নেত্রকোণায় উদীচীর কার্যালয়ে বোমা হামলা
| উদীচীর কার্যালয়ে বোমা হামলা | |
|---|---|
| স্থান | নেত্রকোণা, বাংলাদেশ |
| তারিখ | ৮ ডিসেম্বর ২০০৫ |
| লক্ষ্য | বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী |
| হামলার ধরন | বোমা হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ |
| নিহত | ৮ |
| আহত | ৫০ |
| হামলাকারী দল | জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ |
নেত্রকোণায় উদীচীর কার্যালয়ে বোমা হামলা হলো বাংলাদেশের নেত্রকোণায় সংঘটিত একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা।[১] ২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকালবেলায় ধর্মনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের বাইরে সংঘটিত এই বোমা হামলায় আটজন নিহত হন।[২][৩]
২০০৮ সালে ঘটনার সম্পৃক্ততায় জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন পলাতক ছিলেন এবং ২০২১ সালে একজনের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়।
বোমা হামলা
[সম্পাদনা]২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৯:৪০-এর দিকে নেত্রকোণার অজহর রোডে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয় সংলগ্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন শতদল গোষ্ঠীর কার্যালয়ে বোমা উদ্ধার করা হয়। দমকল বাহিনী বোমা নিষ্ক্রিয়করণের চেষ্টা করলেও বোমাটি বিস্ফোরিত হয়ে তিনজন আহত হন। ঘটনাস্থলে লোক জড়ো হলে সকাল ১০:৩০ নাগাদ হামলাকারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্বিতীয় আত্মঘাতী বোমাটি বিস্ফোরিত করেন। দুইজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও চারজন মারা হন। বোমার আঘাতে আরও প্রায় ৫০ জন আহত হন।[৪][৫] নিহতদের মধ্যে উদীচীর নেত্রকোণা সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলী অন্যতম।[৫]
বিচার ও তদন্ত
[সম্পাদনা]বোমা হামলার পরেই জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) উপর সন্দেহ কেন্দ্রীভূত হয়। সংগঠনটি এর পূর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিয়েছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে জেএমবির একটি প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়। হামলার দিনেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর যাদব দাস নামে নিহত একজনকে বোমা হামলার জন্য দায়ী করেন।[৬] স্থানীয় মানুষ এবং তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ হামলায় বাবরের প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে।[৭][৮][৯]
প্রাথমিক তদন্তের পর জানা যায়, আত্মঘাতী হামলাকারী সাইকেলের মাধ্যমে বোমা বহন করছিলেন। হামলার পর প্রথম কয়েকদিনে হামলাকারীর সংখ্যা একজন না কি দুইজন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।[১০] তখন থেকে পুলিশ তাদের অনুসন্ধান বোমা হামলায় নিহত তিন আত্মঘাতী হামলাকারীদের মধ্যে সীমিত করে আনতে সক্ষম হয়।[৮] হামলার প্রায় এক সপ্তাহ পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর হামলাকারীকে নিয়ে তার আগের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন এবং স্বীকার করেন যে, তদন্তে যাদব দাসকে নির্দোষ পাওয়া গিয়েছে।[৬]
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা থেকে আসাদুজ্জামান চৌধুরী ওরফে পনির এবং সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন নামে জেএমবির দুইজন সদস্যকে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করা হয়।[১১] ইউনুছ আলী নামের অপর আরেকজনকে অনুপস্থিত ধরে নিয়ে এই তিনজনকে বোমা হামলা মামলায় আসামী করা হয়। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় প্রকাশ করা হয়। আসাদুজ্জামান হাইকোর্টে মামলার রায়ের বিপক্ষে আপিল করলে ২০১৪ সালে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি সুপ্রীম কোর্টে পুনরায় আপিল করেন। সুপ্রীম কোর্ট ২০১৬ সালের ২৩ মে ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে রায় দেয়।[১২] ২০২১ সালের ১৫ জুলাই কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়।[১৩] সালেহীন ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান[১৪] এবং ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের হিসাব পর্যন্ত পলাতক ছিল।[১৫]
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেত্রকোণা জেলা শাখা হামলার প্রতিবাদে ১০ ডিসেম্বর তারিখে নেত্রকোণা শহরে পূর্ণদিন হরতাল ডাকে।[৪][১৬] ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বোমা হামলার নিন্দা করেন এবং বলেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারের সাথে জোটে থাকবে, সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে না। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও অন্যান্য দল হামলার নিন্দা জানায়।[১৭] সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর হামলায় আহতদের পরিদর্শন করে এবং সরকারের কাছে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানায়।[১৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ রিয়াজ, আলী (২০০৮)। Islamist Militancy in Bangladesh: A Complex Web (ইংরেজি ভাষায়)। রুটলেজ। পৃ. ১১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৪৫১৭২-৭।
- ↑ "Bangladesh suicide bombing kills 8"। সিএনএন (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Eight die, 50 hurt in Bangladesh bomb blast"। এবিসি নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। রয়টার্স। ৮ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- 1 2 রহমান, ইয়াছিনুর। "Seven killed in Netrokona in suicide bomb attack, 3rd Ld"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- 1 2 "Netrokona blast: 1 more succumbs, death toll rises to 8, 1st Ld"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ ডিসেম্বর ২০০৫।
- 1 2 "Babar takes U-turn to term Yadav innocent"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ ডিসেম্বর ২০০৫। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Netrokona dwellers refuse to accept Yadav as suicide bomber"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- 1 2 "Netrokona blast: Who's suicide bomber?"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ ডিসেম্বর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ দাস, বিশ্বজিৎ (১০ ডিসেম্বর ২০০৫)। "Yadav was coaxed to go to the spot"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "JMB bicycle bomber blows himself up: 7 killed"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ ডিসেম্বর ২০০৫। ২৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৫।
- ↑ "Bangla Bhai's wife, 2 JMB men jailed"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ আগস্ট ২০১০।
- ↑ "Netrakona suicide blasts: SC upholds death for JMB man"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ মার্চ ২০১৬।
- ↑ "Udichi bombing: JMB militant executed in Gazipur jail"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ জুলাই ২০২১।
- ↑ তালুকদার, কামাল হোসেন (১৮ আগস্ট ২০১৮)। "Militant leader Salehin yet to be caught"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ খান, মোহাম্মদ জামিল; ইসলাম, শরিফুল (১৪ এপ্রিল ২০২২)। "Where are the fugitive killers of Prof Humayun Azad?"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ "Daylong hartal observed in Netrokona peacefully; five AL activists injured in Atpara"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ ডিসেম্বর ২০০৫।
- ↑ "Netrakona bomb attacks condemned"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ ডিসেম্বর ২০০৫। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "SCBA team visits victims of bomb attacks in Netrokona"। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ২০০৫-এ বাংলাদেশে খুন
- ডিসেম্বর ২০০৫-এ বাংলাদেশের ঘটনা
- ২১শ শতাব্দীতে বাংলাদেশে গণহত্যা
- ২০০৫-এর ইসলামি সন্ত্রাসী ঘটনা
- ২০০৫-এ গণহত্যা
- ২০০৫-এ আত্মঘাতী বোমা হামলা
- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ঘটনা
- ডিসেম্বর ২০০৫-এ এশিয়ায় সংঘটিত অপরাধ
- বাংলাদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা
- নেত্রকোণা জেলা
- ২০০৫-এ ভবনে বোমা হামলা
- বাংলাদেশের ভবনে বোমা হামলা
- বাংলাদেশের দাপ্তরিক ভবনে হামলা