ন্যারি ওয়েলী
ন্যারি ওয়েলী | |
|---|---|
| সেপ্পা নির্বাচনী এলাকা থেকে অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৮০ – ১৯৮৮ | |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ২ অক্টোবর ১৯৪৫ বেয়ং গ্রাম, সেপ্পা মহকুমা |
| মৃত্যু | ২১ অক্টোবর ১৯৮৮ (বয়স ৪৩) |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| রাজনৈতিক দল | পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস |
ন্যারি ওয়েলী (২ অক্টোবর ১৯৪৫ – ২১ অক্টোবর ১৯৮৮[১][২]) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভায় নির্বাচিত প্রথম মহিলা, তবে তাঁর আগে সিবো কাই ১৯৭৮ সালের বিধানসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন একজন মনোনীত সদস্য হিসেবে। তিনি প্রথমে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচলের হয়ে এবং পরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধানসভার সেপ্পা আসন থেকে জয়লাভ করেন।
সামাজিক কর্মী
[সম্পাদনা]ওয়েলীর জন্ম কামেং জেলার সেপ্পা মহকুমার বেয়ং গ্রামে। তাঁর কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।[৩] রাজনীতিতে যোগদানের আগে তিনি একজন সমাজকর্মী ছিলেন।[৪] তিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সেপ্পা শাখার নারী কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি কংগ্রেস সেবাদলের সেপ্পা শাখার মহিলা সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।[২]
১৯৭৮ সালের নির্বাচন
[সম্পাদনা]১৯৭৮ সালের অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে (মোট ৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে) দুই মহিলা প্রার্থীর মধ্যে ওয়েলী ছিলেন একজন। তিনি সেপ্পা নির্বাচনী এলাকায় পিপলস পার্টি অফ অরুণাচলের (পিপিএ) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি ১,৬৪৯ ভোট (নির্বাচনী এলাকার ২৫.৪৪% ভোট) পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।[৫]
১৯৮০ সালের নির্বাচন
[সম্পাদনা]১৯৮০ সালের অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ওয়েলী আবার সেপ্পা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি পিপিএ প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ২,৮১৭ ভোট (৪৩.২৮%) পেয়ে আসনটি জয়ী হন এবং রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত মহিলা হিসেবে বিধানসভার সদস্য হন।[৬][১][৭] তবে, তিনি বিধানসভায় বসা প্রথম মহিলা ছিলেন না কারণ সিবো কাই ১৯৭৮ সালের বিধানসভার মনোনীত সদস্য ছিলেন।[৮] ওয়েলী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (ইন্দিরা) দলের মোদি সেঙ্গি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (উরস) দলের গৌমসেং রিনোকে পরাজিত করেন।[৬] নির্বাচনে ওয়েলীর জয়ের পেছনে তাঁর স্বামীর প্রভাব কাজ করেছিল, তিনি এলাকার একজন শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন।[৪]
বিধানসভায় ওয়েলী বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং কনের মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয়গুলির মুখোমুখি হন। যখন তিনি এই প্রথাগুলিকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি বিল আনেন, তখন বিধানসভার পুরুষ সদস্যরা জোরের সঙ্গে তার প্রতিবাদ করেছিলেন।[৪]
১৯৮৪ সালের নির্বাচন
[সম্পাদনা]১৯৮৪ সালের অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ওয়েলী সেপ্পা আসনটি ধরে রেখেছিলেন। এবার তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ৩,৪১৯ ভোট (৩৫.৩৫%) পেয়েছিলেন এবং ৪৩ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাপে দাদাকে পরাজিত করেছিলেন। এই নির্বাচনেই নোয়াদিহিং নামপং আসন থেকে কামোলি মোসাং নামে দ্বিতীয় মহিলা বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।[৯]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]ন্যারি ওয়েলী নিশি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।[৭] তাঁর পুত্র আতুম ওয়েলী ২০১৩ সাল পর্যন্ত অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১] ন্যারি ওয়েলীর প্রধান শখ ছিল বাগান করা এবং বুনন।[২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 Echo of Arunachal. First elected woman MLA remembered ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ জুন ২০২৫ তারিখে
- 1 2 3 Arunachal News, Vol. 9, Eds. 1–4. 1980. pp. 27-28
- ↑ Mandal, Ramkrishna, and Minto Ete. Women in North East India: Role and Status of Arunachal Women. New Delhi: Mittal Publications, 2010. p. 58
- 1 2 3 Johsi, H. G. Arunachal Pradesh: Past and Present. New Delhi, India: Mittal Publications, 2005. pp. 122-123
- ↑ Election Commission of India. STATISTICAL REPORT ON GENERAL ELECTION, 1978 TO THE LEGISLATIVE ASSEMBLY OF ARUNACHAL PRADESH ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে
- 1 2 Election Commission of India. STATISTICAL REPORT ON GENERAL ELECTION, 1980 TO THE LEGISLATIVE ASSEMBLY OF ARUNACHAL PRADESH ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে
- 1 2 National Seminar on "Ethnic Groups of North East India: Problems Prospects", Indira Barua, Sarthak Sengupta, and Deepanjana Dutta Das. Ethnic Groups, Cultural Continuities, and Social Change in North East India. New Delhi: Mittal Publications, 1999. p. 259
- ↑ Arunachal Front. Arunachal to ink political history ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে
- ↑ Election Commission of India. STATISTICAL REPORT ON GENERAL ELECTION, 1984 TO THE LEGISLATIVE ASSEMBLY OF ARUNACHAL PRADESH ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে