পন্টিয়ানাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পন্টিয়ানাক (মালয় ভাষা : ڤونتيانق) হল মালয় লোকাচার অনুযায়ী এক মহিলা ভূত।এটি মাটিয়ানাক বা কুন্টিলানাক বা কুন্টি নামেও পরিচিত। পন্টিয়ানাককে বাঙালি সংস্কৃতির পেত্নী বা শাঁখচুন্নির সাথে তুলনা করা যায়। বলা হয়ে থাকে যে, গর্ভবতী মহিলারা মারা গেলে পন্টিয়ানাক হিসেবে ফিরে আসে। এটির সাথে 'ল্যাংসুইর'কে অনেকে গুলিয়ে ফেলে। উল্লেখ্য, বলা হয়ে থাকে, 'ল্যাংসুইর' হল সেই সব নারীদের আত্মা, যারা সন্তান জন্মদানের সময়ে মারা গিয়েছে।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

পন্টিয়ানাক শব্দটি মালয় ভাষার পেরেম্পুয়ান মাতি বেরানাক থেক্র উৎপন্ন যেটির অর্থ যে নারী সন্তান জন্মের সময় মারা গিয়েছিল[১] আরেকটি মত অনুসারে শব্দটি পুয়ান (নারী), মাতি (মৃত্যু) এবং আনাক (শিশু) শব্দত্রয়ের সংমিশ্রণে গঠিত। মাটিয়ানাক শব্দটির অর্থ 'শিশুর মৃত্যু'। ইন্দোনেশিয়ায় পন্টিয়ানাক শহরের নামকরণ এই পন্টিয়ানাকের নামে করা হয়েছে বলে বলা হয়।[২]

চেহারা[সম্পাদনা]

পন্টিয়ানাক সাধারণত বিবর্ণ চেহারার কালো চুল, লাল চোখ ও রক্তের ছোপ বিশিষ্ট সাদা পোশাকে আসে বলে বলা হয়।

বলা থাকে যে, সাধারণত পন্টিয়ানাক পূর্ণ চাঁদে উঠে আসে এবং উচ্চস্বরের শিশুর কান্না দ্বারা তার উপস্থিতি ঘোষণা করে। কান্না যদি নরম থাকে তবে এর অর্থ হল পন্টিয়ানাক কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং যদি এটি জোরে হয় তাহলে সে অবশ্যই অনেক দূরে অবস্থান করছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, রাতের বেলায় কুকুর পন্টিয়ানাকের আগমন বুঝতে পারে। যদি কুকুর গর্জন করে, এর অর্থ পন্টিয়ানাক অনেক দূরে। আর, যদি কুকুর ঘেউঘেউ করে, তবে তার মানে পন্টিয়ানাক কাছাকাছি অবস্থান করছে। কখনো কখনো তার উপস্থিতি কখনও কখনও একটি সুন্দর ফুলের সুবাস দ্বারা সনাক্ত করা যেতে পারে যেটির গন্ধের সাথে কাঠগোলাপের ঘ্রাণের মিল রয়েছে মতো সনাক্তকরণযোগ্য। এই সুঘ্রাণের পর মৃত পচা প্রাণীর গন্ধ আসে বলে বলা হয়ে থাকে।

একটি পন্টিয়ানাক তার শিকরের পেটে তার তীক্ষ্ণ নখ ঢুকিয়ে এবং শরীরের অঙ্গগুলিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, যেখানে পন্টিয়ানাক পুরুষ শিকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা রাখে, তখন সে শিকারের দেহের অঙ্গগুলি শিকারের হাতে তুলে দেয়।

পন্টিয়ানাক কলা গাছে বসবাস করে থাকে বলে বলা হয়। আরো বলা হয়, সে দিনের বেলায় সেখানে বাস করে।

একটি পন্টিয়ানাককে নিরস্ত করতে, তার ঘাড়ের গর্তে হাত ঢোকানো উচিত বলে বলা হয়ে থাকে। এতে তার অশুভ ক্ষমতা দূরীভূত হয় বলে বলা হয়ে থাকে।

ইন্দোনেশিয়ান কুনটিলানাক পন্টিয়ানিয়াকের মতোই, কিন্তু সাধারণত পাখির আকারে চড়ে বেড়ায় এবং কুমারী ও অল্পবয়সী মহিলাদের রক্ত নিঃশেষ করে।

পন্টিয়ানাক দেখার ঘটনা[সম্পাদনা]

সমস্ত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে পন্টিয়ানাক দেখা যায় বলে বলা হয়ে থাকে। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে মালয়েশিয়ার এক শহরে মালয়েশিয়ার একদল পুলিশ সদস্য পন্টিয়ানাকের ছবি ভিডিওচিত্রে ধারণ করেছিল। ২ মিনিট দীর্ঘ ভিডিওটি পন্টিয়ানককে পুরো স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।[৩]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

  • ইন্দোনেশিয়ান চলচ্চিত্র
    • কুন্টিলানাক (১৯৬২)
    • কুন্টিলানাক (১৯৭৪)
    • লয়াং সেভু (২০০৭)
    • কাসাব্লাংকা টানেল (লাল কুনটিলানক) (২০০৭)
    • কুন্টিলানাকস নেস্ট (২০০৮)
    • কুন্টিলানাক (২০০৬)
    • কুন্টিলানাক ২ (২০০৭)
    • কুন্টিলানাক ৩ (২০০৮)
    • কুন্টিলানাকস মর্গ (২০০৯)
    • কুন্টিলানাল বেরানাক (২০০৯)
    • দ্য নেইল অব কুন্টিলানাক' (২০০৯)
    • স্যান্টেট কুন্টিলানাক (২০১২)
  • ইন্দোনেশিয়ান ভিডিও গেম
    • ড্রেডআউট (২০১৪)
  • মালয়েশিয়ান চলচ্চিত্র
    • পন্টিয়ানাক চাইল্ড (১৯৫৮)
    • পন্টিয়ানক মুসাং কেভ (১৯৬৪)
    • দ্য রিটার্ন অব কুন্টিলানাক (১৯৬৩)
    • পন্টিয়ানক হারাম সুন্দল মালাম (২০০৪)
    • পন্টিয়ানক হারাম সুন্দল মালাম ২ (২০০৫)
    • দ্য স্ক্রিম অব পন্টিয়ানাক (২০০৫)
    • হেল্প মি, আই অ্যাম আ পন্টিয়ানাক (২০১১)
    • পন্টিয়ানাক ভার্সেস অয়েল পার্সন (২০১২)
    • দ্য নেইল অব কুন্টিলানাক (২০১৩)
  • মালয়েশিয়ান উপন্যায়া
    • জেন চো রচিত দ্য হাউস অব আন্টস[৪]
  • আমেরিকান উপন্যাস
    • কোল্ড ফায়ার

সম্পর্কিত লোককাহিনি[সম্পাদনা]

ফিলিপাইনের টিয়ানাকের সাথে পন্টিয়ানাকের অনেক মিল লক্ষ করা যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lee R. The Almost Complete Collection of True Singapore Ghost Stories. 2nd ed. Singapore: Flame of the Forest, 1989.
  2. Amrizan Madian; Matahari Tegak Dua Kali Setahun di Kota Khatulistiwa; Situs Berita Nasional Malaysia (in Indonesian)
  3. Chandran83. "PONTIANAK LEPAR HILIR 7,PAHANG,MALAYSIA" YouTube, Pahang, 15 August 2010. Retrieved on 5 February 2013.
  4. "The House of Aunts"। ২০১১-১২-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৪-১৩