বিষয়বস্তুতে চলুন

নুসরাত তাবাসসুম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি
২০২৫ সালে তাবাসসুম
জাতীয় সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৬ মে ২০২৬[]
নির্বাচনী এলাকাসংরক্ষিত আসন ৪৭
প্রধান সংগঠক, জাতীয় নারী শক্তি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৮ মার্চ ২০২৬
আহ্বায়কমনিরা শারমিন
সদস্য সচিবমাহমুদা মিতু
পূর্বসূরীসংগঠন প্রতিষ্ঠিত
যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
মার্চ ২০২৫
আহ্বায়কনাহিদ ইসলাম
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মনুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি
মার্চ ২০০১ (বয়স ২৫)
বাগোয়ান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া জেলা, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলজাতীয় নাগরিক পার্টি
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
(বি এস এস, এম এস এস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান)
পেশা
  • ছাত্রনেত্রী
  • রাজনৈতিক কর্মী
  • মানবাধিকার রক্ষাকর্মী
যে জন্য পরিচিতজুলাই অভ্যুত্থান
ডাকনামজ্যোতি

নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি একজন বাংলাদেশী জাতীয় সংসদ সদস্য, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।[] তিনি একজন ছাত্রনেত্রী, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবাধিকার রক্ষাকর্মী।[] তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নারী শাখা জাতীয় নারী শক্তির প্রধান সংগঠক।[] ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬জন প্রধান সমন্বয়কের একজন হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ওই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পতন ঘটে।[]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে নুসরাত অভ্যুত্থানের সময় বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সামনের সারির নেতৃত্ব দেন।[] ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক আটক করা হয়, এবং আটক হওয়া ছয়জন নেতার মধ্যে তিনি একমাত্র নারী সমন্বয়ক ছিলেন।[] আটক অবস্থায় তাকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হলেও ১ আগস্ট ২০২৪ তিনি মুক্তি পান এবং সাথে সাথেই আন্দোলনে পুনরায় যোগ দেন।[]

প্রাথমিক ও শিক্ষাজীবন

[সম্পাদনা]

নুসরাত তাবাসসুমের জন্ম আনুমানিক ২০০১ সালে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামে।[] তার বাবা-মা উভয়েই শিক্ষক; তার বাবা একজন স্কুলশিক্ষক হিসেবে কর্মরত।[] তিনি একটি রাজনৈতিকভাবে বৈচিত্র্যময় পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যেখানে তার বিস্তৃত পরিবারে চরম বাম থেকে চরম ডান পর্যন্ত বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা ছিল।[]

তিনি বাগোয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং বাগোয়ান কে.সি.ভি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার জন্য তিনি ড. ফজলুল হক গার্লস ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়ন করেন।[] শিক্ষাজীবনে তিনি বিতর্ক, হস্তশিল্প, আবৃত্তি ও নাটকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।[]

২০১৮ সালের জুলাইয়ে নুসরাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করার জন্য ঢাকায় আসেন এবং ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান করেন। এই সময়টি ২০১৮-র নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সঙ্গে মিলে যায়, যা তার রাজনৈতিক চেতনা গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।[] একই বছরের শেষদিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষ) অধ্যয়ন শুরু করেন।[] বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শামসুন্নাহার হলে অবস্থান করতেন।[]

রাজনৈতিক সক্রিয়তা

[সম্পাদনা]

প্রাথমিক সক্রিয়তা (২০১৮–২০২১)

[সম্পাদনা]

নুসরাতের প্রথম সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণ শুরু হয় ২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সময়, যাকে তিনি বাংলাদেশের জেনারেশন-জেডের রাজনৈতিক চেতনার 'সংজ্ঞায়িত মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[] কলেজ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি জিগাতলায় আন্দোলনে অংশ নেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা প্রত্যক্ষ করেন।[]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন, যার মধ্যে সাত কলেজের অধিভুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন উল্লেখযোগ্য।[] ২০১৯ সালে বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যার পরের আন্দোলনগুলোর অন্যতম প্রধান সংগঠকদের একজনও ছিলেন তিনি।[] ২০২১ সালের মার্চে তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন।[]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের পুরো সময়জুড়ে তিনি সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।[] শামসুন্নাহার হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা তিনি নির্যাতনের শিকার হন।[]

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ (২০২১–২০২৩)

[সম্পাদনা]

২০২১ সালের ১৭ মার্চ নুসরাত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।[] পরবর্তীতে তিনি ছয় মাসের জন্য একই শাখার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন, তবে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়ে সহকারী সাধারণ সম্পাদক হন।[]

তবে সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং তার মতে নেতা নুরুল হক নুর ক্যাম্পাসে ছাত্রকল্যাণের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছিলেন।[] এরপর আসিফ মাহমুদসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পুরো কমিটি নিয়ে তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।[]

গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি (২০২৩–২০২৪)

[সম্পাদনা]

ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগের পর নুসরাত গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তিতে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সংগঠক সম্পাদকদের একজন হন।[] ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আখতার হোসেনের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি গঠিত হয়, যেখানে নাহিদ ইসলাম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১০] পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়কারী হিসেবে যেসব নেতারা ভূমিকা রাখেন, তাদের অনেকের জন্যই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি একটি সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।[১০]

জুলাই অভ্যুত্থান (২০২৪)

[সম্পাদনা]

সমন্বয় ও নেতৃত্ব

[সম্পাদনা]

নুসরাত ২০২৪ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন, যা পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থানে তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সূচনা করে।[] কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আবির্ভূত হন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির সমন্বয়কদের একজন হয়ে ওঠেন।[]

২০২৪ সালের ৮ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব ৬৫ সদস্যে (২৩ জন সমন্বয়ক ও ৪২ জন সহ-সমন্বয়ক) সম্প্রসারিত হলে, নুসরাতকে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি থেকে অন্যতম প্রভাবশালী সমন্বয়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[১০] পুরো অভ্যুত্থান জুড়ে তিনি নারী আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[]

নারীদের সংগঠিতকরণ

[সম্পাদনা]

অভ্যুত্থান চলাকালে নারী শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে নুসরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের 'রাজাকার' বলে অভিহিত করার পর, নুসরাত সহকর্মী আন্দোলনকর্মী আশরেফার সঙ্গে সমন্বয় করে শামসুন্নাহার হল থেকে নারী শিক্ষার্থীদের বের করে আনেন।[] মাত্র ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় সব নারী হলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিতে সম্মত হন।[]

প্রায় ৫০০ নারী শিক্ষার্থী শামসুন্নাহার, রোকেয়া ও সুফিয়া কামাল হল থেকে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে নজিরবিহীন নারী অংশগ্রহণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।[] এই আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অভূতপূর্ব, যেখানে নুসরাতের মতো নেত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন।

আটক ও নির্যাতন

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালের ২৮ জুলাই ভোর প্রায় ৫টার দিকে নুসরাতকে মিরপুরের রূপনগরে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ১০–১৫ জন সাদা পোশাকধারী সশস্ত্র ব্যক্তি, যারা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্য বলে পরিচয় দেয়, তুলে নিয়ে যায়।[] তিনি ছয়জন শীর্ষ আন্দোলন নেতার মধ্যে একমাত্র নারী সমন্বয়ক হিসেবে আটক হন; অন্যদের মধ্যে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আবু বকর মজুমদার।[]

ডিবি হেফাজতে থাকাকালে নুসরাত তীব্র মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তাকে জানালাবিহীন একটি কক্ষে একাকীভাবে রাখা হয়, যেখানে সময় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না এবং সারাক্ষণ কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হতো।[] তিনি এই অভিজ্ঞতাকে কুখ্যাত “আয়নাঘর” আটককেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।[]

২৮ জুলাই রাত প্রায় ৮টার দিকে আটক ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয় থেকে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করতে বাধ্য করা হয়, যেখানে সব আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বলা হয়।[] তবে বাইরে থাকা অন্যান্য সমন্বয়ক—যাদের মধ্যে আবদুল কাদের, আবদুল হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার ছিলেন—তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান যে আটক নেতাদের জিম্মি করে জোরপূর্বক এই বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।[১১]

৩০ জুলাই নুসরাতসহ অন্যান্য আটক নেতারা দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ডিবি কার্যালয়ে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন।[] এই অনশন ৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরিবার ও গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয়, পরে ডিবি প্রধান ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।[]

মুক্তি ও আন্দোলনে প্রত্যাবর্তন

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালের ১ আগস্ট নুসরাত মুক্তি পান।[] শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পরও তিনি মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং মানসিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও দৃঢ় হন।[] তিনি মুক্তির পরপরই পুনরায় আন্দোলনে যোগ দেন এবং ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পূর্ববর্তী শেষ দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[]

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

জাতীয় নাগরিক পার্টি

[সম্পাদনা]

জুলাই অভ্যুত্থানের সাফল্য এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের পর নুসরাত একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।[১২] ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করলে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কদের একজন হিসেবে নিয়োগ পান এবং মনিরা শারমিন ও সামানতা শারমিনের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।[১২]

যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নুসরাত সমান প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বলেন, নারীদের নেতৃত্বকে আলাদাভাবে দেখা উচিত নয়; বরং জুলাই আন্দোলন দেখিয়েছে কীভাবে প্রয়োজনের সময় নারীরা সামনে এসে নেতৃত্ব দিতে পারে।[১২]

