নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা
| নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা | |
|---|---|
| অবস্থান | দক্ষিণ ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ১১°৩৩′০০″ উত্তর ৭৬°৩৭′৩০″ পূর্ব / ১১.৫৫০০০° উত্তর ৭৬.৬২৫০০° পূর্ব |
| আয়তন | ৫,৫২০ বর্গকিলোমিটার (২,১৩০ বর্গমাইল) |
| স্থাপিত | ১৯৮৬ |
| কর্তৃপক্ষ | তামিলনাড়ু বন বিভাগ, কর্ণাটক বন বিভাগ, কেরালা বন বিভাগ, প্রজেক্ট টাইগার |
| ওয়েবসাইট | www |
নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা হল দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নীলগিরি পর্বতমালায় অবস্থিত একটি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা। এটি ভারতের বৃহত্তম সংরক্ষিত বনভূমি, যা তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও কেরালা জুড়ে বিস্তৃত। এর অন্তর্ভুক্ত সংরক্ষিত এলাকাগুলি হলো তামিলনাড়ুর মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান, মুকুরথি জাতীয় উদ্যান, সত্যমঙ্গলম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য; কর্ণাটকের নাগরহোল জাতীয় উদ্যান, বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান ; এবং কেরালার সাইলেন্ট ভ্যালি জাতীয় উদ্যান, আরালাম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ওয়নাড বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও করিম্পুঝা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ।
১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনেস্কো ‘ম্যান অ্যাণ্ড বায়োস্ফিয়ার’ কর্মসূচির আওতায় নীলগিরি পর্বতমালা ও এর সংলগ্ন প্রায় ৫,০০০ বর্গকিলোমিটার (১,৯০০ বর্গমাইল) এলাকা নিয়ে গঠিত বাস্তুতন্ত্রকে ‘নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ বা নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা হল ভারতের প্রথম এবং সর্বপ্রধান একটি ঐতিহ্যবাহী জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত দ্বারা সমৃদ্ধ। টোডা, কোটাস, ইরুল্লা, কুরুম্বা, পানিয়া, আদিয়ান, ইদানাদান চেটিস, আল্লার এবং মালয়ান প্রভৃতি উপজাতীয় গোষ্ঠী এই সংরক্ষিত অঞ্চলের অধিবাসী।[১]
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]নীলগিরি শব্দটি তামিল শব্দ 'নীলম' ( যার অর্থ নীল) এবং সংস্কৃত শব্দ 'গিরি' (যার অর্থ পর্বত) থেকে উদ্ভূত হয়েছে।[২] মনে করা হয় যে কুরিঞ্জি ঝোপের নীলচে ফুল থেকে এই নামের উৎপত্তি হয়েছে।[৩]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৭০-এর দশকে, নীলগিরি পর্বতমালার অন্তর্গত প্রায় ৫,৬৭০ বর্গকিলোমিটার (২,১৯০ বর্গমাইল) এলাকাকে ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবিত এলাকাটি ২,২৯০ বর্গকিলোমিটার (৮৮০ বর্গমাইল) একরের একটি বনভূমি অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ২,০২০ বর্গকিলোমিটার (৭৮০ বর্গমাইল) এলাকার একটি কেন্দ্রীয় অঞ্চল আছে, ১,৩৩০ বর্গকিলোমিটার (৫১০ বর্গমাইল) একটি কৃষি অঞ্চল আছে এবং ৩০ বর্গকিলোমিটার (১২ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে একটি পুনরুদ্ধার অঞ্চল আছে। নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ইউনেস্কোর 'ম্যান অ্যাণ্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার' কর্মসূচির অধীনে ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
