নুর-উন-নিসা বেগম (জাহাঙ্গীরের স্ত্রী)
| নূর-উন-নিসা বেগম | |
|---|---|
| তৈমুরি শাহজাদী | |
| জন্ম | আনু. ১৫৭০ |
| দাম্পত্য সঙ্গী | জাহাঙ্গীর (বি. ১৫৯২; তার মৃত্যু ১৬২৭) |
| বংশধর | এক কন্যা |
| রাজবংশ | তৈমুরি |
| পিতা | ইব্রাহিম হোসেন মির্জা |
| মাতা | গুলরুখ বেগম |
| ধর্ম | ইসলাম |
নূর-উন-নিসা বেগম (ফার্সি: نورالنساء بیگم; জন্ম আনু. ১৫৭০) যার নামের অর্থ 'নারীদের মধ্যে আলো', ছিলেন একজন তৈমুরি শাহজাদী। তিনি ইব্রাহিম হোসেন মির্জার কন্যা এবং চতুর্থ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]জন্মসূত্রে একজন তৈমুরি শাহজাদী নূর-উন-নিসা বেগম ছিলেন শাহজাদা ইব্রাহিম হোসেন মির্জার কন্যা। তার পিতা আমির তৈমুর লঙের দ্বিতীয় পুত্র শাহজাদা উমর শেখ মির্জার বংশধর ছিলেন।[১] তার মা ছিলেন শাহজাদী গুলরুখ বেগম, যিনি প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের পুত্র শাহজাদা কামরান মির্জার কন্যা এবং পরবর্তী সম্রাট হুমায়ুনের ভাইঝি ছিলেন।[২] তার শাহজাদা মোজাফফর হোসেন মির্জা নামে এক ভাই ছিল, যিনি আকবরের জ্যেষ্ঠ কন্যা শাহজাদা খানমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।[৩]
১৫৭২ সালে গুলরুখ বেগম তার স্বামী ইব্রাহিম হোসেন মির্জার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কারণ আকবর তাকে গুজরাট ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি তার সন্তানদের নিয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে পালিয়ে যান। ইব্রাহিম হোসেন মির্জা, যিনি শেষ পর্যন্ত মুলতানের দিকে পালিয়েছিলেন, রাজকীয় কর্মকর্তাদের হাতে বন্দী হন। ১৫৭৩ সালে বন্দী অবস্থায় তিনি মারা যান।[৪]
দাক্ষিণাত্য যাওয়ার পথে খানদেশের শাসক গুলরুখ বেগম ও তার সন্তানদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করেন যখন তারা সেই দেশ অতিক্রম করছিলেন, কিন্তু তিনি সফল হননি। তবে নূর-উন-নিসা, যার বয়স তখন ছিল দুই বছর, তার হাতে ধরা পড়েন। আকবর যখন এই খবর পান, তিনি খানদেশের শাসক এবং নূর-উন-নিসা বেগমকে দরবারে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। দরবারে আসার পর তাকে আকবরের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয় এবং রাজকীয় হারেমের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।[৫]
১৫৭৭ সালে গুলরুখ বেগম এবং তার পুত্র মোজাফফর হোসেন গুজরাটে ফিরে আসেন এবং পুনরায় বিদ্রোহ শুরু করেন। তবে কিছু প্রাথমিক সফলতার পর মোজাফফর হোসেন রাজকীয় কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েন এবং কারারুদ্ধ হন। পুত্রের কারাবাসের পর গুলরুখ আগ্রায় তার কন্যার সাথে যোগ দেন।[৬]
বিবাহ
[সম্পাদনা]১৫৯১ সালের বসন্তে গুলরুখ বেগম আকবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহজাদা সেলিম মির্জার সাথে তার কন্যার বিবাহের অনুরোধ জানান। আকবর তার অনুরোধে সম্মত হন এবং তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। ১৫৯২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আকবরের মা সম্রাজ্ঞী হামিদা বানু বেগমের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।[৭] এর দুই বছরেরও বেশি সময় পর ১৫৯৪ সালে আকবর তার নিজের কন্যা শাহজাদা খানমকে নূর-উন-নিসার ভাই মোজাফফর হোসেন মির্জার সাথে বিবাহ দেন।[৮] ১৫৯৫ সালের ২৮ আগস্ট নূর-উন-নিসা এই দম্পতির একমাত্র সন্তান এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।[৯]
নূর-উন-নিসা তার ননদ শাহজাদা খানমের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং শাহজাদা খানমও তার প্রতি সৌজন্য ও শিষ্টাচারের নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতেন। ১৬১৪-১৫ সালে জাহাঙ্গীর তার আজমীর অবস্থানের সময় নূর-উন-নিসার মা গুলরুখ বেগমকে দেখতে যান, যিনি সেই সময় অসুস্থ ছিলেন। এই সময়ে "ধখিরাত-উল-খাওয়ানিন"-এর লেখক শেখ ফরিদ ভাক্কারি তার প্রতিষ্ঠানের দেওয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।[১০]
দেওয়ান-ই-কামরান
[সম্পাদনা]নূর-উন-নিসা বেগম "দেওয়ান-ই-কামরান"-এর মালিক ছিলেন, যা তার দাদা কামরান মির্জার লেখা কবিতার সংকলন ছিল। নূর-উন-নিসা এটি তিন মোহর দিয়ে ক্রয় করেছিলেন।[১১]
বংশপরিচয়
[সম্পাদনা]| নুর-উন-নিসা বেগম (জাহাঙ্গীরের স্ত্রী)-এর পূর্বপুরুষ | |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Blochmann, Henry (১৮৭৩)। The Ain i Akbari, Volume 1। Asiatic Society of Bengal। পৃ. ৪৬১।
- ↑ বেগম, গুলবদন (১৯০২)। The History of Humayun (Humayun-Nama)। Royal Asiatic Society। পৃ. ২৩৪।
- ↑ The Proceedings of the Indian History Congress। Indian History Congress। ২০০৪। পৃ. ৫৯৯।
- ↑ Khan, Iqtidar Alam (১৯৬৪)। Mirza Kamran: A Bibliographical Study। Asia Publishing House, New York। পৃ. ৫৮।
- ↑ Beveridge 1907, পৃ. 42-3।
- ↑ Medieval India Quarterly - Volume 4। Department of History, Aligarh Muslim University। ১৯৬১। পৃ. ১০১।
- ↑ Beveridge 1907, পৃ. 969-970।
- ↑ Beveridge 1907, পৃ. 990।
- ↑ Beveridge 1907, পৃ. 1031।
- ↑ Bhakkari, Shaikh Farid (১৯৯৩)। The Dhakhiratul-khawanin: a biographical dictionary of Mughal noblewomen। Idarah-i Adabiyat-i Dehli। পৃ. xv।
- ↑ Hasan, Saiyid Nurul; Ahmad, Nazir; Chandra, Satish; Siddiqi, W. H. (২০০৩)। Studies in archeology and history: cemmemoration volume of Prof. S. Nurul Hasan। Rampur Raza Library। পৃ. ২৫২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮-১৮৭-১১৩৫৭-৭।
উৎস
[সম্পাদনা]- Beveridge, Henry (১৯০৭)। Akbarnama of Abu'l-Fazl ibn Mubarak - Volume III। Asiatic Society, Calcutta।