পঞ্চলিঙ্গ দর্শন
পঞ্চলিঙ্গ দর্শন হল ভারতের কর্ণাটকের কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন মন্দির নগরী তালকাদে প্রতি বারো বছর অন্তর অনুষ্ঠিত একটি পবিত্র উৎসব। [১] পূর্বে কদম্ব, চোল, চালুক্য এবং রাষ্ট্রকূটদের দ্বারা শাসিত এই ক্ষেত্রে অবস্থিত শ্রী বৈদ্যনাথেশ্বর, শ্রী পাতালেশ্বর, শ্রী মরুলেশ্বর, শ্রী আরকেশ্বরা, শ্রী মুদুকুঠোর মল্লিকার্জুনেশ্বর- এই পাঁচটি মন্দিরকে একত্রে পঞ্চলিঙ্গ শিব মন্দির হিসাবে অভিহিত করা হয়। [২] এই পাঁচটি শিব মন্দিরে একই সাথে এই উৎসব পালন করা হয় এবং উৎসবের সময় কলা গাছের কাণ্ড, পাতা এবং বিভিন্ন ফুল দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গন সজ্জিত করা হয়। পঞ্চলিঙ্গ দর্শনে আগত তীর্থযাত্রীরা নির্দিষ্ট দিনে এই মন্দিরে এসে দেবতার পূজা ও অর্চনা করেন। [৩]
পাঁচ দিন ধরে চলা এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী অংশগ্রহণ করেন। এই উৎসবের জন্য অগ্রিম ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। [৪] ২০০৯ সালে এই উতসব সর্বশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। [২] এই উৎসবের মাধ্যমে দেশব্যাপী ভক্তগন এবং শাসকরা যাতে দেবতার আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন তার জন্য প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করে পাঁচটি মন্দিরে একই সময়ে পূজা শুরু করা হয়। [৫]
পূজা নিয়ম (ঐতিহ্যবাহী পূজা পদ্ধতি)
[সম্পাদনা]পঞ্চাঙ্গম (হিন্দু ঐতিহ্যের নাক্ষত্রিক পঞ্জিকা) অনুসারে দেবতার বিশেষ পূজা এবং অভিষেকের তারিখ নির্ধারিত করা হয়। মূলতঃ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে বিশাখ নক্ষত্রের পুন্যযোগে এক বিশেষ সোমবারে এই পূজার দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করা হয়। এই তিথি সাধারণত সাত বছরে একবার আসে। শেষ পঞ্চলিঙ্গ দর্শন যাত্রা ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তার ঠিক ১৩ বছর আগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উৎসবের সময় বিশেষ পূজা করার রিতী থাকে। এই বিশেষ পূজা শুরুর করার আগে, প্রধান পুরোহিত এবং তার ১০ জন (বা তার বেশি সংখ্যক) সহায়ক পুরোহিত নির্ধারিত সময়ে ভগবান বৈদ্যনাথেশ্বর মন্দির (পঞ্চলিঙ্গ নামে পরিচিত পাঁচটি মন্দিরের একটি) সংলগ্ন গোকর্ণ পুষ্করিনীতে (পবিত্র হ্রদ) স্নান করেন এবং দেবতাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত গঙ্গা পূজন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য অগ্রোদক (পুষ্করণী থেকে জল) নিয়ে আসেন।
পূজা শুরু হলে প্রথমে ভগবান শক্তি গণপতির অর্চনা করা হয়। এরপর একে একে মনোমণি দেবী, চন্ডিকেশ্বর এবং বীরভদ্রস্বামীর পূজা করার রীতি আছে। এরপর আরকেশ্বর শিব, পাতালেশ্বর শিব, মারালেশ্বর শিব এবং মল্লিকার্জুনেশ্বর শিবের পূজা করা হবে।
পঞ্চলিঙ্গ দর্শন শেষ হওয়ার পর পুন্যার্থীরা তার পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত গজরাওহণ উৎসব এবং শ্রীদিব্য ব্রহ্ম রথোৎসব (রথযাত্রা) -এ অংশ নেন। তার পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্যানোৎসব। উৎসাহী ভক্তরা এই অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
উতসবের তৃতীয় দিন থেপ্পোৎসব (এক বিশেষ নৌ-উৎসব) এবং চতুর্থ দিন পূর্বাক কৈলসাবনহন উৎসব এবং পরের দিন নন্দী বাহনোৎসব নামক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে পঞ্চলিঙ্গ উসবের সমাপ্তি ঘোষণা হয়। [৬]
তালাকাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
[সম্পাদনা]কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত মন্দির নগরী তালাকাদ একটি প্রাচীন শহর। পুরাকালে কদম্ব, চোল, চালুক্য এবং রাষ্ট্রকূট ইত্যাদি রাজবংশ এই শহরের উপর শাসণ করেছে। শহরটি মহীশূর থেকে প্রায় পয়তাল্লিশ কিমি দূরে অবস্থিত। কর্ণাটক রাজ্যের প্রাচীনতম মন্দিরের মধ্যে পাঁচটি এই শহরে অবস্থিত।[৬]
মন্তব্য
[সম্পাদনা]- ↑ "Talakkad - Panchalinga Temples"। TempleNet। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৭।
- 1 2 "Panchalinga Darshan"। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ "Panchalinga Darshan: Sri Vaideshwara Temple"। mysoretourism.org। ২৭ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ "Preparations on for Talakad Panchalinga Darshana"। The Hindu। Chennai, India। ৯ নভেম্বর ২০০৬। ২২ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ "The millennium's first Panchalinga Darshana begins in Talakadu"। banglalive.com। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০০৭।
- 1 2 "1st Panchalinga Darshana begins in Talakadu"। ২৪ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৫।