পর্বতশ্রেণী

পর্বতশ্রেণী বা গিরিশ্রেণী হলো একটি রেখায় বিন্যস্ত ও একে অপরের সাথে উচ্চভূমি দ্বারা সংযুক্ত কতকগুলি পর্বত বা পাহাড়ের একটি ধারা বা শ্রেণী। পর্বত ব্যবস্থা বা পর্বত বলয় হল এমন কিছু পর্বতশ্রেণীর সমষ্টি যাদের আকৃতি, গঠন এবং সারিবদ্ধতার মিল রয়েছে এবং যেগুলি একই কারণে, সাধারণত একটি গিরিজনি প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[১] পর্বতশ্রেণীগুলি বিভিন্ন ধরনের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়, তবে পৃথিবীর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশ্রেণী ভুত্বকীয় পাতগঠন প্রক্রিয়ার ফলাফল।[২] সৌরজগতের অনেক গ্রহীয় ভরবিশিষ্ট নভোবস্তুতেও পর্বতশ্রেণী পাওয়া যায়। এগুলি সম্ভবত বেশিরভাগ শিলাময় গ্রহের একটি বৈশিষ্ট্য।
পর্বতশ্রেণীগুলি সাধারণত উচ্চভূমি, গিরিপথ ও উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত থাকে। একই পর্বতশ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত পৃথক পৃথক পর্বতের ভূতাত্ত্বিক বা শিলাগত গঠন একই রকম হতে হওয়া আবশ্যক নয়। এগুলি বিভিন্ন ধরনের গিরিজনিক অভিব্যক্তি এবং স্বতন্ত্র ভূত্বক-খণ্ডের মিশ্রণ হতে পারে, উদাহরণস্বরূপ প্রতিলোম পাত, উত্থিত স্তূপ, ভঙ্গিল পর্বত এবং আগ্নেয়গিরির ভূমিরূপ যার ফলে বিভিন্ন ধরনের শিলা তৈরি হয়।
প্রধান পর্বতশ্রেণী
[সম্পাদনা]পৃথিবীর স্থলভাগের বেশিরভাগ নবীন পর্বতশ্রেণী প্রশান্ত অগ্নিবলয় বা অ্যালপাইড বলয়ের সাথে সম্পর্কিত। প্রশান্ত অগ্নিবলয় দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকান কর্দিইয়েরা, আলেউশীয় পর্বতমালা, কামচাতকা উপদ্বীপ, জাপান, চীন, ফিলিপাইন, পাপুয়া নিউগিনি হয়ে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।[৩] আন্দিজ পর্বতমালা ৭,০০০ কিলোমিটার (৪,৩৫০ মাইল) দীর্ঘ আর এটা পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত ব্যবস্থা বলে বিবেচিত।[৪]
বহির্জাগতিক পর্বতশ্রেণী
[সম্পাদনা]
সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ ও উপগ্রহের পর্বতগুলো প্রায়ই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে, আর এগুলো মূলত সংঘাতের মতো ঘটনার ফলে সৃষ্ট। তবে পৃথিবীর ন্যায় সেখানেও পর্বতশ্রেণীর উদাহরণ রয়েছে। বিশেষ করে শনির উপগ্রহ টাইটান[৫] এবং বামন গ্রহ প্লুটোতে[৬] শৃঙ্খলের ন্যায় বৃহৎ পর্বতশ্রেণী রয়েছে, আর সেগুলো প্রায়ই শিলার পরিবর্তে তুষার দ্বারা গঠিত, যেমন প্লুটোর তেনজিং মন্টেস ও হিলারি মন্টেস। পৃথিবী ব্যতীত অন্যান্য শিলাময় গ্রহতে শিলা দ্বারা গঠিত পর্বতশ্রেণী পাওয়া যায়, যেমন শুক্র গ্রহের ম্যাক্সওয়েল মন্টেস[৭] ও মঙ্গল গ্রহের টারটারাস মন্টেস।[৮]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Definition of mountain system"। Mindat.org। Hudson Institute of Mineralogy। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Hammond, Allen L. (৯ জুলাই ১৯৭১)। "Plate Tectonics (II): Mountain Building and Continental Geology" (ইংরেজি ভাষায়): ১৩৩–১৩৪। ডিওআই:10.1126/science.173.3992.133। আইএসএসএন 0036-8075।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Rosenberg, Matt (২২ ডিসেম্বর ২০১৮)। "Ring of Fire"। ThoughtCo.।
- ↑ Thorpe, Edgar (২০১২)। The Pearson General Knowledge Manual। Pearson Education India। পৃ. A-৩৬।
- ↑ Mitri, Giuseppe; Bland, Michael T.; Showman, Adam P.; Radebaugh, Jani; Stiles, Bryan; Lopes, Rosaly M. C.; Lunine, Jonathan I.; Pappalardo, Robert T. (২০১০)। "Mountains on Titan: Modeling and observations"। Journal of Geophysical Research। ১১৫ (E10): E১০০০২। বিবকোড:2010JGRE..11510002M। ডিওআই:10.1029/2010JE003592। আইএসএসএন 0148-0227। এস২সিআইডি 12655950।
- ↑ Gipson, Lillian (২৪ জুলাই ২০১৫)। "New Horizons Discovers Flowing Ices on Pluto"। NASA। ১৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৫।
- ↑ Keep, Myra; Hansen, Vicki L. (১৯৯৪)। "Structural history of Maxwell Montes, Venus: Implications for Venusian mountain belt formation"। Journal of Geophysical Research। ৯৯ (E12): ২৬০১৫। বিবকোড:1994JGR....9926015K। ডিওআই:10.1029/94JE02636। আইএসএসএন 0148-0227। এস২সিআইডি 53311663।
- ↑ Plescia, J.B. (২০০৩)। "Cerberus Fossae, Elysium, Mars: a source for lava and water"। Icarus। ১৬৪ (1): ৭৯–৯৫। বিবকোড:2003Icar..164...79P। ডিওআই:10.1016/S0019-1035(03)00139-8। আইএসএসএন 0019-1035।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]