ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (পাকিস্তান)
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি نیشنل پیپلز پارٹی | |
|---|---|
| সংক্ষেপে | এনপিপি |
| চেয়ারম্যান | মাসরুর আহমেদ জাটাই |
| প্রতিষ্ঠাতা | গোলাম মুস্তাফা জাটাই |
| প্রতিষ্ঠা | ১৯৮৬ |
| ভাঙ্গন | 2013 |
| একীভূত হয়েছে | পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) |
| সদর দপ্তর | করাচি |
| ছাত্র শাখা | জাতীয় গণ ছাত্র ফেডারেশন (এনপিএসএফ) |
| ভাবাদর্শ | ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ |
| জাতীয় অধিভুক্তি | জাতীয় জোট |
| আনুষ্ঠানিক রঙ | লাল, সাদা এবং সবুজ |
| নির্বাচনী প্রতীক | |
| ট্র্যাক্টর | |
| দলীয় পতাকা | |
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) (উর্দু: نیشنل پیپلز پارٹی) ছিল পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক দল, যা মূলত সিন্ধু প্রদেশ ও দক্ষিণ পাঞ্জাবে সক্রিয় ছিল। দলটি ১৯৮৬ সালে গোলাম মুস্তাফা জাটাই প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে বেরিয়ে আসার পর এ দল গঠন করেন।[১]
২০০৮ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে দলটি কেবল একটি জাতীয় পরিষদের আসন জিততে সক্ষম হয়। গোলাম মুস্তাফা জাটাইর ছেলে গোলাম মুর্তজা খান জাটাই এনএ-২১১ নওশাহরো ফিরোজ-১ আসনে বিজয়ী হন। এই আসনটি ২০০২ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের প্রার্থী ড. আবদুল গফ্ফার খান জেমস জিতেছিলেন। দলটি সিন্ধু প্রদেশ পরিষদে আরও চারটি আসনও লাভ করে।
২০১৩ সালের মে মাসে দলটি পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন)-এর সঙ্গে একীভূত হয়।[২][৩]
প্রতিষ্ঠা
[সম্পাদনা]ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৯৮৬ সালে গুলাম মুস্তাফা জাটাই প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের এই দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ও পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গুলাম মুস্তাফা খার এবং হানিফ রামায়, এছাড়া সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী এস. এম. জাফর, হামিদ রেজা গিলানি, মালিক হামিদ সরফরাজ, নবাব ঘাউস বখশ রাইসানি, কামাল আজফর, মিয়ান সাজিদ পারভেজ, নাফিস সিদ্দিকী, রানা মোহাম্মদ হানিফ খান, আখতার হুসেইন শাহ, রাব্বানি খার ও আফতাব শাহ গিলানি। একটি ইশতেহার প্রকাশ করা হয় এবং ধারণা করা হয়েছিল, পিপিপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় এনপিপি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। তবে নেতৃত্ব সংকটের কারণে দলটির প্রভাব পরে হ্রাস পায়। ইরফান আাব্বাসি ছিলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মিডিয়া সমন্বয়কারী। তিনি সুক্কুর ডিভিশনে তথ্য সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে আঁতাত করার কারণে পরে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
আইজেআই জোট
[সম্পাদনা]১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সদ্য গঠিত এনপিপি, মোহাম্মদ খান জুনেজোর নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থি পাকিস্তান মুসলিম লীগ এবং কাজি হুসেইন আহমদের নেতৃত্বাধীন জামাত-ই-ইসলামি, পাশাপাশি আরও ছয়টি রাজনৈতিক দল মিলে পাকিস্তান পিপলস পার্টিবিরোধী জোট *ইসলামি জামহুরি ইত্তেহাদ* (আইজেআই) গঠন করে। ধারণা করা হয়, তৎকালীন আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদ গুল এই জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৮ সালের নির্বাচনে পিপিপি অল্প ব্যবধানে জয়ী হলেও মাত্র ২০ মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট গুলাম ইশাক খান দুর্নীতির অভিযোগে পিপিপি সরকারকে বরখাস্ত করেন। এরপর আইজেআই সহজেই ক্ষমতায় আসে এবং নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হন। এই জোট ১৯৯৩ সালে ভেঙে যায় এবং আইজেআই-এর একটি বড় অংশ পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)-এ পরিণত হয়।
ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স
[সম্পাদনা]২০০২ সালের সাধারণ নির্বাচনে এনপিপি, প্রো-মুশাররফ সরকারপন্থি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের অংশ হয়। এই জোটের অন্য দলগুলো ছিল মিল্লাত পার্টি, সিন্ধু ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স ও সিন্ধু ন্যাশনাল ফ্রন্ট। জোটটি ৩৪২ আসনের মধ্যে ১৬টি আসনে জয়লাভ করে, যা মোট ভোটের ৪.৭৮%।[৪]
পিএমএল-এর সঙ্গে একীভূতকরণ ও বিচ্ছেদ
[সম্পাদনা]২০০৪ সালের মে মাসে বিভিন্ন পিএমএল উপদল ও আরও কিছু রাজনৈতিক দল, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সসহ, একত্রিত হয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কিউ) গঠন করে।[৫] তবে এই ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এনপিপি পরে পিএমএল-কিউ থেকে আলাদা হয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
এই নির্বাচনে দলটি সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদে তিনটি আসন এবং জাতীয় পরিষদে একটি আসন জেতে।
২০১৩ সালের মে মাসে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হয়।[২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Crossette, Barbara (১৩ নভেম্বর ১৯৮৮)। "Election Wednesday; After Zia, Pakistan Takes Well To Politics"। The New York Times। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- 1 2 "Partners in Sindh: NPP merges with PML-N"। The Express Tribune। ১৭ মে ২০১৩। ১৪ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Arbab Ghulam Rahim's PPML merges with PML-N"। The Express Tribune। ২৬ মে ২০১৩। ৮ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Mansoor, Hasan (ফেব্রুয়ারি ২০০৩)। "The pathology of military democracy: Manufacturing a government in Sindh"। Himal South Asia। ১০ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Mumtaz, Ashraf (২০ মে ২০০৪)। "Parties to inform EC about merger with PML"। Dawn। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।