নেপাল ভাষার চার স্তম্ভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিষ্ঠানন্দ বজ্রাচার্য
সিদ্ধিদাস মহাজু
জগৎ সুন্দর মল্ল
যোগবীরসিং কংসকার

নেপাল ভাষার চার স্তম্ভ (নেপাল ভাষা: नेपाल भाषाया प्यंगः थां) বলতে দমনাত্মক রাণা শাসনামলে নেপাল ভাষা ও এর সাহিত্যে নেতৃত্বদানকারী চারজন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয়।[১] তাদের অবদান ২০শ শতাব্দীতে নেপাল ভাষার পুনর্জাগরণের পথ প্রদর্শন করে।[২]

তারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও প্রাণের ঝুঁকি সত্ত্বেও নেপাল ভাষায় সাহিত্য রচনা এবং আধুনিক নেপাল ভাষার উন্নয়নের সূচনা করেন। তাদের অবদান কাঠমান্ডুতে নেপাল ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে ভাষাটির শিক্ষা, গণমাধ্যম ও আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখে।

নেপাল ভাষার পুনর্জাগরণের চার স্তম্ভ হিসেবে সম্মানীত চারজন ব্যক্তি হলেন লেখক নিষ্ঠানন্দ বজ্রাচার্য, কবি সিদ্ধিদাস মহাজু, শিক্ষাবিদ জগৎ সুন্দর মল্ল এবং কবি যোগ বীর সিং কংসকার।

নিষ্ঠানন্দ বজ্রাচার্য[সম্পাদনা]

নিষ্ঠানন্দ বজ্রাচার্য (১৮৫৮ - ১৯৩৫) ধ্রুপদী ধারার সাহিত্যের বদলে আধুনিক ও সমসাময়িক ভাষায় গদ্য রচনা করে ভাষার যুগান্তর সাধন করেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বজ্রাচার্য এক বিশন্তি প্রজ্ঞাপারমিতা নামক একটি বই প্রকাশ করেন। এটি হলো নেপাল ভাষায় পরিবর্তনশীল টাইপ দ্বারা মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ললিত বিস্তারস্বয়ম্ভূ পুরাণ নামে তার দুইটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় বই ললিত বিস্তার বুদ্ধের প্রাথমিক জীবনের কাহিনী নিয়ে রচিত।[৩][৪]

সিদ্ধিদাস মহাজু[সম্পাদনা]

সিদ্ধিদাস মহাজু (বিকল্প নাম: সিদ্ধিদাস অমাত্য) (১৮৬৭ - ১৯২৯) হলেন নেপাল ভাষার সাহিত্যের উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণ প্রচেষ্টার অগ্রদূত। তাকে মহাকবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মহাজু কবিতা, মহাকাব্য, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ বিষয়ে ৪৪টিরও অধিক বই প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত উপদেশমূলক কবিতার বই সজ্জন হৃদয়াভরণ হলো তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ। এছাড়াও মহাজু ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল ভাষায় রামায়ণ মহাকাব্যের অনুবাদ গ্রন্থ সিদ্ধি রামায়ণ এর সম্পাদনা করেন।[৫][৬]

জগৎ সুন্দর মল্ল[সম্পাদনা]

জগৎ সুন্দর মল্ল (১৮৮২ - ১৯৫২) ছিলেন একজন শিক্ষক ও লেখক, যিনি সাধারণ মানুষের শিখার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকারের অননুমোদন উপেক্ষা করে নিজ গৃহে একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। তিনি ইংরেজি শিক্ষায় ওর দেওয়ার পাশাপাশি নেপালি ভাষায়ও পাঠ্যবই রচনা ও প্রকাশ করেন। কেননা, তিনি বিশ্বাস করতেন মাতৃভাষায় পাঠদান করলেই শিশুরা তাড়াতাড়ি শিখতে পারে।[৭][৮]

যোগবীরসিং কংসকার[সম্পাদনা]

যোগবীর সিংহ কংসকার (বিকল্প নাম: জোগবীর সিংহ কংসকার) (১৮৮৫ - ১৯৪২) হলেন একজন কবি ও সমাজ সংস্কারক, যিনি তার সারা জীবন তার মাতৃভাষার উন্নয়ন ও বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশে অবদান রেখে গেছেন। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে কংসকারের নেতৃত্বে একটি সমিতি নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি গ্রন্থাগার স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করে। অনুমতির বদলে সমিতির সকলকে কারাবরণ করতে হয়। তার সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে জনসম্মুখে বেত্রাঘাত করা হয়।[৯] ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল ভাষা পরিষদ থেকে কংসকারের কবিতাসমগ্র যোগ-সুধা নামে প্রকাশিত হয়।[১০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lienhard, Siegfried (1992). Songs of Nepal: An Anthology of Nevar Folksongs and Hymns. New Delhi: Motilal Banarsidas. আইএসবিএন ৮১-২০৮-০৯৬৩-৭. Page 1.
  2. Shrestha, Durga Lal (২০০০)। Twists and turns: A pick of Durga Lal Shrestha's poems। Kathmandu: Mandala Book Point।  Page viii.
  3. LeVine, Sarah and Gellner, David N. (2005) Rebuilding Buddhism: The Theravada Movement in Twentieth-Century Nepal. Harvard University Press. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-০১৯০৮-৯. Page 258. Retrieved 9 October 2012.
  4. Gellner, David N.। "Language, Caste, Religion and Territory: Newar Identity Ancient and Modern"। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১২  Page 129.
  5. "Contributions to Nepalese Studies, Volume 22"। Institute of Nepal and Asian Studies, Tribhuvan University। ১৯৯৫।  Page 74.
  6. Tuladhar, Prem Shanti (2000). Nepal Bhasa Sahityaya Itihas: The History of Nepalbhasa Literature. Kathmandu: Nepal Bhasa Academy. আইএসবিএন ৯৯৯৩৩-৫৬-০০-X. Page 84.
  7. Adams, Barbara (২০০৪)। "Master Jagat Sundar Malla: A prophet before his time"Barbara's Nepal। Adroit Pub। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১২ আইএসবিএন ৮১৮৭৩৯২৪৪৪.
  8. Hoek, Bert van den; Shrestha, Bal Gopal (জানুয়ারি ১৯৯৫)। "Education in the Mother Tongue: The Case of Nepal Bhasa" (PDF)CNAS Journal। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১২  Page 74.
  9. Sthavir, Dharmalok (১ ডিসেম্বর ১৯৭৭)। "A Journey to Great China"Regmi Research Series। Regmi Research। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১২  Pages 35-36.
  10. Dali, Indira (১৯৯১)। "Libraries and information centres" (PDF)Libraries and information centres in Nepal: CEDA library and documentation branch। Singapore: Asian Mass Communication Research & Information Centre। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Page 17.