স্থানাঙ্ক: ২৩°৪২′৫০″ উত্তর ৮৬°৫২′৫০″ পূর্ব / ২৩.৭১৩৮৩৫° উত্তর ৮৬.৮৮০৬৯৪° পূর্ব / 23.713835; 86.880694

নিয়ামতপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নিয়ামতপুর
আসানসোলের প্রতিবেশী অঞ্চল
নিয়ামতপুর পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
নিয়ামতপুর
নিয়ামতপুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে নিয়ামতপুরের অবস্থানচিত্র
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪২′৫০″ উত্তর ৮৬°৫২′৫০″ পূর্ব / ২৩.৭১৩৮৩৫° উত্তর ৮৬.৮৮০৬৯৪° পূর্ব / 23.713835; 86.880694
দেশ ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
জেলাপশ্চিম বর্ধমান জেলা
শহরআসানসোল
পৌরসংস্থাআসানসোল পৌরসংস্থা
এএমসি ওয়ার্ডওয়ার্ড নং. ১৯,৫৯,৬০,৬১
ভাষা
 • অফিসিয়ালবাংলা, ইংরেজি
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
লোকসভা কেন্দ্রআসানসোল
বিধানসভা কেন্দ্রকুলটি
ওয়েবসাইটbardhaman.gov.in

নিয়ামতপুর হল ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের একটি প্রতিবেশী অঞ্চল। এটি আসানসোল পৌরসংস্থা দ্বারা পরিচালিত।[১]

ভৌগোলিক অঞ্চল[সম্পাদনা]

অবস্থান[সম্পাদনা]

নিয়ামতপুরের অবস্থান হল ২৩°৪২′৫০″ উত্তর ৮৬°৫২′৫০″ পূর্ব / ২৩.৭১৩৮৩৫° উত্তর ৮৬.৮৮০৬৯৪° পূর্ব / 23.713835; 86.880694। সমুদ্র থেকে এই অঞ্চলের উচ্চতা ১০০ মি (৩৩০ ফু)।

আসানসোল ঢেউ খেলানো ল্যাটেরাইট অঞ্চল দ্বারা গঠিত। দামোদর এবং অজয় ​​এই অঞ্চল দুটি শক্তিশালী নদীর মধ্যে অবস্থিত। এ অঞ্চলে উপর দিয়ে একে-অপরের সাথে সমান্তরালভাবে প্রবাহিত হয়, দুটি নদীর মাঝখানের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলটিতে প্রচুর বনভূমি সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে ডাকাত এবং খুনিদের নিরাপদ আশ্রয় স্থর হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে কয়লার আবিষ্কারের ফলে এই অঞ্চলটি শিল্পায়নের দিকে পরিচালিত হয়েছিল কিন্তু তার ফলে বেশিরভাগ বনভূমি সাফ হয়ে গেছে।[২] আসানসোলের পশ্চিম সীমানায় বরাকর, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাথে সীমানা গঠন করেছে। প্রধান রেলওয়ে স্টেশনগুলি হল আসানসোল জংশন রেলওয়ে স্টেশন এবং সীতারামপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন।

নগরায়ন[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, আসানসোল সদর মহকুমার জনসংখ্যার ৮৩.৩৩% শহুরে এবং ১৬.৬৭% গ্রামীণ ছিল।[৩] আসানসোল সদর মহকুমার ২৬ (+১ আংশিকভাবে) আদমশুমারি শহর রয়েছে।

আসানসোল পৌরসংস্থা[সম্পাদনা]

৩ জুন ২০১৫ সালের কলকাতা গেজেটের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কুলটি, রানীগঞ্জ এবং জামুরিয়া পৌরসভা অঞ্চলগুলি আসানসোল পৌরসংস্থা অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।[৪]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