ভূগোল
[সম্পাদনা]
নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চল কোড়গু জেলার পূর্ব অংশ থেকে পূর্বে ইরোড জেলা এবং দক্ষিণে পালঘাট গিরিপথ পর্যন্ত ৫,৫২০ বর্গকিলোমিটার (২,১৩০ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর উচ্চতা ৮০ থেকে ২,৬০০ মিটার (২৬০ থেকে ৮,৫৩০ ফুট) পর্যন্ত রয়েছে। এর একটি বাফার জোন রয়েছে, যেটি ৪,২৮০ বর্গকিলোমিটার (১,৬৫০ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কেন্দ্রীয় এলাকাটির মোট ক্ষেত্র ১,২৫০.৩ বর্গকিলোমিটার (৪৮২.৭ বর্গমাইল), যার মধ্যে কর্নাটকে রয়েছে ৭০১.৮ বর্গকিলোমিটার (২৭১.০ বর্গমাইল) অঞ্চল, কেরালায় ২৬৪.৫ বর্গকিলোমিটার (১০২.১ বর্গমাইল) অঞ্চল এবং তামিলনাড়ুতে ২৭৪ বর্গকিলোমিটার (১০৬ বর্গমাইল) অঞ্চল।
এই সংরক্ষিত এলাকাটি ঘাটের পশ্চিম ঢালের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী বন এবং ক্রান্তীয় আর্দ্র বন থেকে পূর্ব ঢালের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণমোচী বন এবং ক্রান্তীয় শুষ্ক বন পর্যন্ত বিস্তৃত। বৃষ্টিপাতের পরিমান প্রতি বছরে ৫০০–৭,০০০ মিলিমিটার (২০–২৭৬ ইঞ্চি)। এই সংরক্ষিত এলাকাটি তিনটি বাস্তুঅঞ্চল নিয়ে গঠিত: দক্ষিণ পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য, দক্ষিণ পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পার্বত্য বৃষ্টি অরণ্য এবং দক্ষিণ দাক্ষিণাত্য মালভূমির শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য।[৪]
ফ্লোরা
[সম্পাদনা]
নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চলে ৩,৭০০-এরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০টি ঔষধি উদ্ভিদ; ১৩২টি স্থানীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ, যেগুলি নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের স্থানিক উদ্ভিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ১,৮০০ মিটার (৫,৯০০ ফুট) উপরে শোলা বনের খণ্ডাংশে খর্বাকৃতির চিরসবুজ গাছ জন্মায় এবং অঞ্চলটি পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ দ্বারা সজ্জিত।[৫]
দৈত্যাকার মৌমাছিরা (Apis dorsata) বাসা তৈরির জন্য ১৮ মিটার (৫৯ ফুট)-এর বেশি উচ্চতার লম্বা গাছ ব্যবহার করে, যার মধ্যে রয়েছে Tetrameles nudiflora, ভারতীয় লরেল (Ficus microcarpa), করমণ্ডেল এবনি (Diospyros melanoxylon), হলুদ সর্পবৃক্ষ (Stereospermum tetragonum), মরিচা কমলা (Mallotus tetracoccus) এবং Acrocarpus fraxinifolius প্রজাতি।[৬] জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ফুল ফোটার ভরা মরশুমে সেগুন (Tectona grandis), লাল দেবদারু (Erythroxylum monogynum), হিপটেজ (Hiptage benghalensis), বড় ফুলযুক্ত তেজপাতা গাছ (Persea macrantha), জুনা বেরি (Ziziphus rugosa) এবং ক্রিপিং স্মার্টউইড (Persicaria chinensis) সহ অন্তত ৭৩টি প্রজাতির গাছে ফুল ফোটে। এরা দৈত্যাকার মৌমাছি, এশীয় মৌমাছি ( Apis cerana ), লাল বামন মৌমাছি ( A. florea ) এবং ত্রিগোনা মৌমাছির ওপর নির্ভর করে পরাগায়নের জন্য।[৭]
