পরবর্তী জিন (পাঁচ রাজবংশ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জিন

৯৩৬–৯৪৭
 

রাজধানী তাইউয়ান (৯৩৬)
লুওইয়াং (৯৩৭)
কাইফেং (৯৩৭-৯৪৭)
ভাষাসমূহ চীনা ভাষা
ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম, তাও ধর্ম, কনফুসীয় ধর্ম, চীনা লোকজ ধর্ম
সরকার রাজতন্ত্র
সম্রাট
 -  ৯৩৬–৯৪২ শি জিনতাং (গাওজু)
 -  ৯৪২–৯৪৭ শি চংগুই (চুডি)
ঐতিহাসিক যুগ পাঁচ রাজবংশ ও দশ রাজ্য কাল
 -  প্রতিষ্ঠা ৯৩৬ ৯৩৬
 -  লিয়াও রাজবংশ কর্তৃক পরাজিত ৯৪৭ ৯৪৭
মুদ্রা প্রাচীন চীনা মুদ্রা

পরবর্তী জিন (সরলীকৃত চীনা: 后晋; প্রথাগত চীনা: 後晉; ফিনিন: Hòu Jìn, ৯৩৬–৯৪৭), শি জিন (石晉) নামেও পরিচিত, চীনের পাঁচ রাজবংশ ও দশ রাজ্য কাল সময়ের একটি রাজবংশ। শি জিনতাং ৯৩৬ সালে এই রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। লিয়াও রাজ্য ৯৪৬ ও ৯৪৭ সালে পরবর্তী জিন রাজ্যে আক্রমণ চালায় এবং জিনের দ্বিতীয় শাসক শি চংগুইকে পরাজিত করে, যার মধ্য দিয়ে এই রাজবংশের পতন হয়।

পরবর্তী জিন প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

শাতুও সেনাপ্রধান লি কেয়ংয়ের পুত্র লি চুনসু ৯২৩ সালে প্রথম শাতুও রাজ্য পরবর্তী তাং প্রতিষ্ঠা করেন।[১] পরবর্তী তাং তাদের মূল অংশ শানসি থেকে শুরু করে উত্তর চীনসিচুয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। লি চুনসুর মৃত্যুর পর তার পালক পুত্র লি সিইউয়ান সিংহাসনে আরোহণ করেন। এসময়ে খিতানদের সাথে শাতুওদের সম্পর্ক তিক্ত হতে থাকে। কিন্তু খিতানদের সাথে তাদের সম্পর্ক তাদের ক্ষমতা বিস্তারের জন্য অত্যাবশকীয় ছিল।

লি চুনসুর জামাতা শি জিংতাং লি সিইউয়ানকে কয়েকবার বিপদ থেকে উদ্ধার করে। ওয়েইচৌয়ে বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি লি সিইউয়ানকে কাইফেংকে বন্দী করার জন্য এবং তাকে রাজার পদ প্রদান করতে করে বলেন। শি জিংতাং ৩০০ সাহসী সৈন্য নিয়ে কাইফেংকে বন্দী করতে সাহায্য করেন এবং তার সততায় অটল থাকার জন্য প্রশংসিত হন। জিংতাং সম্রাটের জামাতা হওয়ায় তার পদমর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু লি সিইউয়ানের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরী কর্তৃক তিনি অপদস্ত হতে পারেন এই ভেবে তিনি পরবর্তী তাং রাজবংশ ধ্বংস করে নিজেকে রাজা বলে ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। অবশেষে ৯৩৬ সালে খিতানদের সহায়তায় পরবর্তী তাং রাজবংশ ধ্বংস করে নিজেকে পরবর্তী জিনের সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন।[২]

পরবর্তী জিন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা শি জিংতাং নিজেকে পিতার দিক থেকে হানদের উত্তরসূরী দাবী করেন।[৩]

পরবর্তী জিন সময়ে উত্তর চৌ, সুই সাম্রাজ্য, ও তাং রাজবংশ রাজপরিবারের সন্তানদের ডিউকের মর্যাদা দেওয়া হয়। এই রীতিকে বলা হয় 二王三恪[৪]

তাংদের সামন্ততান্ত্রিক লংসি সি রাজপরিবার 隴西李氏-এর মধ্যে ছিল গুঝাং লি 姑臧李, যার থেকে এসেছে লি ঝুয়ানমেই 李專美[৫]

সাম্রাজ্য বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

পরবর্তী জিন পরবর্তী তাংয়ের অঞ্চলসমূহে বিস্তৃত ছিল। তবে সিচুয়ান তাদের অধিগত ছিল না, কারণ পরবর্তী তাংয়ের ক্ষীয়মাণ সময়ে তা পরবর্তী শু নামে স্বাধীন হয়ে যায়।

ষোল দফতরও তাদের অধিগত ছিল না। এই সময়ে খিতান সম্প্রদায় তাদের প্রান্তর ভূমি থেকে বের হয়ে লিয়াও রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে। তারাও উত্তর চীনে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। তারা পরবর্তী জিনদের তাদের কাছে ষোল দফতর ত্যাগ করতে বাধ্য করে। বর্তমান বেইজিং থেকে পশ্চিমদিকে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল অঞ্চলে বিস্তৃত ষোল দফতর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যা লিয়াওদের উত্তর চীনের প্রভাব বিস্তার করতে সহায়তা করে।[১]