নিয়ামতপুর অঞ্চল কয়লা খনির প্রাণকেন্দ্রে।[৫] নিয়ামতপুরের লিথুরিয়া রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের কেন্দ্রীয় কর্মশালা। নিয়ামতপুরের কিছু লোক রেলের কাজ করেন। বর্তমানে তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও নিয়ামতপুরে কোন থানা নেই। নিয়ামতপুর কুলটি থানার অধীনে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী শহর আসানসোল হওয়ার ফলে নিয়ামতপুর একটি ব্যস্ত ব্যবসায়িক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নিয়ামতপুরের ইতিহাস: হরিহর রায় এবং মাধব রয় বেলরুইয়ের জমিদার ছিলেন। জাতিতে বাগদি বা আগুড়ি সম্প্রদায় ভুক্ত। ইতিহাস অনুযায়ী এই পরিবার কাশিপুর রাজাদের লেঠেল ছিলেন এবং তাদের গোয়াল ঘরের সেবক। এই বংশ পদবী রয়, কাশিপুর রাজ থেকে পাওয়া উপাধি। এনারা আসানসোলের অনেক স্থানে ছড়িয়ে আছেন।

মৌলানা আব্দুর রসিদ নিয়ামতপুর জামা মসজিদের ইমাম এবং বেলরুই এন.জি. উচ্চ বিদ্যালয শিক্ষিক ছিলেন। যদিও তাঁর জন্ম ঢাকার (বাংলাদেশ) হলেও তিনি নিয়ামতপুরে অভিবাসিত হয়ে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। তাঁর প্রবন্ধগুলি এই অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারের জন্য অবিস্মরণীয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর নামটি যুক্ত করে ১৯৮৯ সালে মৌলানা আব্দুর রসিদ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

কয়লা খনির ইতিহাস এবং নিয়ামতপুর পুলিশ:

নিয়ামতপুর তদন্ত কেন্দ্রটি বর্ধমান জেলার অন্যতম প্রাচীন তদন্ত কেন্দ্রের মধ্যে একটি। ১৯৭৩ সালে বাঁকুড়া জেলা গঠিত হওয়ার সময় আসানসোল-রাণীগঞ্জ এলাকা বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত ছিল। ১৮৪৭ সালে রাণীগঞ্জ মহকুমায় তিনটি থানা গঠিত হয়েছিল রাণীগঞ্জ, কাঁকসা এবং নিয়ামতপুর এবং এটি বর্ধমান জেলার একটি অংশ ছিল। ১৯০৬ সালে মহকুমা সদর দফতরটি আসানসোলে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী মহকুমার নামকরণ করা হয়। ১৯১০ সালে আসানসোল মহকুমার থানাগুলি ছিল - আসানসোল, রানীগঞ্জ, কাঁকসা, ফরিদপুর এবং বরাকর। ২০০৬ সাল থেকে আসানসোল মহকুমায় নিম্নলিখিত থানাগুলি রয়েছে: চিত্তরঞ্জন, সালানপুর, বরাবনি, আসানসোল (উত্তর), আসানসোল (দক্ষিণ), রানীগঞ্জ, জামুরিয়া, হীরাপুর এবং কুলটি। ১৯৬৮ সালে দুর্গাপুর মহকুমা আসানসোল মহকুমা থেকে উত্কীর্ণ হয়েছিল। পুরানো খনিগুলি মধ্যে সুন্দরচক এবং বারাদেমো। ভারতবর্ষে কয়লা সর্বপ্রথম নিয়ামতপুরের আশেপাশে আবিষ্কৃত হয়েছিল। এবং গভীরতম কয়লা খনিগুলির মধ্যে একটি চিনাকুরি ১/২, এটি দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ১.৫ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বেলরুই এন.জি. ইনস্টিটিউট, এন.ডি রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় (এইচএস) এবং জালাধারী কুমারী দেবী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সীতারামপুর ও তার আশেপাশের তিনটি ভাল নামকরা সরকারী বিদ্যালয় আছে। এই তিনটি স্কুল আসানসোল মহকুমায় অনেকগুলি বোর্ড পরীক্ষায় উচ্চ স্থান তৈরি করেছে। নিকটতম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলি হল - প্রিয়দর্শিনী পাবলিক স্কুল এবং গ্রিন পয়েন্ট একাডেমি নিয়ামতপুরে অবস্থিত। আসানসোলের সেন্ট প্যাট্রিক্স হাই স্কুল, সেন্ট ভিনসেন্টস স্কুল, লরেটো কনভেন্ট এবং সোদপুরে অ্যাসেম্বেলি অফ গড চার্চ স্কুল। কলেজের মতো উচ্চশিক্ষার সুবিধা এখানে পাওয়া যায়। কুলটি কলেজ তাদের মধ্যে অন্যতম। সীতারামপুরে উপস্থিত নারায়ণ ডাঙ্গাল রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের একটি বিখ্যাত হিন্দী মাধ্যম বিদ্যালয়। নিয়ামতপুর (পূর্ব) জামা মসজিদের নিকটে ইসলামিয়া স্কুল রোডে উপর "ইসলামিয়া গার্লস জুনিয়র হাই স্কুল" মেয়েদের জন্য একটি উর্দু মিডিয়াম স্কুল রয়েছে।

