নোবেল পুরস্কার ২০১৯

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

নোবেল পুরস্কার প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে ঘোষণা করার ঐতিহ্যকে মেনে ২০১৯ সালে বিভিন্ন বিষয়ের জন্য নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় যথাক্রমে ৭ অক্টোবর তারিখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে, ৮ অক্টোবর তারিখে পদার্থবিজ্ঞানে, ৯ অক্টোবর তারিখে রসায়নে, ১০ অক্টোবর তারিখে সাহিত্যে, ১১ অক্টোবর তারিখে শান্তিতে এবং ১৪ অক্টোবর তারিখে অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে।[১] এ বছর (২০১৯) মোট ১৪ জন ব্যক্তি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন; যাদের মধ্যে রয়েছে জাপানি (১ জন), কানাডীয় (১ জন), মার্কিন (৩ জন), ইংরেজ (২ জন), সুইস (২ জন), ভারতীয় (১ জন), ফরাসি (১ জন), ইথিওপিয়ান (১ জন), সুইডিশ (২ জন) ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০১৯[সম্পাদনা]

৭ অক্টোবর তারিখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করে সুইডেনের ক্যারোলিন্সকা ইনস্টিটিউটের নোবেল কমিটি।[২] মানবদেহে কোষ কীভাবে আক্সিজেনের উপস্থিতি টের পায় এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেয় তা আবিষ্কারের জন্য ২০১৯ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে যৌথভাবে উইলিয়াম কায়েলিন জুনিয়র, স্যার পিটার জে. র‍্যাটক্লিফগ্রেগ এল. সেমেনজাকে[৩] হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শাস্ত্রের অধ্যাপক ও ডানা ফার্বার ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষক উইলিয়াম কাইলিন ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এমন জেনেটিক সিনড্রম নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে ভিএইচএল নামের একটি জিন থেকে কীভাবে হাইপেল লিনডাউস নামের রোগের উৎপত্তি এবং এর সাথে অক্সিজেনের মাত্রার কী সম্পর্ক তা বের করেছেন; অপরদিকে, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক গ্রেগ সেমেনজা অপর্যাপ্ত অক্সিজেনের সাথে কীভাবে ক্যান্সারের কোষগুলো খাপ খাইয়ে নেয় তা আবিস্কার করেছেন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ডিরেক্টর পিটার র‌্যাটক্লিফ হাইপোক্সিয়া নামের একটি রোগে শরীরের কোষগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিয়ে গবেষণা করেছেন।[২] ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানায়, "ফিজিওলজির (শারীরবৃত্ত) ক্ষেত্রে তিনজনের এ আবিষ্কারের মৌলিক গুরুত্ব রয়েছে এবং তা রক্তশূন্যতা, ক্যান্সার ও আরও অনেক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আশাপ্রদ নতুন কৌশলের জন্য পথ করে দিয়েছে।"[৩]

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০১৯[সম্পাদনা]

রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির (দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স) নোবেল পুরস্কার বিষয়ক সমিতি ৮ অক্টোবর তারিখে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করে।[৪] ভৌত বিশ্বতত্ত্ব নামক জ্ঞানের শাখায় একাধিক তাত্ত্বিক আবিষ্কার এবং সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহ আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে জিম পিবল্‌স, মিশেল মাইয়রদিদিয়ে কেলোজকে ২০১৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।[৫] প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিম পিবলস ভৌত বিশ্বতাত্ত্বিক বিষয়াবলি নিয়ে প্রচুর তথ্য আবিষ্কার করেছেন; অপরদিকে, জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের নভোপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিশেল মাইয়র এবং জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিদিয়ে কেলোজ যৌথভাবে সৌরজগতের বাইরে বহির্গহ (এক্সোপ্ল্যানেট) নামক গ্রহ, যেটি অন্যান্য গ্রহের মতোই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে তা আবিষ্কার করেছেন।[৪] রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির নোবেল পুরস্কার সমিতি তাদের বিবৃতিতে জানায়, "মহাবিশ্বের কাঠামো অনুধাবন এবং সৌরজগতের বাইরে একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান গ্রহ আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে এই বছরের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তাদের আবিষ্কার আমাদের বিশ্ব সম্পর্কিত ধারণাগুলো চিরকালের জন্য পাল্টে দিয়েছে।।"[৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

]]।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আজ থেকে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা!"দৈনিক কালের কন্ঠ। ৭ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. "চিকিৎসায় নোবেল ২০১৯"ডয়েচ ভেলে বাংলা। ৭ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৯ 
  3. "চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ জন"ঢাকা ট্রিবিউন অনলাইন। ৭ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৯ 
  4. "পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ৮ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৯ 
  5. "মহাজাগতিক আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী"আরটিভি অনলাইন। ৮ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]