পল পার্কার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পল পার্কার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপল উইলিয়াম জাইলস পার্কার
জন্ম (1956-01-15) ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৬ (বয়স ৬৫)
বুলাওয়ে, দক্ষিণ রোডেশিয়া
ডাকনামপর্কি, পলি
উচ্চতা৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কজ্যামি পার্কার (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৪৯২)
২৭ আগস্ট ১৯৮১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৬ - ১৯৭৮কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৭৬ - ১৯৯১সাসেক্স
১৯৭৬ - ১৯৯০মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)
১৯৮০ - ১৯৮১নাটাল
১৯৯২ - ১৯৯৩ডারহাম
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৭১ ৩৪১
রানের সংখ্যা ১৩ ১৯৪১৯ ৮৬০৬
ব্যাটিং গড় ৬.৫০ ৩৫.০৫ ৩০.৫১
১০০/৫০ –/– ৪৭/৮৯ ৬/৫৮
সর্বোচ্চ রান ১৩ ২১৫ ১২১*
বল করেছে ১১১১ ৫৯
উইকেট ১১
বোলিং গড় ৬৯.৯০ ১২.২০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/২১ ২/৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ২৫৭/– ১২৯/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ অক্টোবর ২০২০

পল উইলিয়াম জাইলস পার্কার (ইংরেজি: Paul Parker; জন্ম: ১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৬) বুলাওয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী জিম্বাবুয়ীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকের শুরুরদিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, নাটাল, সাসেক্স ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ‘পর্কি’ ডাকনামে পরিচিত পল পার্কার। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

হোরশ্যামের কলিয়ার্স স্কুলে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজের সেন্ট ক্যাথরিন্স কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে থেকেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভের পর তিনবার ব্লুধারী হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, ডারহাম ও সাসেক্স দলে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সাসেক্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ৩৭১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলাসহ ৩৪১টি লিস্ট এ খেলায় অংশ নেন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিষেক পর্বটি বেশ নাটকীয় পর্যায়ের ছিল। ০, ১৬, ৮, ৮ ও ২ রান তোলার পর এসেক্সের বিপক্ষে ২১৫ রানের বিশাল ইনিংস খেলেন। এরপর আবারও জোড়া শূন্য রান, ৪০ ও ১৪৮ রান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনবার ব্লুধারী হন। রাগবি খেলায় ব্লু লাভের সম্ভাবনা আঘাতের কারণে হয়ে উঠেনি। সাসেক্স দলে অধিনায়কত্ব করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন।

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পল পার্কারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৮০-এর দশকে বেশ কয়েকজন এক টেস্টের বিস্ময়কারীদের অন্যতম ছিলেন পল পার্কার। তিনি অনেকটা দূর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। বিনোদনধর্মী ও সঠিকমানের মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলতে পারতেন ও উইকেটে দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহে মনোযোগী হতেন। কভার অঞ্চলে তার ফিল্ডিংয়ের মান ছিল দূর্দান্ত ও অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাই তাকে কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে ভাবতে থাকেন।

হাল্কা-পাতলা গড়নের অধিকারী পল পার্কার দ্রুততার সাথে পায়ের কাজ করতে পারতেন। সচরাচর স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলতেন। খুব দ্রুত উইকেটে দৌঁড়ুতে পারতেন। ফলে, নিজেকে একদিনের খেলার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলেন। কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় ডেরেক র‍্যান্ডলডেভিড গাওয়ারের কাতারে নিয়ে যেতেন।

সাসেক্স দলে চার বছর অধিনায়কত্ব করেন। এরপর, প্রথম-শ্রেণীর খেলায় আচমকা জেগে উঠা ডারহাম দলে যোগদান করেন।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন পল পার্কার। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে ওভালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

ধ্রুপদী শৈলীর মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন পল পার্কার।[১] তবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ ওভালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।[২] ১৯৮১ সালে ইংল্যান্ড দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অ্যাশেজ সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে ও ১৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

পরবর্তী শীতকালে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে তাকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা গমনার্থে দলে রাখা হয়নি। এরপর আর তাকে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিতে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

পেশাগত জীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর টনব্রিজে ক্লাসিকসের শিক্ষক হন। ক্রীড়া সাংবাদিকের সন্তান ছিলেন পল পার্কার। বর্তমানে তিনি কেন্টের টনব্রিজ স্কুলে ক্লাসিকস ও মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস বিষয়ে শিক্ষাদান করছেন। হিল সাইডে প্রধানশিক্ষক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। তার সন্তান জ্যামি পার্কার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 132আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Cricinfo.com

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
ইয়ান গোল্ড
সাসেক্স ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৮ - ১৯৯১
উত্তরসূরী
অ্যালেন ওয়েলস