নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষি


নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষি হলো এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, যেখানে কৃষকরা নিজেদের ও তাদের পরিবারের চাহিদা পূরণের জন্য ক্ষুদ্র খামারে ফসল উৎপাদন করেন।[১] নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষকেরা মূলত নিজেদের টিকে থাকার জন্য এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে উৎপাদন করে থাকেন। ফসল কী উৎপাদন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রধানত আগামী বছরে পরিবারের কী প্রয়োজন হবে, তার ভিত্তিতে নেওয়া হয়; বাজারদর তুলনামূলকভাবে গৌণ বিবেচ্য বিষয়।[১] সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক টোনি ওয়াটার্স নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষকদের সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "যারা নিজেরা যা খায়, তা নিজেরাই উৎপাদন করে, নিজেদের বাড়ি নিজেরাই নির্মাণ করে এবং নিয়মিতভাবে বাজার থেকে পণ্য কিনে জীবনযাপন করে না।"[২]
নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষির উদ্দেশ্যে পারিবাহিক চাহিদা মেটানোর জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন হলেও এ ধরনের অধিকাংশ কৃষক কোনও না কোনও মাত্রায় বাণিজ্যিক লেনদেনে অংশগ্রহণ করেন। তবে আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির ভোক্তাদের তুলনায় তাদের নগদ লেনদেনের পরিমাণ কম হলেও। আর তারা খাদ্য কেনার আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মূলত প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য বাজার ব্যবহার করেন। তাদের ক্রয়কৃত পণ্য সাধারণত বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়; এর মধ্যে চিনি, ঢেউটিন, সাইকেল, ব্যবহৃত পোশাক, ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অনেক নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষকই বাজারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। তারা নিজেদের বিশেষ দক্ষতা বা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে এমন কিছু পণ্য উৎপাদন করেন, যেগুলির বাজারে চাহিদা রয়েছে।[৩]
বর্তমানে নিতান্ত জীবন-ধারণোপযোগী কৃষি প্রধানত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রচলিত।[৩] এ ধরনের কৃষির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে, যেমন এ ধরনের কৃষিকাজে স্বল্প মূলধন ও অর্থায়নের প্রয়োজন হয়, মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করা হয়, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য (যেমন কীটনাশক ও সার) সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করে, উন্নত জাতের পরিবর্তে স্থানীয় ও অনুন্নত জাতের ফসল ও গবাদিপশু ব্যবহার করা হয়, বিক্রির জন্য খুব কম বা কোনো উদ্বৃত্ত উৎপাদন থাকে না, কোদাল, দা ও কুড়ালের মতো ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, কৃষিকাজ প্রধানত ফসল উৎপাদনকেন্দ্রিক হয়, ছোট ও বিচ্ছিন্ন কৃষিজমি ব্যবহার করা হয়, কৃষিকাজে অনভিজ্ঞ বা অপ্রশিক্ষিত শ্রমশক্তির (প্রধানত পরিবারের সদস্যদের) ওপর নির্ভরশীল হতে হয় এবং কৃষিকাজ তুলনামূলকভাবে কম উৎপাদনশীল হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Bisht, I. S.; Pandravada, S. R.; Rana, J. C.; Malik, S. K.; Singh, Archna; Singh, P. B.; Ahmed, Firoz; Bansal, K. C. (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Subsistence Farming, Agrobiodiversity, and Sustainable Agriculture: A Case Study"। Agroecology and Sustainable Food Systems (ইংরেজি ভাষায়)। ৩৮ (8): ৮৯০–৯১২। বিবকোড:2014AgSFS..38..890B। ডিওআই:10.1080/21683565.2014.901273। আইএসএসএন 2168-3565। এস২সিআইডি 154197444।
- ↑ Waters, Tony (২০০৮)। The persistence of subsistence agriculture : life beneath the level of the marketplace। Lexington Books। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৩৯১-৫৮৭৬-০। ওসিএলসি 839303290। ৫ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৩।
- 1 2 Miracle, Marvin P. (১৯৬৮)। "Subsistence Agriculture: Analytical Problems and Alternative Concepts"। American Journal of Agricultural Economics। ৫০ (2): ২৯২–৩১০। ডিওআই:10.2307/1237543। জেস্টোর 1237543।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Charles Sellers (1991). The Market Revolution: Jacksonian America, 1815–1846. New York: Oxford University Press.
- Sir Albert Howard (1943). An Agricultural Testament. Oxford University Press.
- Tony Waters (2010). "Farmer Power: The continuing confrontation between subsistence farmers and development bureaucrats"/
- Marvin P Miracle (May 1968). "Subsistence Agriculture: Analytical Problems and Alternative Concepts", American Journal of Agricultural Economics, pp. 292–310.