পমোদরো কৌশল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
একটি পমোডোরো কিচেন টাইমার, যার নামানুসারে এই পদ্ধতির নামকরণ করা হয়েছে

পমোডোরো টেকনিক একটি টাইম ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি যা ১৯৮০ এর দশকের শেষদিকে ফ্রান্সেসকো সিরিলো[১] উদ্ভাবন করেন।[২] এই পদ্ধতিতে একটি টাইমার ব্যবহার করে যে কোন কাজকে ছোট ছোট সময়ের ভগ্নাংশে ভাগ করে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। সাধারনত প্রতি সময়ের ভগ্নাংশের দৈর্ঘ্য ২৫ মিনিট হয় এবং প্রতি ২৫ মিনিট পর পর ছোট বিরতি থাকে। সময়ের এই প্রতি ভগ্নাংশকে পমোডরো বলে যা ইতালীয় এক শব্দ যার অর্থ টমেটো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে সিরিলো এর ব্যবহৃত টমেটো আকৃতির কিচেন টাইমার অনুসারে এই পদ্ধতির নামকরন করা হয়েছে। [৩][৪]

এই কৌশলটি বিভিন্ন অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটগুলো এই কৌশল ব্যবহারের বিভিন্ন নির্দেশিকা এবং টাইমার প্রদান করে। [৫]

মূলনীতি[সম্পাদনা]

মূল কৌশলটিতে ছয়টি ধাপ রয়েছে:

  1. কাজটি করার সিদ্ধান্ত নিন।
  2. পোমোডোরো টাইমার সেট করুন (সাধারনতঃ ২৫ মিনিটের জন্য)। [২]
  3. কাজটি করতে থাকুন।
  4. টাইমার বেজে উঠলে কাজ বন্ধ করুন এবং একটি কাগজের টুকরোতে একটি টিকচিহ্ন দিন। [৬]
  5. আপনার কাগজে যদি ৪ টির কম টিকচিহ্ন থাকে তাহলে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নিন (৩-৫ মিনিট)। তারপরে দ্বিতীয় ধাপে যান, বা আবার টাইমার সেট করে কাজ শুরু করুন।
  6. পরপর ৪ বার এমন ২৫ মিনিট কাজের পরে একটি দীর্ঘ বিরতি নিন (১৫-৩০ মিনিট)। এরপর আপনার টিকচিহ্ন গণনা শূন্য থেকে পুনরায় শুরু করুন এবং আবার ২৫ মিনিট করে কাজ শুরু করুন।

পরিকল্পনা, ট্র্যাকিং, রেকর্ডিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ধাপগুলো হচ্ছে এই কৌশলটির মূলভিত্তি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] পরিকল্পনার পর্যায়ে, কাজগুলিকে একটি "টু ডু টুডে" তালিকায় রেকর্ড করে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি ব্যবহারকারীদের কাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় অনুমান করতে সাহায্য করে। পোমোডোরো সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে এগুলি রেকর্ড করা হয়, যা একটি কাজ শেষ করার মানসিক আনন্দ প্রদান করে এবং পরবর্তী কাজের উন্নতি এবং নিজের পার্ফরম্যান্স পর্যবেক্ষনের জন্য তথ্য সরবরাহ করে। [২]

কৌশলটির উদ্দেশ্যে, একটি পমোডোরো হল কাজের জন্য ব্যায়কৃত সময় ব্যবধান। [২] কার্য সমাপ্তির পরে, পমোডোরোতে থাকা যে কোন বাড়তি সময় সেই কাজকে আরও উন্নত করার জন্য ব্যায় করা হয়। একটি সংক্ষিপ্ত (৩-৫ মিনিট) বিশ্রাম পরপর একাধিক পোমোডোরোকে পৃথক করে। পরপর চারটি পোমোডোরো একটি সেট তৈরি করে। সেটগুলির মধ্যে একটি দীর্ঘ (১৫-৩০ মিনিট) বিশ্রাম নেওয়া হয়। [৭]

কৌশলটির একটি লক্ষ্য হল ফোকাস বা কাজে মনোযোগ এবং কাজের ধারার উপরে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বাধাগুলির প্রভাব হ্রাস করা। একটি পোমোডোরো অবিভাজ্য; যখন কোনও পমোডোরোর সময় অন্য কোন কাজ করার প্রয়োজন হয়, তখন হয় সে কাজ সম্পর্কে নোট নিয়ে পমোডরোর পরে সেটা করতে হবে অথবা পোমোডোরো ত্যাগ করতে হবে। [২][৭][৮]

সরঞ্জামসমূহ[সম্পাদনা]

এই কৌশলের আবিষ্কারক এবং তার প্রবক্তারা যান্ত্রিক টাইমার, কাগজ এবং পেন্সিল ব্যবহার করে একটি স্বল্প প্রযুক্তির পদ্ধতিকে ব্যাবহারের জন্য উতসাহিত করেন। টাইমারকে ঘোরানোর শারীরিক কাজটি কার্যটি শুরু করার জন্য ব্যবহারকারীর দৃঢ় সংকল্পকে নিশ্চিত করে। কাগজে কাজের তালিকায় টিক দেওয়া কাজটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা এবং বিরতির সময়ে অ্যালার্ম বাজানো বিরতির ঘোষণা দেয়। এতে কাজের প্রবাহ এবং ফোকাস এই শারীরিক উদ্দীপনার সাথে যুক্ত হয়। [২][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Official website biography
  2. Cirillo, Francesco। The Pomodoro Technique। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৮ 
  3. Cummings, Tucker। "The Pomodoro Technique: Is It Right For You?"Lifehack। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  4. Cirillo, Francesco। "The Pomodoro Technique (The Pomodoro)" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  5. Olsen, Patricia R.; Remsik, Jim (১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "For Writing Software, a Buddy System" 
  6. Cirillo, Francesco। "GET STARTED"The Pomodoro Technique। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-০৬4. WHEN THE POMODORO RINGS, PUT A CHECKMARK ON A PAPER  Click the "how" link and see step 4. Presumably, the piece of paper can be one's task list or similar. In any case, four check marks indicate a longer break (step 6).
  7. Nöteberg, Staffan। Pomodoro Technique Illustrated। Pragmatic Bookshelf। আইএসবিএন 978-1-934356-50-0 
  8. Kaufman, Josh (২০১১)। The Personal MBA: A World-Class Business Education in a Single Volume। Penguin UK। আইএসবিএন 978-0-14-197109-4 
  9. Burkeman, Oliver (২০১১)। Help! : how to be slightly happier, slightly more successful and get a bit more done। Canongate। পৃষ্ঠা 139–140। আইএসবিএন 978-0-85786-025-5