স্বর্ণ চতুর্ভুজ সড়ক প্রকল্পের অংশ। এছাড়া ৩১ নং জাতীয় সড়কটি উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম করিডর এর অংশ।

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৫ টির বেশি রাজ্য সড়ক রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ সরকার উত্তর বঙ্গের সঙ্গে হলদিয়া বন্দরের দ্রুত যোগাযোগের জন্য নির্মাণ করছে উত্তর-দক্ষিণ সড়ক করিডর

বাস পরিষেবা[সম্পাদনা]

বাস, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষের জন্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক অতি অনিবার্য মাধ্যম। পরিবহনের এই মাধ্যমটি রেল বা কোনও নির্দিষ্ট ট্র্যাকের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, এটি এমনকি রাজ্যের যে কোনও দূরবর্তী স্থানেও উপলব্ধ রয়েছে। বাসগুলি শহর ও গ্রাম উভয় স্থানেই চলাচল করে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের এমনও কিছু প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে যেখানে সারাদিনে কেবলমাত্র একটিমাত্র বাস দ্বারা পরিষেবা প্রদান করা হয়। রাজ্য-চালিত এবং বেসরকারি বাসগুলি লাখ-লাখ মানুষকে দৈনন্দিন পরিষেবা প্রদান করে চলেছে। যদিও বেশীরভাগ বাসই বেসরকারি মালিকানাধীনে চলে। পাবলিক বাসগুলি যদিও বৃহত্তর জায়গার সঙ্গে আরোও বেশি আরামপ্রদ, তবে বেসরকারি বাসগুলির তুলনায় খুবই বেশি সময়ের অন্তরে চলে। সেগুলি বিভিন্ন ভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা আছে; যেমন - লিমিটেড স্টপ্ বাস (সীমিত জায়গায় দাঁড়ানো বাস), মর্নিং-সানডাউন্ বাস (সকাল - সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলমান বাস), স্পেশ্যালস, এক্সপ্রেস সার্ভিসেস ইত্যাদি। বেসরকারিভাবে চালিত বাসগুলির মধ্যেও আবার বিভিন্ন ধরন রয়েছে; যেমন - মিনিবাস এবং চাটার্ড ও ছোট বাসও হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের বাসগুলির ভাড়ায় খুবই সাশ্রয়ী মূল্যের খরচ হয়। মাঝখানে অনেক স্টপেজ সহ এগুলিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি খুবই সুবিধাজনক উপায়।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত বাসগুলিতেই প্রতিবন্ধী, মহিলা ও বরিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য কিছু বসার আসন সংরক্ষিত করা থাকে। স্থানীয় বাসগুলির টিকিট সেই বাসেই ওঠা পরিবাহীর কাছ থেকে উপলব্ধ হয়। দীর্ঘ দূরত্বের যাওয়ার বাস টিকিট, প্রধান প্রধান বাস স্ট্যান্ডগুলিতে পাওয়া যায় এবং কখনও কখনও বাস ছাড়ার সময়ও উপলব্ধ হয়। বেশি দূরত্বের বাসগুলিতে বিনোদন ও বিলাসিতাসহ শীততাপ ব্যবস্থা উপলব্ধ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ খুবই বিস্তীর্ণ সড়ক সংযোগ দ্বারা সু-সংযুক্ত রয়েছে। জাতীয় সড়ক, আন্তঃ-রাজ্য সড়ক এবং অভ্যন্তরীণ-রাজ্য সড়ক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে পরিষেবা প্রদান করে। কলকাতা থেকে রামপুরহাট, দীঘা, বহরমপুর, শিলিগুড়ি, নামখানা, ডায়মন্ড হারবার এবং আরোও অন্যান্য রুটে দৈনন্দিন ভিত্তিতে দীর্ঘ দূরত্বের বাস পরিষেবা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিবেশী রাজ্য যেমন বিহার, ঝাড়খন্ড এবং ওড়িশার বাসও উপলব্ধ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বাসগুলি আন্তর্জাতিকভাবে যাতায়াত করে। রাজধানী শহর কলকাতা থেকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ এবং ভূটানের নিয়মিতরূপে বাস উপলব্ধ রয়েছে।বর্তমানে কলকাতা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা পর্যন্ত বাস পরিষেবা চালু হয়েছে বাংলাদেশ এর মধ্য দিয়ে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

রেল পরিবহন[সম্পাদনা]