"কালিদাসী বিদ্যাবিধি" নামে একটি পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যা বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে উন্নত করা হয়েছে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

এখানে মূলত বাঙালী, পাঞ্জাবী, গুজরাটি, মারোয়ারি এবং হিন্দি উর্দুভাষী বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের লোক রয়েছে। বাংলা নিয়ামতপুরে সরকারী ভাষা।

পরিবহন[সম্পাদনা]

সীতারামপুরের সাথে সড়ক যোগাযোগ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের মাধ্যমে নিয়ামতপুর সংলগ্ন শহর দিয়ে যায়। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের মাধ্যমে সহজেই কলকাতা, দুর্গাপুর, বরাকর এবং ধানবাদ যাওয়া যায়। নিয়ামতপুর গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের উপর দিয়ে পুরুলিয়া ভায়া দিসেরগড় এবং চিত্তরঞ্জন হয়ে যাওয়া যায়।

নিয়মিত মিনিবাস পরিষেবা আসানসোল সিটি বাস টার্মিনাস, বরাকর, চিত্তরঞ্জন এবং দিসেরগড় থেকে পাওয়া যায়। সমস্ত মিনিবাস নিয়ামতপুরে বাস স্টপেজে থামে। কিছু এক্সপ্রেস এবং দূরগামী সরকারী বাসগুলি নিয়ামতপুরে বাস স্টপেজে থামে। ধানবাদ, বোকারো স্টিল সিটি, রাঁচি, জামশেদপুর, গিরিডি এবং মধুপুরের উদ্দেশ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুপারফাস্ট বাসগুলি নিয়ামতপুরে থামে। কলকাতা থেকে চিত্তরঞ্জন এবং পুরুলিয়া সরাসরি দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য পরিবহন দপ্তরের বাস যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া আসানসোল সিটি বাস টার্মিনাস থেকে বাস পরিষেবা পাওয়া যায়।

হাওড়া-দিল্লী রেলওয়ে লাইনটি সীতারামপুরের মেইন এবং গ্র্যান্ড কর্ড লাইনে পৃথক হয়ে মুঘলসরাইয়ে যোগ হয়েছে। তাই হাওড়া-দিল্লিগামী অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন সীতরামপুরে দিয়ে যায় এবং থামে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. Chattopadhyay, Akkori, Bardhaman Jelar Itihas O Lok Sanskriti (History and Folk lore of Bardhaman District.), (বাংলা), Vol I, pp 14-15, Radical Impression. আইএসবিএন ৮১-৮৫৪৫৯-৩৬-৩
  3. "District Statistical Handbook 2014 Burdwan"Table 2.2, 2.4(a)। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। ২১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  4. "The Kolkata Gazette" (PDF)Notification No. 335/MA/O/C-4/1M-36/2014 dated 3 June 2015। Department of Municipal Affairs, Government of West Bengal। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৭ 
  5. Chattopadhyay, Akkori, p 666