জাতীয় নারী শক্তি

[সম্পাদনা]

২০২৬ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এনসিপি তাদের নারী শাখা জাতীয় নারী শক্তি চালু করে।[] নুসরাতকে এই সংগঠনের প্রধান সংগঠক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে তিনি আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতুর সঙ্গে কাজ করেন।[] এই তিন নেত্রীই জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।[]

২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল জাতীয় নারী শক্তির পূর্ণাঙ্গ ৫৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে নুসরাতের প্রধান সংগঠক হিসেবে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।[১৩]

সংসদীয় প্রার্থিতা

[সম্পাদনা]

২০২৬ সালের এপ্রিলে ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আগে নুসরাতকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যার সদস্য ছিল এনসিপি।[]

২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তিনি বিকাল ৪টা ১৯ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা নির্ধারিত সময়সীমার (বিকাল ৪টা) ১৯ মিনিট পরে ছিল।[১৪] এ কারণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রথমে তার মনোনয়ন বাতিল করে।[১৪] তবে ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট আবেদন করেন, যাতে তার প্রার্থিতা পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।[১৪] বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আবেদন শুনে নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।[১৫]

২০২৬ সালের ২ মে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান নুসরাতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।[][] তিনি ৬ মে ২০২৬ সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।[১৬]

স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডার্স্ একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, নুসরাত তাবাসসুমকে একজন মানবাধিকার রক্ষাকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে তার নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।[] সংস্থাটি নুসরাতসহ আরও পাঁচজন ছাত্র সমন্বয়কের নির্বিচার আটক ও হয়রানির নিন্দা জানিয়ে এটিকে তাদের বৈধ মানবাধিকার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে।[]

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন দ্য গার্ডিয়ান এবং সিএনএন, নুসরাতের মতো ছাত্রনেতাদের ভূমিকাকে তুলে ধরে এই আন্দোলনকে বিশ্বের প্রথম সফল 'জেন জেড বিপ্লব' হিসেবে উল্লেখ করেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়, যেখানে নুসরাতকে বিশেষভাবে একজন গুরুত্বপূর্ণ নারী সমন্বয়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়; তিনি নারীদের অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেন এবং হামলার সময় মানবঢাল হিসেবেও ভূমিকা পালন করেন।[]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

নুসরাত 'জ্যোতি' ডাকনামে পরিচিত।[] তিনি ঢাকায় বসবাস করেন, তবে তার পারিবারিক বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে অবস্থিত।[]

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তার রাজনৈতিক চেতনা গঠনে প্রভাব ফেলেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলন এবং ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শাপলা চত্বর আন্দোলনের বিরোধী প্রতিক্রিয়া।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "সংসদের সর্বকনিষ্ঠ এমপি নুসরাত তাবাসসুম"দেশ রূপান্তর। ৮ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২৬
  2. 1 2 3 4 "EC declares NCP leader Nusrat Tabassum's nomination valid for reserved seat"দ্য ডেইলি স্টার। ২ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  3. 1 2 3 "Nusrat Tabassum"Front Line Defenders। ২ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  4. 1 2 3 4 "NCP expanding, four organisations formed, two more coming"প্রথম আলো। ১৩ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  5. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 "Nusrat Tabassum: 'I want to be the voice of the masses'"দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ১১ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  6. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 "July uprising was a struggle for ultimate justice: Nusrat Tabassum"বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। ৯ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  7. 1 2 "Police pick up quota reform protest coordinator Nusrat Tabassum"। The Business Standard। ২৮ জুলাই ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  8. 1 2 3 4 5 6 7 "Six human rights defenders from quota reform movement released after being coerced to announce the withdrawal of protests"Front Line Defenders। ১ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  9. 1 2 "Nusrat Tabassum to fight against two Rezas"। The Report। ১০ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  10. 1 2 3 "Asif, Nahid make history: From student activism to key govt roles"ঢাকা ট্রিবিউন। ৯ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  11. "Delegated leadership: The strategy behind the students-led uprising's success"। The Business Standard। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  12. 1 2 3 "Born from July Uprising, National Citizen Party aims centrist reset in Bangladesh politics"bdnews24.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  13. "NCP forms 53-member women's wing Jatiya Nari Shakti"নিউ এজ। ১৮ এপ্রিল ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  14. 1 2 3 "NCP's Nusrat Tabassum files writ petition to get nomination back"। Views Bangladesh। ২৭ এপ্রিল ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  15. "HC orders EC to accept Nusrat Tabassum's nomination papers"ঢাকা ট্রিবিউন। ২৮ এপ্রিল ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২৬
  16. "সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম"দৈনিক প্রথম আলো। ৬ মে ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]