নূরন নবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
নূরন নবী
Replace this image male bn.svg
জন্ম ১৯৫১
টাঙ্গাইল
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতিসত্তা বাঙালি
নাগরিকত্ব  বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি
যে জন্য পরিচিত রাজনীতিবিদ
লেখক
মুক্তিযুদ্ধা
ধর্ম মুসলিম

ড. নূরন নবী (জন্মঃ ১৯৫১) বাংলাদেশের একজন অন্যতম মুক্তিযুদ্ধা, লেখক, বিজ্ঞানী এবং আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন রাজনীতিবীদ। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্লেইনসবরো শহরের কাউন্সিলর।[১] তিনি ‘কোলগেট টোটাল'-এর সহ-উদ্ভাবক এবং বুলেটস অফ ৭১- অ্য ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি এর লেখক[২][৩][৪]। মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে নিপুণ সমরকৌশলের জন্য তাকে 'দ্য ব্রেইন' বলা হয়।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

নূরন নবী টাঙ্গাইলের হেমনগর এস এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে এবং স্নাতক শেষে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ও ১৯৮০ সালে জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। যুক্তরাষ্ট্রের 'নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার'-এ মলিকুলার বায়োলোজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। [৫][৬][৭]

পরিবার[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ১৯৮০ সাল থেকে সপরিবারে বসবাস করা নূরন নবী ১৯৭৪ সালের ২৬ মে ড. জিনাত নবীকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রীও একজন বিজ্ঞানী। দুই ছেলে মুশফিক নবী ও আদনান নবীকে নিয়েই তাদের সংসার। [৫][৬][৭]

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নূরন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২৬ মার্চ প্রতিবাদী ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তানি বাহিনী গুলিবর্ষন করলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং কিছুদিন পর অহত অবস্থাতেই টাঙ্গাইল চলে যান। তার প্রখর সাংগঠনিক দক্ষতা বলে সুস্থ হওয়ার পরপরই ছাত্র, কৃষক, মজুরসহ সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে যোগ দেন টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনীতে[১]

নূরন নবী যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বার্তাবাহকের কাজে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি সম্মুখ যুদ্ধ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধা ও ভারতীয় কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনেরমত গুরত্বপূর্ন কাজ করেছেন। তিনি ভারতীয় সীমান্ত পাড় হয়ে মুক্তিযুদ্ধাদের অস্ত্রের জোগান দিতেন এবং ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর যখন ভারতীয় ছত্রীসেনা টাঙ্গাইলে অবতরণকারে তখন নূরন নবী অর্কেস্ট্রাবাদক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি 'কমিটি ফর দ্য রিয়ালাইজেশন অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার আইডলস অ্যান্ড ট্রায়াল ফর বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনালস' এর প্রতিষ্ঠাতা।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৬-৬৭ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ছাত্র আন্দোলনের ১১ দফা দাবি ও ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী নূরন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।[১] আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে সত্তরের নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

নূরন নবী আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে পরপর দুবার নিউ জার্সি রাজ্যের প্লেইনবরো শহরের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।[৮] 'ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) তারই গড়া। নূরন নবী যুক্তরাষ্ট্রের বঙ্গবন্ধু পরিষদেরও সভাপতি।[৯] ১৯৮০ সালে গঠিত 'কমিটি ফর ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ' গঠনেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্ভাবন[সম্পাদনা]

১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহস্থালি ও স্বাস্থ্যসামগ্রী নির্মাতা কোলগেট-পামঅলিভ কম্পানির গবেষণাগারে যোগ দিয়ে মলিকুলার বিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তারপর তাকে ওরাল কেয়ার রিসার্চের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর অব টেকনোলজি করা হয়। দাঁত পরিচর্যা নিয়ে গবেষনা করে অন্য বিজ্ঞানীদের সাথে ড. নূরন নবী 'কোলগেট টোটাল' উদ্ভাবন করেন। তিনি ৫০ টি প্যাটেন্টের অধিকারী। তার ৫০ এর অধিক প্রকাশনা রয়েছে। [১] এছাড়াও নূরন নবী অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। [৫][৬][৭]

সাংবাদিকতা[সম্পাদনা]

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের খবর নিয়ে 'প্রবাসী' নামে একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন যার সম্পাদক তিনি নিজেই।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালের ৬ মে সংখ্যায় ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ সাময়িকী মুক্তিযুদ্ধে দুঃসাহসী ভূমিকার জন্য ড. নূরন নবীকে টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর 'মাথা' বা 'দ্য ব্রেইন' আখ্যা দেয়।[১] গ্লোবাল টেকনোলজি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দাঁত পরিচর্যায় অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য, সিক্স চেয়ারম্যানসের 'ইউ ক্যান মেক অ্যা ডিফারেন্স' এবং ২০০৭ সালে নিউ জার্সির প্লেইনসবরো পৌরসভায় কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে পুরষ্কার দেওয়া হয়।

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]