পদ্মা–শ্রেণির টহল জাহাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শ্রেণি'র সারাংশ
নাম: পদ্মা শ্রেণি
নির্মাতা: খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড[১]
ব্যবহারকারী:
নির্মিত: ২০১১–বর্তমান
অনুমোদন লাভ: ২০১৩–বর্তমান
পরিকল্পিত: ২৩
নির্মাণ:
সম্পন্ন:
সক্রিয়:
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার: টহল জাহাজ
ওজন: ৩৫০ টন
দৈর্ঘ্য: ৫০.৪ মিটার (১৬৫ ফু)
প্রস্থ: ৭.৫ মিটার (২৫ ফু)
গভীরতা: ৪.১ মিটার (১৩ ফু)
প্রচালনশক্তি:
  • ২ × ডিজেল
  • ২ × শ্যাফট
গতিবেগ: ২৩ নট (৪৩ কিমি/ঘ; ২৬ মা/ঘ)
সহনশীলতা: ৭ দিন
লোকবল: ৪৫
রণসজ্জা:
  • ২ × ৩৭ মিমি কামান
  • ২ × ২০ মিমি বিমান-বিধ্বংসী কামান
  • সামুদ্রিক মাইন

পদ্মা শ্রেণি হচ্ছে বাংলাদেশে নির্মিত টহল জাহাজের একটি শ্রেণি যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীবাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।[২] এই জাহাজগুলো চীনের চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন এর সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৃহীত দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দেশীয় উৎস থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ নির্মানের পদক্ষেপ নেয়া হয়। ২০১০ সালের ২ মে খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে পাচটি টহল জাহাজ নির্মাণের চুক্তি করে যা পরবর্তিতে পদ্মা-শ্রেণি নামে পরিচিত হয়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জাহাজগুলোর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর এই শ্রেণির প্রথম জাহাজ, বানৌজা পদ্মাকে পানিতে ভাসানো হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হয়। এই শ্রেণির দ্বিতীয় জাহাজ, বানৌজা সুরমাকে পানিতে ভাসানো হয় ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি এবং নৌবহরে যুক্ত হয় ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট। বাকি তিনটি জাহাজ, বানৌজা অপরাজেয়, বানৌজা অদম্যবানৌজা অতন্দ্রকে ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়[৩][৪] ও ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ নৌবহরে যুক্ত হয়।[৫]

২০১৬ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, খুলনা শিপইয়ার্ডের সাথে তিনটি পদ্মা শ্রেণির টহল জাহাজ নির্মাণের চুক্তি করে। ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর এগুলোর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালের ২০ জুন কোস্ট গার্ডকে তিনটি জাহাজ, সিজিএস সোনার বাংলা, সিজিএস অপরাজেয় বাংলাসিজিএস স্বাধীন বাংলা হস্তান্তর করা হয়।[৬]

২০১৯ সালের ২০ মে, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর খুলনা শিপইয়ার্ডকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য আরও পাচটি টহল জাহাজের নির্মানাদেশ দেয়। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর এই জাহাজগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

নকশা[সম্পাদনা]

দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মান কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী জাহাজের নকশা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এই টহল জাহাজের ওজন ৩৫০ টন। এই জাহাজগুলো ৫০.৪ মিটার (১৬৫ ফু) দীর্ঘ, ৭.৫ মিটার (২৫ ফু) প্রশস্থ এবং ৪.১ মিটার (১৩ ফু) গভীরতা বিশিষ্ট। নৌযানগুলো ৪৫ জন নৌসেনা ও কর্মকর্তা নিয়ে একনাগাড়ে এক সপ্তাহ মিশন পরিচালনা করতে পারে। এই জাহাজের সর্বোচ্চ গতি ২৩ নট (৪৩ কিমি/ঘ)।

অস্ত্রসজ্জা[সম্পাদনা]

প্রথম ব্যাচের জাহাজগুলো একজোড়া ৩৭ মিমি কামান এবং একজোড়া ২০ মিমি বিমান-বিধ্বংসী কামান দ্বারা সজ্জিত। পরবর্তী ব্যাচসমূহের জাহাজগুলোতে আছে একটি ৩০ মিমি দূরনিয়ন্ত্রিত কামান ও একটি ১২.৭ মিমি ভারী মেশিনগান। সবগুলো জাহাজই সামুদ্রিক মাইন এবং কাধে বহনযোগ্য বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।[৭]

জাহাজসমূহ[সম্পাদনা]

 বাংলাদেশ নৌবাহিনী
 পরিচিতি সংখ্যা   নাম   নির্মাতা   নির্মাণাদেশ   নির্মাণ শুরু   পানিতে ভাসানো   হস্তান্তর   কমিশন   অবস্থা 
পি৩১২ পদ্মা খুলনা শিপইয়ার্ড ২ মে ২০১০ ৫ মার্চ ২০১১ ৮ অক্টোবর ২০১২[৮] ২৪ জানুয়ারি ২০১৩[৯] সক্রিয়
পি৩১৩ সুরমা ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ ৬ মে ২০১৩[১০] ২৯ আগস্ট ২০১৩[১১] সক্রিয়
পি২৬১ অপরাজেয় ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩[১২] সক্রিয়
পি২৬২ অদম্য সক্রিয়
পি২৬৩ অতন্দ্র সক্রিয়
২০ মে ২০১৯[১৩] ২ ডিসেম্বর ২০১৯[১৩] নির্মাণাধীন
 বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড
 পরিচিতি সংখ্যা   নাম   নির্মাতা   নির্মাণাদেশ   নির্মাণ শুরু   পানিতে ভাসানো   হস্তান্তর   কমিশন   অবস্থা 
পি২০৪ সোনার বাংলা খুলনা শিপইয়ার্ড ১৭ জুলাই ২০১৬ [১৪] ২ অক্টোবর ২০১৬ ২৩ মে ২০১৮ ২০ জুন ২০১৯[৬] সামুদ্রিক পরীক্ষা
পি২০৫ অপরাজেয় বাংলা ৫ আগস্ট ২০১৮
পি২০৬ স্বাধীন বাংলা

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First-ever Warship Built in Bangladesh Operating in BN Fleet"। W3.khulnashipyard.com। ২০১৩-০৭-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-১৬ 
  2. "'Padma' latest Bangladesh Navy warship"। bdnews24.com। ২০১৩-০১-২৪। ২০১৩-১২-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-১৬ 
  3. "Archived copy"। ২০১৫-০৭-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-১৫ 
  4. "Archived copy"। ২০১৩-১২-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-১৫ 
  5. "Archived copy"। ২০১৭-১০-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-২৫ 
  6. "Khulna Shipyard hands over 3 inshore patrol vessels to Coast Guard"The Daily Star। ২১ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৯ 
  7. "Bangladesh still aiming for sub purchases"upi.com। United Press International, Inc। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৫ 
  8. "First Bangladesh made warship launched"। The Daily Star। ৯ অক্টোবর ২০১২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  9. "'Padma' latest Bangladesh Navy warship"। bdnews24.com। ২৪ জানুয়ারি ২০১৩। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  10. "Archived copy"। ২০১৩-০৮-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১১-২৪ 
  11. "Archived copy"। ২০১৫-০৯-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১১-২৪ 
  12. "4 warships including somoudra joy commissioned"। bdnews24.com। ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  13. "Khulna Shipyard lays keel for five more Padma-class patrol vessels for Bangladeshi Navy"। Janes 360। ২ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২০ 
  14. "INSHORE PATROL VESSEL"Khulna Shipyard। ৯ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