পরম দিগন্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাধারণ আপেক্ষিকতা
Spacetime curvature.png
সাধারণ আলোচনা

সাধারণ আপেক্ষিকতা মতে, পরম দিগন্ত হল স্থান-কালের একটি সীমানা, যাকে সংজ্ঞায়িত করা হয় বাহ্যিক বিশ্বের সাপেক্ষে এবং যার ভেতরে ঘটা ঘটনা বাইরের পর্যবেক্ষকের উপর প্রভাব ফেলে না। দিগন্তের ভেতর থেকে নির্গত আলো কখনোই পর্যবেক্ষকের নিকট পৌছায় না এবং যেকোনো কিছু, যা পর্যবেক্ষকের দিক থেকে দিগন্তের দিকে অগ্রসর হয়ে দিগন্তকে অতিক্রম করে তাকে আর দেখা যায় না। সংজ্ঞামতে পরম দিগন্ত কৃষ্ণ বিবরের সীমানা।

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

পরম দিগন্তকে ব্যাখ্যা করা যায় কেবলমাত্র অসীম সমতল স্থান-কালের মাধ্যমে - এমন একটি স্থান-কাল যেখানে যেকোনো বৃহদায়তন বস্তুর থেকে দূরে যেতে থাকলে স্থানকে সমতল মনে হয়। অসীম সুমতল স্থান-কালের উদাহরণের মাঝে আছে, শ্‌ভার্ৎসশিল্ডকার কৃষ্ণ বিবর। এফএলআরডব্লিউ মহাবিশ্ব - যাকে আমাদের মহাবিশ্বের একটি গ্রহনযোগ্য মডেল হিসেবে ধরা হয়, তা সাধারণত অসীম সমতল নয়

অসীম সমতলের একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য হল, তা ভবিষ্যৎ অকার্যকর অসীমতার ধারণা দেয়। এরা হল সেই বিন্দু সমূহ যাদের কে সে সকল অকার্যকর রশ্মি (যেমন, আলো) দ্বারা অসীম মনে হয় যারা অসীমে হারিয়ে যেতে পারে। এটি বাহ্যিক বিশ্বের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা। এই বিন্দু সমূহকে কেবলমাত্র অসীম সমতল মহাবিশ্বেই সংজ্ঞায়িত করা যায়। পরম দিগন্ত হল কোন অঞ্চলের সীমানা যার বাইরে অকার্যকর রশ্মি ভবিষ্যৎ অকার্যকর অসীমে হারিয়ে যেতে পারে না।[১][২][৩]

পরম দিগন্তের প্রকৃতি[সম্পাদনা]

পরম দিগন্তের সংজ্ঞাকে অনেক ক্ষেত্রে বলা হয় পরমকারণমূলক, যার অর্থ মহাবিশ্বের সমগ্র বিবর্তন (এমনকি ভবিষ্যৎ পর্যন্ত) না জেনে এর অবস্থান জানা যায় না। এটি একইসাথে সুবিধা এবং অসুবিধাও। সুবিধা হল এই যে, এ দিগন্তের ধারণা অত্যন্ত জ্যামিতিক এবং পর্যবেক্ষকের উপর নির্ভরশীল নয়, যা আপাত দিগন্ত থেকে ব্যতিক্রম। অসুবিধা হল, এর জন্য স্থান-কালের সমগ্র ইতিহাস (এমনকি ভবিষ্যৎ) জানার প্রয়োজন হয়। সংখ্যাতাত্ত্বিক আপেক্ষিকতার ক্ষেত্রে, যেখানে স্থান-কাল কেবল ভবিষ্যতে বিবর্তিত হচ্ছে, সে স্থান-কালের একটি সসীম অংশই শুধুমাত্র জানা যায়।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Kip Thorne (১৯৯৪)। Black Holes and Time Warps। W. W. Norton। 

এটি একটি জনপ্রিয় বই যেখানে, সাধারণ পাঠকের জন্য দিগন্ত ও কৃষ্ণ বিবর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. S. W. Hawking and G. F. R. Ellis (১৯৭৫)। The large scale structure of space-time। Cambridge University Press। 
  2. Wald, Robert M. (১৯৮৪)। General Relativity। Chicago: University of Chicago Press। 
  3. Thorne, Kip S.; Misner, Charles; Wheeler, John (১৯৭৩)। Gravitation। W. H. Freeman and Company।