নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়
জন্ম১৮৪২
মৃত্যু১৯১১
জাতিসত্তাবাঙালি
আন্দোলনবাঙালি যাত্রাভিনেতা

নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায় (জন্মঃ ১৮৪২ - মৃত্যুঃ ১৯১১) বাংলা ভাষার উনিশ শতকের যাত্রা পালার অভিনেতা এবং গীতিকার। তিনি বর্ধমান জেলার ধরণী গ্রাম নিবাসী ছিলেন।[১] মাত্র তের বছর বয়সে পিতৃহীন নীলকণ্ঠ কলকাতার বড়বাজারে এক মাড়োয়াড়ীর বাসনের দোকানে কাজ নিতে বাধ্য হন। সুকণ্ঠ ও সুবিনয়ী নীলকণ্ঠকে স্বেচ্ছায় গান শিখিয়ে দেন তাঁর নিয়োগকারীর রক্ষিতা। সেই গানের সম্পদ ও সংগীতবিদ্যা নিয়ে নীলকণ্ঠ স্বগ্রামে ফিরে আসেন এবং কৃষ্ণযাত্রার দলে জীবিকা সংগ্রহ করেন। পরে তাঁর নিজের দল হয়। তার আগে তিনি গোবিন্দ অধিকারীর দলে বেতনভুক গায়কতা করেছেন।[২] দাশরথি রায়ের ভাবশিষ্য ছিলেন।[৩]

জন্ম ও শৈশব[সম্পাদনা]

নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম বর্ধমানের ধওবানিতে। গ্রামের পাঠশালায় কিছুদিন অধ্যয়ন করেন।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের রচিত ‘কৃষ্ণযাত্রা’ বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং বাঁকুড়া অঞ্চলে খুব খ্যাতিলাভ করেছিল। ‘কালীর দমন’ (কৃষ্ণলীলা) তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ যাত্রাপালা। তিনি নিজে ওই যাত্রায় রাধার সখীরূপে অত্যন্ত সুন্দর অভিনয় ও গান করতেন।[১] তাঁর রচিত 'তপন তনয় ভব হর বব বম্ বম্' পদটি অকার ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণ, যুক্তাক্ষর বা চন্দ্রবিন্দু-বর্জিত। তিনি অভিনয় ও পালা রচনার জন্য নবদ্বীপের পণ্ডিতদের কাছ থেকে ‘গীতরত্ন’ উপাধি অর্জন করেন।[১][৩] সেকালকার কলকাতার বিদগ্ধ সমাজ নীলকণ্ঠের কৃষ্ণযাত্রার প্রচুর সমঝদারি করেছেন।[২]

শেষ বয়সে হেতমপুরের রাজা রামচন্দ্র চক্রবর্তীর কাছে থাকতেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃতে উল্লিখিত ব্যক্তিবৃন্দের পরিচয়"ramakrishnavivekananda 
  2. সুধীর চক্রবর্তী; বাংলা গানের সন্ধানে, অরুণা প্রকাশনী কলকাতা; ২৫ বৈশাখ, ১৩৯৭; পৃষ্ঠা- ৪৭।
  3. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩৭১

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]