বিষয়বস্তুতে চলুন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সৌদি আরব)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সৌদি আরব)
وزارة الخارجية السعودية
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর

ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, ২০১৯ সাল থেকে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সংস্থার রূপরেখা
গঠিত১৯৩০; ৯৪ বছর আগে (1930)
পূর্ববর্তী সংস্থা
  • পররাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক
যার এখতিয়ারভুক্তসৌদি আরব সরকার
সদর দপ্তরনাসেরিয়া স্ট্রিট, রিয়াদ
সংস্থা নির্বাহী
অধিভূক্ত সংস্থা
  • প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোম্যাটিক স্টাডিজ
ওয়েবসাইটদাপ্তরিক ওয়েবসাইট

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (আরবি: وزارة الخارجية) হলো সৌদি আরবের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি দায়বদ্ধ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি সৌদি আরবের "রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক" তদারকি করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করে।[১] মন্ত্রণালয়টি ১৯৩০ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ কর্তৃক একটি রাজকীয় আদেশ জারি করার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিলো। মন্ত্রণালয়টি বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ দ্বারা নির্মিত প্রথম মন্ত্রী সংস্থা।[২]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

নবগঠিত নজদ ও হেজাজ রাজ্যকে সুসংহত করার সময় বাদশাহ আবদুল আজিজ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ এবং প্রতিনিধি গ্রহণ করে বৈদেশিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। ১৯২৬ সালে তিনি মক্কায় পররাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক প্রতিষ্ঠা করেন।[২] জেদ্দায় অধিদপ্তরে একটি শাখাও খোলা হয়েছিলো।[৩] পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন আব্দুল্লাহ আল দামলুজি, তিনি সেই সময়ে হেজাজের শাসকও ছিলেন।[৪]

১৯৩০ সালে মহাপরিচালককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উন্নীত করার জন্য একটি রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।[৫] বাদশাহ আব্দুল আজিজ তার ছেলে যুবরাজ ফয়সালকে প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।[৬] ১৯৩২ সালে বাদশাহ আব্দুল আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রাথমিকভাবে মন্ত্রণালয়টি পাঁচটি বিভাগ নিয়ে গঠিত ছিলো। যেগুলো হলো–বেসরকারী অফিস এবং প্রাচ্য বিষয়ক, প্রশাসনিক বিষয়াদি, রাজনৈতিক বিষয় এবং কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ।[২] মন্ত্রণালয় বিদেশে কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা শুরু করে। প্রথমটি ১৯২৬ সালে কায়রোতে এবং ১৯৩০ সালে লন্ডনে আরেকটি খোলা হয়েছিলো।[২] মিশনের সংখ্যা ১৯৩৬ সালে পাঁচটি থেকে বেড়ে ১৯৫১ সালে ১৮ টি হয় এবং এর পরে আরও প্রসারিত হয়।

সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়াও, যুবরাজ ফয়সাল বাদশাহ হিসাবে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পরেও দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছিলেন। ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়ার পর ফয়সাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তার পুত্র যুবরাজ সৌদ বিন ফয়সাল আল সৌদ[৬] তিনি বর্তমান রাজনৈতিক সময়ে যে কোনও দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন,[৭] এ মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালে দ্য ডিপ্লোম্যাট নামে একটি পত্রিকা চালু করেছিলো।[৮]

২০১০ সালে গুজব ছড়িয়েছিলো যে, সৌদ অবসরে যাওয়ার পরে পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন সৌদের ছোট ভাই যুবরাজ তুর্কি আল-ফয়সাল, যা অবশ্য ঘটেনি।[৯]

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

[সম্পাদনা]

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হলেন:

সরকারি কর্মকর্তা পদমর্যাদা
ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী
ওয়ালিদ এ. আল-খারিজি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী
সারাহ আল সাইদ জনকূটনীতি অনুবিভাগ উপমন্ত্রী
আদেল আল-জুবায়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মন্ত্রীদের তালিকা

[সম্পাদনা]

পররাষ্ট্রমন্ত্রী

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠার পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তালিকা নিম্নরূপ:[৬]

ক্রম চিত্র নাম দায়িত্ব নিয়েছেন অবসর নিয়েছেন বাদশাহ
ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ ১৯ ডিসেম্বর ১৯৩০ ২২ ডিসেম্বর ১৯৬০ আবদুল আজিজ (১৯৩২–১৯৫৩)

সৌদ (১৯৫৩–১৯৬৪)

ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল সুওয়াইয়েল ২২ ডিসেম্বর ১৯৬০ ১৬ মার্চ ১৯৬২ সৌদ (১৯৫৩–১৯৬৪)
ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ ১৬ মার্চ ১৯৬২ ২৫ মার্চ ১৯৭৫ সৌদ (১৯৫৩–১৯৬৪)

নিজে (১৯৬৪–১৯৭৫)

সৌদ বিন ফয়সাল আল সৌদ ১৩ অক্টোবর ১৯৭৫ ২৯ এপ্রিল ২০১৫ খালিদ (১৯৭৫–১৯৮২)