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

পশ্চিমবঙ্গে ৪,৪৮১ কিলোমিটার রেল পথ রয়েছে।এই রাজ্যে রেল পথ পূর্ব রেল , দক্ষিণ পূর্ব রেল ,কলকাতা মেট্রোউত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল এর অংশ।পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন হল হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনশিয়ালদহ স্টেশন। এছাড়া এই রাজ্যের অন্য গুরুত্ব পূর্ন স্টেশন গুলি হল কলকাতা রেলওয়ে স্টেশন, শালিমার রেলওয়ে স্টেশন[, নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন, আসানসোল রেলওয়ে স্টেশন, খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনদুরর্গাপুর রেলওয়ে স্টেশন।দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় রেলওয়ে স্টেশন হল হাওড়া জংশন।এই স্টেশনে মোট ২৩ টি প্লাটফর্ম ও ২৮ টি রেল ট্রাক রয়েছে।এই স্টেশন থেকে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রেন চলাচল করে।শিয়ালদাহ হল পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত এর ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন।এই স্টেশন সবেয়ে বেশি শহরতলির যাত্রী পরিবহন করে।এই স্টেশনে মোট ১৮ টি প্লাটফর্ম রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রেল পথ বা রেল রুট গুলি হল- হাওড়া-দিল্লি লাইন, হাওড়া-চেন্নাই মেন লাইন, হাওড়া-নাগপুর-মুম্বাই লাইন, ও হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি লাইন।পশ্চিঙ্গের রাজধানী কলকাতায় রয়েছে একটি শহরতলি রেল ব্যবস্থা ।এটি কলকাতা শহরতলি রেল] হিসাবে পরিচিত।এই রেল ব্যবস্থা মোট ১৮০০ কিলোমিটারের বেশি রেল পথ নিয়ে গঠিত।কলকাতায় রয়েছে ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল ব্যবস্থা।বর্তমানে শিলিগুড়ি শহরে মেট্রো রেল নির্মাণের দাবি উঠেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মেট্রো রেল[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গ মেট্রো রেল বা পাতাল রেল হল ভূ-গর্ভস্থ রেল সংযোগ এবং কলকাতার ব্যস্তবহূল শহরের কাছাকাছি প্রাপ্য সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়। কলকাতা মেট্রো রেল ১৯৮৪ সাল থেকে চলে আসছে এবং এটি সমগ্র ভারতের সর্বপ্রথম ভূ-গর্ভস্থ মেট্রো রেল ছিল। এটি তার দক্ষ কার্যকারীতা, পরিচ্ছন্নতা, আরামপ্রদ স্বাচ্ছন্দ্যতা ও স্বল্প-সময় মানের জন্য সারা বিশ্বের কাছে উচ্চ সম্ভ্রমতার সাথে সাদরে গৃহীত। কলকাতায় মেট্রো রেল মোট ১৬.৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সহ বর্তমানে দমদম থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়েছে। এটি ১৭-টি স্টেশন্ জুড়ে যাতায়াত করে; যেমন-বেলগাছিয়া, শ্যামবাজার, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, মহাত্মা গান্ধি রোড, সেন্ট্র্যাল, চাঁদনী চৌক, এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রীট, ময়দান, রবীন্দ্র সদন, ভবানীপুর, যতীন দাস পার্ক, কালীঘাট এবং রবীন্দ্র সরোবর।

টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া শেষপ্রান্ত পর্যন্ত কলকাতা মেট্রো রেলের প্রসারিত রুটটি অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে; এর মধ্যে যে সমস্ত স্টেশনগুলি রয়েছে, সেগুলি হল কূদঘাট, নিউ গড়িয়া, গড়িয়া বাজার, বাঁশদ্রোণী, প্রণবনগর এবং নাকতলা। এটি কলকাতার প্রায় সমস্ত প্রধান জনবহুল শহরগুলিকে আবৃত করায় এটি অত্যন্ত উপকারী হয়ে উঠবে। এই ব্যস্ত এলাকাটি আবৃত করতে একটি মসৃণ যাত্রার মাধ্যমে মাত্র ৩৩ মিনিট সময় লাগে, ব্যস্ত সময়ে যাতায়াতের অন্য মাধ্যমে এই দূরত্ব গেলে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিটি মেট্রো রেল প্রায় ২৫৫৮ জন যাত্রী বহন করে এবং দিনের সময়ের উপর নির্ভর করে প্রতি ৫-১৫ মিনিট অন্তর এই পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে। কলকাতা মেট্রো রেল উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা সুসজ্জিত রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাই প্রধান লক্ষণীয় বিষয়। মেট্রো স্টেশন ও মেট্রো রেলগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং উপযুক্ত বায়ু চলাচলের জন্য ভিতরে শীতল বায়ু প্রেরণ করা হয়। প্রতিটি মেট্রো স্টেশন থেকে দৈনিক টিকিট ও একাধিক বার চড়ার টিকিট উপলব্ধ হয়। কিছু কিছু স্টেশন এস্ক্যালেটার (চলন্ত সিঁড়ি) দিয়েও সুসজ্জিত করা রয়েছে।

