নেপালের প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্ৰহালয়
| স্থাপিত | ১৯৭৫ |
|---|---|
| অবস্থান | স্বয়ম্ভুনাথ, কাঠমান্ডু, |
| স্থানাঙ্ক | ২৭°৪২′৫৩″ উত্তর ৮৫°১৭′১৬″ পূর্ব / ২৭.৭১৪৬° উত্তর ৮৫.২৮৭৮° পূর্ব |
| ধরন | প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালা |
| ওয়েবসাইট | http://nhmnepal.edu.np |
প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালা, নেপাল (নেপালি: प्राकृतिक इतिहास सङ्ग्रहालय नेपाल) বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান স্বয়ম্ভুনাথের নিকটে অবস্থিত। এই সংগ্রহশালাটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগ্রহশালাটি নেপালের উদ্ভিদ, প্রাণী ও ছত্রাকজাতীয় জীবের ৫০,০০০টিরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছে।[১]
প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালার সাময়িকী
[সম্পাদনা]প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর একটি সাময়িকী প্রকাশ করে আসছে। প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালার সাময়িকী শিরোনামের এই প্রকাশনাটি নেপালের প্রকৃতি বিষয়ক সর্বপ্রাচীন সাময়িকী। সংগ্রহশালাটি নেপালের বন্যপ্রাণী নিয়ে বহু বই ও ক্ষেত্র নির্দেশিকা (ফিল্ড গাইড) প্রকাশ করেছে।
সংগ্রহশালা ও সাইটিস (CITES)
[সম্পাদনা]এই সংগ্রহশালাটি নেপালে বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশনের (সাইটিস) প্রাণী সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। এটি শিক্ষকদের, শিক্ষার্থীদের এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য সাইটিস সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।[২]
নমুনাসমূহ
[সম্পাদনা]
এই সংগ্রহশালার বিশাল নমুনা সংগ্রহ নেপালের জীববৈচিত্র্যের একটি অনন্য ভান্ডার। এখানে প্রজাপতি ও মথের ১৪,৮৪৩টি, গুবরেপোকা বা বিটলের ৪,১৪২টি, ড্রাগনফ্লাইয়ের ১,৪৬৪টি এবং অন্যান্য পতঙ্গের ১,৬০৪টি নমুনা রয়েছে। এছাড়া নিম্ন কর্ডেটের ৬টি, মাছের ৮৯০টি, উভচরের ১০৭টি, সরীসৃপের ৩৯০টি এবং পাখির ১,১৯৪টি নমুনা রয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর নমুনা রয়েছে ২২৫টি, কঙ্কালের ২২টি নমুনা এবং জীবাশ্ম ও প্রাণীর দেহাংশের ৯৬৪টি নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়াও প্লাস্টিক-কাদামাটির তৈরি ১০৭টি মডেল এবং শিলা ও খনিজের ৭৪টি মডেল এখানে রয়েছে।
উদ্ভিদ ও ছত্রাকজাতীয় জীবের সংগ্রহও সমানভাবে চমকপ্রদ: শৈবাল (১২৪টি), ছত্রাক ও মাশরুম (২,৩২০টি), লাইকের (৬১টি), ব্রায়োফাইট (১,১২৪টি), ফার্নজাতীয় টেরিডোফাইট (৫০৭টি), জিমনোস্পার্ম (১৬৩টি), এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ (৫,০৩৪টি)।
সংগ্রহশালায় নেপালের একমাত্র স্থানীয় পাখি কাঁটাওয়ালা বাবলার একটি নমুনাও রয়েছে। চীনের বহিরাগত পাখি সোনালি রাজমোরগের একটি নমুনাও প্রদর্শিত হয়েছে।[২]
এছাড়াও বিশ্বের বৃহত্তম মথ প্রজাতি আটলাস মথের একটি নমুনা প্রদর্শিত রয়েছে।[২]
বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নমুনা
[সম্পাদনা]এই সংগ্রহশালাই বর্তমানে নেপালে মাউস হরিণের (ভারতীয় চেভরোটেইন) একমাত্র দেখা পাওয়া স্থান, যাকে বর্তমানে বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়।
অদ্ভুত নমুনা
[সম্পাদনা]সংগ্রহশালায় কিছু অদ্ভুত নমুনাও রয়েছে, যেমন আট পায়ের ছাগলের ভ্রূণ, চার পায়ের মুরগির ছানা এবং দুটি মাথাওয়ালা সাপ।
জীবাশ্ম
[সম্পাদনা]
এই সংগ্রহশালায় নেপালের প্রাগৈতিহাসিক যুগের কিছু নিদর্শনও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্কিডিসকোডন নামক একটি হাতি প্রজাতির জীবাশ্মময় খুলি, যারা শিবালিক পাহাড় এলাকায় বিচরণ করত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নমুনা হলো সিভাপিথেকাস নামক একটি মানবজাতীয় প্রজাতির দন্ত জীবাশ্ম। উক্ত খুলি ও দাঁতের বয়স যথাক্রমে প্রায় ৩০ লক্ষ এবং ৮–১০ মিলিয়ন বছর বলে অনুমান করা হয়।
সংগ্রহশালায় বিরল ও বিপন্ন প্রাণীর নমুনাও সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিশাল ঠোঁটওয়ালা হর্নবিল, সবুজ-বক্ষবিশিষ্ট পিট্টা, পেলিকান, ফ্ল্যামিঙ্গো, চিত্রিত বক, কালো-মুকুটবিশিষ্ট নিশীথ বক, বাদামি কাঠ-পেঁচা, ঝুঁটি-পরা সর্প ঈগল ইত্যাদি।
এছাড়া বিপন্ন প্রজাতি যেমন প্যানথেরা টাইগ্রিনা (বাঘের এক প্রকার) এবং ম্যানিস পেন্টাড্যাকটিলার (চীনা বনরুই) নমুনাও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Shrestha, Dr. Keshab (২০১০)। "In conversation with Kapil Bisht"।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 3 Bisht, Kapil। "In Flesh and Feathers"। ECS Nepal। ১৭ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১২।