ফাহাদ (১৯৮২–২০০৫)
আবদুল্লাহ (২০০৫–২০১৫)
সালমান (২০১৫–২০১৫)

আদেল আল-জুবায়ের ২৯ এপ্রিল ২০১৫ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সালমান (২০১৫–বর্তমান)
ইব্রাহিম আব্দুল আজিজ আল-আসাফ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ২৩ অক্টোবর ২০১৯ সালমান (২০১৫–বর্তমান)
ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ২৩ অক্টোবর ২০১৯ বর্তমান সালমান (২০১৫–বর্তমান)

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠার পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তালিকা নিম্নরূপ:[৪]

  1. ওমর আল সাক্কাফ (১৯৬৮– নভেম্বর ১৯৭৪)
  2. মোহাম্মদ ইব্রাহিম মাসুদ (নভেম্বর ১৯৭৪–মার্চ ১৯৭৫)[১০]
  3. সৌদ বিন ফয়সাল আল সৌদ (মার্চ ১৯৭৫–অক্টোবর ১৯৭৫)[১০]
  4. নিজার মাদানী (২০০৫–২০১৮)
  5. আদেল আল-জুবায়ের (২০১৮–বর্তমান)

মন্ত্রণালয়ের ভবনটি রিয়াদে অবস্থিত এবং হেনিং লারসেন ভবনটির নকশা করেছেন।[১১] এটি ইসলামী স্থাপত্যের স্থানীয় এবং স্মৃতিসৌধ উভয় শৈলীর মিশ্রণ করে।[১২] হেনিং লারসেন ১৯৮৯ সালে স্থাপত্যের জন্য আগা খান পুরস্কার পেয়েছিলেন।[১২][১৩]

১৯৮৪ সালে নির্মিত বিল্ডিংটিতে সভা, সম্মেলন এবং প্রার্থনা কক্ষ, একটি গ্রন্থাগার এবং একটি ভোজ কক্ষ রয়েছে।[১২] বাহ্যিকভাবে, ভবনটি একটি দুর্গ হিসাবে আবির্ভূত হয় যা পাথরের একক টুকরো থেকে খোদাই করা হয়েছিলো।[১৩]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "মন্ত্রণালয়ের ঠিকানা" (ইংরেজি ভাষায়)। সৌদি আরবের রাজকীয় দূতাবাস, ওয়াশিংটন, ডিসি। ২৬ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 
  2. মুহাম্মাদ জায়েদ আল কাহতানি (ডিসেম্বর ২০০৪)। বাদশাহ আব্দুল আজিজের পররাষ্ট্রনীতি (পিএইচডি) (গবেষণাপত্র) (ইংরেজি ভাষায়)। University of Leeds। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৩ 
  3. মনসুর আল-শারিদাহ (জুলাই ২০২০)। সীমানা ছাড়াই বণিক: আরব উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে কুসমান ব্যবসায়ীরা, গ. ১৮৫০-১৯৫০ (পিএইচডি) (গবেষণাপত্র) (ইংরেজি ভাষায়)। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়, ফায়েটভিল। পৃষ্ঠা ২২৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২১ 
  4. "মন্ত্রণালয় সম্পর্কে" (আরবি ভাষায়)। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সৌদি আরব)। ৫ মে ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 
  5. স্টিফেন হার্টগ (২০০৭)। "সৌদি রাষ্ট্র গঠন: ভাড়াটিয়া রাষ্ট্র গঠনে মানব সংস্থার স্থানান্তরিত ভূমিকা" (পিডিএফ)ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মিডল ইস্ট স্টাডিজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৯ (৪): ৫৩৯–৫৬৩। এসটুসিআইডি 145139112ডিওআই:10.1017/S0020743807071073। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১২ 
  6. "সংক্ষিপ্ত ইতিহাস" (আরবি ভাষায়)। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সৌদি আরব)। ৫ মে ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 
  7. মাইকেল স্ল্যাকম্যান (৯ ডিসেম্বর ২০০৯)। "একজন সৌদি কূটনীতিকের জন্য দুঃখের উত্তরাধিকার"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১১ 
  8. "কূটনীতিক"। আরব মিডিয়া কোম্পানি। ১৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১২ 
  9. সাইমন হেন্ডারসন (২২ অক্টোবর ২০১০)। "পররাষ্ট্রনীতি: এক যুবরাজের রহস্যজনক অন্তর্ধান" (ইংরেজি ভাষায়)। এনপিআর। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 
  10. "সৌদি আরবের নতুন বাদশাহ উপ-প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন"সারাসোটা হেরাল্ড-ট্রিবিউন। ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল। ৩০ মার্চ ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২২ 
  11. সামা আল মালিক (২০১৭)। রিয়াদ শহরের ভাবমূর্তি উন্নত করা। স্টোরফ্রন্ট এবং রাস্তার সাইনেজ পুনরায় ডিজাইনের মাধ্যমে (পিডিএফ) (গবেষণাপত্র)। বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২০ 
  12. "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়"আর্চনেট। ১৯ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 
  13. পল রিভাস। "রিয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক মূর্ত ইসলামী স্থাপত্য"দ্য সৌদি গেজেট। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১১ 

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]