বর্তমানে মেট্রো ব্যবস্থাটি উত্তরে নোয়াপাড়া ও দক্ষিণে গড়িয়া নর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।বর্তমানে এটি মোট ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ।এখন আরও ৫ টি মেট্রো রুটের নির্মাণ চলছে।নির্মাণ শেষ হলে মেট্রো ব্যাবস্থাটি ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ট্রাম[সম্পাদনা]

কলকাতা ট্রাম সম্পূর্ণরূপে “কলকাতার অতি নিজস্ব ঐতিহ্য” - রূপে আখ্যায়িত করা হয়। কলকাতার শশব্যস্ততাবহূল শহরে, যান্ত্রিক পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে এই ট্রাম তার চরিত্রগত সু্স্থির গতির মাধ্যমে দূষণমুক্ত, পরিবেশ-বান্ধবরূপে কলকাতায় সস্তায় পরিষেবা প্রদান করে। কলকাতাই ভারতের এমন একমাত্র শহর এবং বিশ্বেরও সেই কয়েকটি শহরের মধ্যে একটি যেখানে এখনও ট্রামের প্রচলন রয়েছে। কলকাতা ট্রাম সেই ১৮৭৩ সাল থেকে চলে আসছে এবং এই শহর ট্রামের সঙ্গে তাদের সেই বিশ্বের প্রাচীন চারুতাকে আজও উপভোগ করে চলেছে। একটি ব্যস্ততাহীন চলন্ত ট্রামের জানলা থেকে দেখলে এই শহরকে অবশ্যই আরোও আবেগপ্রবণ দেখায়। কলকাতায় ট্রাম শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে এবং কার্যত এটি কলকাতার প্রায় সমস্ত কোণে আবৃত রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

  • রুট নং - ১ বেলগাছিয়া - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং - ২ বেলগাছিয়া - বিবাদী বাগ
  • রুট নং - ৩ বেলগাছিয়া - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৪ বেলগাছিয়া - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ৫ শ্যামবাজার - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৬ শ্যামবাজার - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ৭ বাগবাজার - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং - ৮ বাগবাজার - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ৯ শ্যামবাজার - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ১০ শ্যামবাজার - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ১১ বেলগাছিয়া - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ১২ গালিফ স্ট্রীট - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ১৩ গালিফ স্ট্রীট - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ১৪ রাজাবাজার - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ১৫ হাই কোর্ট - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ১৫/১২ রাজাবাজার - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ১৬ বিধাননগর - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ১৭ বিধাননগর - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ১৮ পার্ক সার্কাস - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ২০ পার্ক সার্কাস - হাওড়া স্টেশন্
  • রুট নং – ২২ পার্ক সার্কাস - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ২৪ বালিগঞ্জ স্টেশন - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ২৪/২৯ বালিগঞ্জ - টালিগঞ্জ
  • রুট নং – ২৫ বালিগঞ্জ স্টেশন - বিবাদী বাগ
  • রুট নং – ২৬ বালিগঞ্জ স্টেশন - হাওড়া স্টেশন
  • রুট নং – ২৭ বালিগঞ্জ স্টেশন - বেহালা
  • রুট নং – ২৮ টালিগঞ্জ - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ২৯ টালিগঞ্জ - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৩০ কালিঘাট - হাওড়া স্টেশন
  • রুট নং – ৩১ কালিঘাট - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৩২ টালিগঞ্জ - হাওড়া স্টেশন
  • রুট নং – ৩৫ বেহালা - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৩৬ ক্ষিদিরপুর - এসপ্ল্যানেড
  • রুট নং – ৩৫/৩৬ বেহালা - ক্ষিদিরপুর
  • রুট নং – ৩৭ জোকা - বিবাদী বাগ

