নোয়েল হারফোর্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নোয়েল হারফোর্ড
নোয়েল হারফোর্ড.jpg
১৯৫৮ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে নোয়েল হারফোর্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনোয়েল শেরউইন হারফোর্ড
জন্ম(১৯৩০-০৮-৩০)৩০ আগস্ট ১৯৩০
উইন্টন, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু৩০ মার্চ ১৯৮১(1981-03-30) (বয়স ৫০)
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি স্লো-মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৭৪)
২৬ অক্টোবর ১৯৫৫ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট২৪ জুলাই ১৯৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৭৪
রানের সংখ্যা ২২৯ ৩১৪৯
ব্যাটিং গড় ১৫.২৬ ২৭.৬২
১০০/৫০ ০/২ ৩/১৮
সর্বোচ্চ রান ৯৩ ১৫৮
বল করেছে - ৯২৪
উইকেট - ১৮
বোলিং গড় - ২৬.৫৫
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং - ৩/১৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ৩৯/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৩ মার্চ ২০২০

নোয়েল শেরউইন হারফোর্ড (ইংরেজি: Noel Harford; জন্ম: ৩০ আগস্ট, ১৯৩০ - মৃত্যু: ৩০ মার্চ, ১৯৮১) উইন্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন নোয়েল হারফোর্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত নোয়েল হারফোর্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ডানহাতে পরিচ্ছন্ন ব্যাটিংশৈলী অধিকারী ছিলেন নোয়েল হারফোর্ড। ড্রাইভ ও পুলের দিকে বেশ শক্তিমত্তার পরিচয় দিলেও স্পিন ও রক্ষণাত্মক খেলায় তার বেশ দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। প্লাঙ্কেট শীল্ডে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও অকল্যান্ড - উভয় দলের পক্ষেই খেলেছেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় অকল্যান্ডের সদস্যরূপে খেলেন ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৩ রান তুলেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সময়কালে হক কাপে মানাওয়াতু, হকস বে ও ফ্রাঙ্কলিনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন নোয়েল হারফোর্ড।

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৭.৬২ গড়ে ৩,১৪৯ রান তুলেছেন। অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়াশৈলী উপহারের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫০-এর দশকে সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন নোয়েল হারফোর্ড। ২৬ অক্টোবর, ১৯৫৫ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৪ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। অংশগ্রহণকৃত টেস্ট খেলাগুলোয় ১৫.২৬ গড়ে ২২৯ রান তুলেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ও ভারত গমন করে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। তন্মধ্যে, লাহোরে অভিষেক ঘটা টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৩ ও ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন।[১] কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও অভিষেক ঘটা ঐ টেস্টেই তার সর্বাপেক্ষা সফলতম অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৫৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেন। ১৫৮ রান করেন তিনি। এটিই তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে চিত্রিত হয়। এ পর্যায়ে দলীয় অধিনায়ক জন রিডের সাথে দুই ঘণ্টা দশ মিনিটে ২০৪ রানের জুটি গড়েন।[২] এছাড়াও, গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ১২৭ রানের দূর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন তিনি।[৩] ঐ মৌসুমে চার টেস্টের আট ইনিংসে অংশ নিয়ে মাত্র ৪১ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। কেবলমাত্র একবারই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করার সুযোগ ঘটে। এজবাস্টন টেস্টে ২৩ রান তুলেন। একপর্যায়ে ফ্রেড ট্রুম্যানের বাউন্সারে মুখে আঘাত পান ও কিছু সময়ের জন্যে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলেন।[৪]

এ সফরের পর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। চারজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে এ সফরে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এ সফরটি ব্যাপক অর্থেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবল খেলায়ও পারদর্শী ছিলেন নোয়েল হারফোর্ড। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

৩০ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে ৫০ বছর বয়সে অকল্যান্ড এলাকায় নোয়েল হারফোর্ডের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Scorecard: Pakistan v New Zealand 1955-56"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০৬ 
  2. "Scorecard: Oxford University v New Zealanders 1958"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০৫ 
  3. Wisden 1959, p. 260.
  4. Wisden 1959, pp. 244-45.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]