প্রাণীজগত
[সম্পাদনা]পাখি
[সম্পাদনা]নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত অঞ্চলে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ১৪টি স্থানীয় প্রজাতির পাখি রয়েছে। এদের মধ্যে, নীলগিরি লাফিংথ্রাশ (Strophocincla cachinnans) শুধুমাত্র ১,২০০ মিটার (৩,৯০০ ফুট)-এর বেশি উচ্চতায় বাস করে। অন্যান্য স্থানিক এবং প্রায়-স্থানিক প্রজাতির মধ্যে রয়েছে নীলগিরি কাঠ পায়রা, মালাবার ধূসর ধনেশ, মালাবার টিয়া, সাদা-পেট গাছ-পাই, সাদা-পেট খাটো ডানাওয়ালা, ধূসর-মাথা বুলবুল, ধূসর-বুক লাফিংথ্রাশ, লালচে বাবলার, কালো-ও-লালচে ফ্লাইক্যাচার, নীলগিরি ফ্লাইক্যাচার এবং নীলগিরি পিপিট।[৪]
স্তন্যপায়ী প্রাণী
[সম্পাদনা]নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে ভারতের বৃহত্তম এশীয় হাতির (Elephas maximus) সংখ্যা রয়েছে, ২০০৭ সাল নাগাদ যার সংখ্যা আনুমানিক ৫,৭৫০টি ছিল বলে ধারণা করা হয়। ৫৬২–৮০০ বর্গকিলোমিটার (২১৭–৩০৯ বর্গমাইল) অঞ্চলের মধ্যে পশুর পাল চলাচল করে। তারা বিশাল বিচরণক্ষেত্র এবং শুষ্ক মরশুমে বারোমাসের জলের উৎসে একত্রিত হয়।[৮]
এখানকার প্রাণিকুলের মধ্যে রয়েছে ১০০টিরও বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩৭০ প্রজাতির পাখি, ৮০ প্রজাতির সরীসৃপ, প্রায় ৩৯ প্রজাতির মাছ, ৩১ প্রজাতির উভচর প্রাণী এবং ৩১৬ প্রজাতির প্রজাপতি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ] এটি বেঙ্গল টাইগার, ভারতীয় চিতাবাঘ, চিতল হরিণ, গৌর, সম্বর হরিণ, ঢোল, সোনালী শেয়াল, ভারতীয় বুনো শুয়োর, নীলগিরি তাহর, ভারতীয় চিতি শেভরোটেইন, কৃষ্ণসার হরিণ, এশীয় তাল খাটাশ, স্লথ ভালুক, চার শিংওয়ালা অ্যান্টিলোপ, নীলগিরি মার্টেন, ভারতীয় ঝুঁটিওয়ালা সজারু, মালাবার দৈত্যাকার কাঠবিড়ালি, হানি ব্যাজার, ভারতীয় ধূসর নেউল, ভারতীয় প্যাঙ্গোলিন, ভারতীয় শিয়াল, মসৃণ লোমযুক্ত উদবিড়াল এবং চিত্রিত বাদুড়ের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আবাসস্থল। প্রাইমেটদের মধ্যে রয়েছে লায়ন টেইলড ম্যাকাক, নীলগিরি ল্যাঙ্গুর, গ্রে ল্যাঙ্গুর এবং বনেট ম্যাকাক।
উভচর এবং সরীসৃপ
[সম্পাদনা]উভচর প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে পার্পল ফ্রগ, সাইলেন্ট ভ্যালি ব্রাশ ফ্রগ, মালাবার গ্লাইডিং ফ্রগ, বেডডোমিক্সালাস। ভারতের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ উভচর প্রজাতি এই অঞ্চলের স্থানীয় এবং প্রায় নব্বই প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে, যার মধ্যে ব্র্যাকিওপিহিডিয়াম, দ্রাভিদোগেকো, মেলানোফিডাম, রিস্টেলা, সালেয়া, প্লেকট্রুরাস, টেরেট্রুরাস এবং জাইলোফিস গণ অন্তর্ভুক্ত।[৪]
ঝুঁকি
[সম্পাদনা]