বিমান পরিবহন[সম্পাদনা]

কলকাতা বিমান বন্দরের নতুন টার্মিনাল বা প্রান্তিক।

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কলকাতার নিকটেই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার দমদমে অবস্থিত। শিলিগুড়ির নিকটবর্তী বাগডোগরা বিমানবন্দর রাজ্যের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর; সাম্প্রতিককালে এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।উত্তর-পশ্চিমবঙ্গের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হল কোচবিহার বিমানবন্দর। এটি বৃহত্তর অসম-বাংলা সীমান্ত এলাকায় পরিষেবা দেয়।[৮] পশ্চিমবঙ্গে ভারতে-এর মধ্যে প্রথম বেসরকারি উদোগে গড়ে উঠেছে একটি গ্রীন ফিল্ড বিমানবন্দর।এই বিমান বন্দরটি অন্ডাল এ অবস্থিত। অন্ডালের এই বিমান বন্দরটি কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা দুর্গাপুর বিমানবন্দর হিসাবে পরিচিত। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার মালদা শহরে মালদা বিমানবন্দরদক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বালুরঘাট বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ করছে।বালুরঘাট বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

এই রাজ্যের কিছু শহরে হেলিপ্যাড বা হেলিকপ্টারবন্দর রয়েছে।এই গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -দীঘা হেলিপ্যাড, সাগর দ্বীপ হেলিপ্যাড।

বন্দর ও জলপথ পরিবহন[সম্পাদনা]

কলকাতা বন্দর পূর্ব ভারতের একটি প্রধান নদীবন্দর। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কলকাতা ও হলদিয়া ডকের দায়িত্বপ্রাপ্ত।[৯] কলকাতা বন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন পরিষেবা ও ভারত ও বহির্ভারতের বন্দরগুলিতে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালু আছে। রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষত সুন্দরবন অঞ্চলে, নৌকা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।

হুগলি নদীতে ফারাক্কা বন্দর মুখি কয়লা বোঝাই বার্জ।জাতীয় জলপথ ১

পশ্চিমবঙ্গহলদিয়া থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত বার্জ বা ছোট জাহাজ চলাচল করে।এই জাহাজ গুলি জলপথে কয়লা পরিবহন করে ফারাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

কলকাতা ভারতের একমাত্র শহর যেখানে আজও ট্রাম গণপরিবহনের অন্যতম মাধ্যম। এই পরিষেবার দায়িত্বে রয়েছে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি[১০]

পশ্চিমবঙ্গের বাস পরিষেবা অপর্যাপ্ত। কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহন নিগম ও ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি এই পরিষেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত। এছাড়া বেসরকারি কোম্পানিগুলিও বাস চালিয়ে থাকে। শহরের বিশেষ বিশেষ রুটে মিটার ট্যাক্সি ও অটোরিকশা চলে। কম দুরত্বের যাত্রার জন্য রাজ্যের সর্বত্র সাইকেল রিকশা ও কলকাতাতে সাইকেল রিকশা ও হাতে-টানা রিকশা ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "West Bengal: Infrastructure"Public Private Partnerships in India। Dept of Economic Affairs, Ministry of Finance, Government of India। ২০০৭-০৯-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১০-২৭ 
  2. "List of State-wise National Hoghways in the Country"National Highways। Department of Road Transport and Highways; Ministry of Shipping, Road Transport and Highways; Government of India। ২০০৭-০১-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১০-২৭ 
  3. Chattopadhyay, Suhrid Sankar (২০০৬)। "Remarkable Growth"Frontline। Chennai, India: The Hindu। 23 (02)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-৩১  অজানা প্যারামিটার |month= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  4. "West Bengal"Indian States-A Profile। Indian Investment Centre, Government of India। ২০০৭-০৭-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-০১ 
  5. "Geography : Railway Zones"IRFCA.org। Indian Railways Fan Club। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-৩১ 
  6. "About Kolkata Metro"Kolkata Metro। ২০০৭-০৮-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৯-০১ 
  7. "Mountain Railways of India"। UNESCO World Heritage Centre। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৪-৩০ 
  8. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  9. "Salient Physical Features"Kolkata Port Trust। Kolkata Port Trust, India। ২০০৭-০৩-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৬-০৯ 
  10. "Intra-city train travel"reaching India। Times Internet Limited। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৮-৩১