খিতানদের সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

পরবর্তী জিনকে লিয়াও রাজবংশের পুতুল হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তাদের ক্ষমতাধর প্রতিবেশীদের সহায়তা পরবর্তী জিন রাজবংশ গঠন ও ষোল দফতর দখলের জন্য অত্যাবশকীয় ছিল কিন্তু এই সহায়তার জন্য তাদেরকে খিতানদের গোলাম হিসেবে পরিহাস করা হয়।

পরবর্তী জিন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা শি জিংতাং খিতান সম্প্রদায়কে তাদের সহায়তার জন্য বর্তমান বেইজিং ও ষোল দফতর প্রদান করেন। প্রতি বছর তিনি তাদের রাজস্ব হিসেবে কাপড় ও রেশম পাঠাতেন। শি জিংতাংয়ের মৃত্যুর পর তার বোনের পুত্র ও তার পালক পুত্র শি চংগুই সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি খিতানদের বাৎসরিক রাজস্ব দেওয়া পছন্দ করতেন না। ফলে ৯৪৬ ও ৯৪৭ সালে তারা পরবর্তী জিনে আক্রমণ চালায় এবং এতে পরবর্তী জিন রাজবংশের পতন হয়।[৬]

সমাজ ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

গৃহস্থালীর জীবন[সম্পাদনা]

পরবর্তী জিন সময়কালে চীনে ৯০ মিলিয়ন গৃহস্থালীর রেকর্ড পাওয়া যায়।[৬]

বিরতিহীন যুদ্ধের পাশাপাশি প্রথম সম্রাট গাওজু মারা যাওয়ার বছরে পঙ্গপালের কারণে প্লেগ শুরু হয়। এছাড়া খরা, দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র সেসময়ে লেগেই ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরের বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং উড়ন্ত পঙ্গপাল সূর্যের কিরণ পৌঁছানোর পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। ফলে পরবর্তী জিন অভিশপ্ত এক রাজ্যে পরিণত হয়।[২]

আবিস্কার[সম্পাদনা]

৯৪০ সালে নৌকার হাল আবিস্কার করা হয়, যা নদীতে নৌকার গতি বৃদ্ধি করে ও দিক নির্ণয়ে সাহায্য করে। পরবর্তী জিন সময়কালে কাঠের টুকরায় মুদ্রণ প্রসার লাভ করে। কাঠের টুকরায় প্রথম লিখিত লিপি হল কনফুসিয়াসের পুস্তিকা। ডং ইউয়ান, লি চেং ও হুয়ান ছুয়ানদের মত নামকরা শিল্পীরা এই সময়ে কাগজে বিভিন্ন দৃশ্যাবলী, পাখি ও ফুলের প্রিন্ট নিয়ে আসেন।[৬]

শাসকদের তালিকা[সম্পাদনা]

সমাধির নাম মরণোত্তর নাম পারিবারিক নাম রাজত্বকাল চীনা যুগের নাম ও সময়কাল
পাঁচ রাজবংশ
সভানাম: রাজবংশের নাম + সমাধির নাম বা মরণোত্তর নাম
হৌ (পরবর্তী) জিন রাজবংশ ৯৩৬–৯৪৭
গাওজু (高祖) অত্যন্ত বিরক্তিকর, thus not used when referring to this sovereign শি জিংতাং 石敬瑭 ৯৩৬–৯৪২ তিয়ানফু (天福) ৯৩৬–৯৪২
নাই চু ডি (出帝) শি চংগুই (石重貴) ৯৪২–৯৪৭ তিয়ানফু (天福) ৯৪২–৯৪৪

কাইয়ুন (開運) ৯৪৪–৯৪৭

পরবর্তী জিন ও পরবর্তী তাং রাজপরিবার[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mote, Frederick W (২০০৩)। Imperial China 900-1800। Harvard University Press। পৃষ্ঠা 12–13। 
  2. "Later Jin"Warriors Tours। ২৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  3. Wudai Shi, ch. 75. Considering the father was originally called Nieliji without a surname, the fact that his patrilineal ancestors all had Chinese names here indicates that these names were probably all created posthumously after Shi Jingtang became a "Chinese" emperor. Shi Jingtang actually claimed to be a descendant of Chinese historical figures Shi Que and Shi Fen, and insisted that his ancestors went westwards towards non-Han Chinese area during the political chaos at the end of the Han Dynasty in early 3rd century.
  4. Ouyang, Xiu (৫ এপ্রিল ২০০৪)। Historical Records of the Five Dynasties। Richard L. Davis, translator। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 76–। আইএসবিএন 978-0-231-50228-3 
  5. Chang Woei Ong (২০০৮)। Men of Letters Within the Passes: Guanzhong Literati in Chinese History, 907-1911। Harvard University Asia Center। পৃষ্ঠা 29। আইএসবিএন 978-0-674-03170-8 
  6. "Later Jin Dynasty: History & Facts"Learn Chinese History। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]