সংরক্ষিত এলাকার বাইরের শোলা বনগুলি, বিশেষ করে বসতির কাছাকাছি অবস্থিত বনাঞ্চল, খণ্ডীকরণের কারণে হুমকির সম্মুখীন।[৫] আগ্রাসী প্যাসিফ্লোরা মলিসিমা উদ্ভিদের দ্রুত ও ঘন বৃদ্ধি শোলা বনাঞ্চলের খণ্ডগুলিতে দেশীয় বৃক্ষ প্রজাতির পুনর্জন্মকে বাধা দেয়।[৯]
অবৈধ শিকার, বন উজাড়, দাবানল এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি বিপদই প্রধান হুমকি। ১৯৭২ সালে আইন করে চোরা শিকার নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও, মানুষ এখনও চামড়া, পশম বা দাঁতের জন্য বাঘ, হাতি এবং চিতলের মতো প্রাণী অবৈধভাবে শিকার করে থাকে।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- ভারতীয় বন গবেষণা ও শিক্ষা পরিষদ
- নীলগিরি - একটি ভাগ করা বন্যতা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "About Nilgiri Biosphere Reserve (NBR)"। Nilgiri Biosphere Reserve। ২৪ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১২।
- ↑ Lengerke, H.J. (১৯৭৭)। The Nilgiris: Weather and Climate of a Mountain Area in South India (ইংরেজি ভাষায়)। Steiner। পৃ. ৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৫১৫-০২৬৪০-৬।
- ↑ "Decline of a Montane Ecosystem"। Kartik Shanker Centre for Ecological Sciences, Indian Institute of Science। ১৯৯৭।
- 1 2 3 Wikramanayake, Eric D. (২০০২)। Terrestrial ecoregions of the Indo-Pacific: a Conservation Assessment। Island Press। পৃ. ২৮৪–২৮৫। আইএসবিএন ১-৫৫৯৬৩-৯২৩-৭। ওসিএলসি 48435361।
- 1 2 Chandrashekara, U.M.; Muraleedharan, P.K. (২০০৬)। "Anthropogenic pressure on structure and composition of a shola forest in Kerala, India"। Journal of Mountain Science। ৩ (1): ৫৮–৭০। ডিওআই:10.1007/s11629-006-0058-0। এস২সিআইডি 55780505।
- ↑ Thomas, S.G.; Varghese, A. (২০০৯)। "Characteristics of trees used as nest sites by Apis dorsata (Hymenoptera, Apidae) in the Nilgiri Biosphere Reserve, India" (পিডিএফ)। Journal of Tropical Ecology। ২৫ (5): ৫৫৯–৫৬২। ডিওআই:10.1017/S026646740900621X। এস২সিআইডি 22832468।
- ↑ Thomas, S.G.; Rehel, M.S. (২০০৯)। "Social bees and food plant associations in the Nilgiri Biosphere Reserve, India"। Tropical Ecology। ৫০ (1): ৭৯–৮৮।
- ↑ Baskaran N.; Kanakasabai, R. (২০১৮)। "Ranging and spacing behaviour of Asian Elephant (Elephas maximus Linnaeus) in the tropical forests of Southern India"। Indian Hotspots। Springer। পৃ. ২৯৫–৩১৫। ডিওআই:10.1007/978-981-10-6605-4_15। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮১-১০-৬৬০৪-৭।
- ↑ Jose, F.C. (২০১২)। "The 'living fossil' shola plant community is under threat in upper Nilgiris"। Current Science। ১০২ (8): ১০৯১–১০৯২।
টেমপ্লেট:Protected areas of Karnatakaটেমপ্লেট:Protected areas of Keralaটেমপ্লেট:Protected areas of Tamil Naduটেমপ্লেট:Kerala topicsটেমপ্লেট:Tourism in Kerala