যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(নাশরুত তীব থেকে পুনর্নির্দেশিত)
যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা
যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা.jpeg
বাংলা অনুবাদের প্রচ্ছদ
লেখকআশরাফ আলী থানভী
মূল শিরোনামউর্দু: نشر الطيب فى ذكر النبى الحبيب ﷺ‎, প্রতিবর্ণী. নাশরুত তীব ফী জিকরিন নাবিয়্যিল হাবিব (স.)
অনুবাদক
  • মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (বাংলা)
  • মুহাম্মদ সাজিদ ইউনুস (ইংরেজি)
প্রচ্ছদ শিল্পীরায়হান শরীফ
দেশভারত
ভাষাউর্দু (মূল)
মুক্তির সংখ্যা
১ খণ্ড
বিষয়সীরাত[১][২]
প্রকাশিত
  • ১৯১২ (উর্দু)
  • ১৯৮০ (বাংলা)
প্রকাশকদারুল কিতাব ওয়াল হাদিস (উর্দু), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (বাংলা)
মিডিয়া ধরন
পৃষ্ঠাসংখ্যা৩৪৯ (বাংলা)
আইএসবিএন৯৭৮০৯৫৬৮৯৬৫৬৮ (ইংরেজি সংস্করণ)
ওসিএলসি৯৭৪৫১১০৪৫
২৯৭.৬৩ বি
ওয়েবসাইটপাঠাগার.কম
মূল উর্দু সংস্করণ
ইংরেজি সংস্করণ

যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা (উর্দু: نشر الطيب فى ذكر النبى الحبيب ﷺ‎, প্রতিবর্ণী. নাশরুত তীব ফী জিকরিন নাবিয়্যিল হাবিব (স.)‎) দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও চতুর্দশ শতকের মুজাদ্দিদ আশরাফ আলী থানভীর উর্দু ভাষায় রচিত একটি জনপ্রিয় সীরাত গ্রন্থ। থানভী এই গ্রন্থে ইসলামের নবিকে মুসলমানদের হৃদয় ও সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে তুলে ধরেছেন। গ্রন্থটির রচনাশৈলী অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সীরাত গ্রন্থ থেকে ভিন্ন হওয়ায় তা সীরাত সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। থানভী গ্রন্থটির একটি উপকারিতা এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মহামারীর সময় গ্রন্থটির রচনা কাজ শুরু করেন এবং মহামারী থেকে মুক্তি পান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১১ সালের দিকে ভারতবর্ষে মহামারী দেখা যায়। আশরাফ আলী থানভী এই মহামারী থেকে বাঁচার জন্য এই সীরাত গ্রন্থটি লেখা শুরু করেন। ১৯১২ সালে এটির রচনা কাজ সমাপ্ত হয়। কথিত আছে, এই গ্রন্থটি রচনার পর মহামারী বন্ধ হয়ে যায়।[৩]

১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে ‘যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা ’ নামে গ্রন্থটির প্রথম বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়। অনুবাদ করেছেন লালবাগ শাহী মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদক মুহাম্মদ সাজ্জাদ ইউনুস, অনূদিত নাম ‘Remembering The Beloved Prophet (S)’[৪][৫]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

লেখক এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়সমূহকে ৪১টি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। পুরো বইয়ে ইসলামের নবিকে তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে কয়েকটি কুরআনের আয়াত ও হাদিস একত্র করে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং এই রচনাশৈলী শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়েছে। গ্রন্থটির প্রথম অধ্যায়ে কয়েকটি অকাট্য হাদিস রয়েছে যা নবিকে নূর এবং এই নূরের সৃষ্টি সর্বাগ্রে প্রমাণ করে। বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে লেখক সৃষ্টিজগতের উপর নবির শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি তার বক্তব্য প্রমাণের জন্য কুরআনের ৫টি আয়াত ও ১০টি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে হাদিস সমর্থিত নবির উচ্চ বংশের বর্ণনা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে নবির নূরের নিদর্শনের উল্লেখ আছে যা তার পিতা ও পূর্বপুরুষদের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল। ৫ম অধ্যায়ে তিনি তিনটি আলৌকিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন যে, শেষ নবির জন্ম কোন সাধারণ সন্তানের মতো ছিল না। ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে তিনি নবির জন্মগ্রহণের সময় সাতটি হাদিসের উল্লেখ করেছেন যাতে অলৌকিক ঘটনাবলির উল্লেখ আছে। ৭ম অধ্যায়ে নবির জন্মগ্রহণের দিন, মাস, বছর ও স্থান সম্পর্কিত আলোচনা আছে। ৮ম অধ্যায়ে নবির শৈশব এবং তার মাহাত্ম্য প্রমাণ করার ঘটনাগুলি উপস্থাপন করা হয়েছে। ৯ম অধ্যায়ে তিনি সেই পালক মায়েদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা তাকে স্তন্যপান এবং লালন-পালন করেছিলেন। ১০ম অধ্যায়ে লেখক নবির নবুয়ত লাভের আগের ঘটনাবলির উল্লেখ করেছেন। ১১তম অধ্যায়ে নবির মিশনের সাথে কাফেরদের বিরোধিতা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় নবির ব্যবহারের বর্ণনা দিয়েছেন, যাতে নবির সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১২তম অধ্যায়ে মেরাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং ১৩তম অধ্যায়ে এমন শর্ত বর্ণনা করা হয়েছে যার কারণে নবি তার অনুসারীদের তাদের বাড়িঘর ও পরিবার ত্যাগ করে আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে বলেছিলেন। ১৪শ অধ্যায়ে নবির মক্কি জীবনের কয়েকটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ আছে। ১৫শ অধ্যায়ে নবির মদিনায় হিজরতের বর্ণনা আছে। ১৬শ অধ্যায়ে লেখক শেষ নবির মদিনায় আসার পরে তিনটি অলৌকিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ১৭শ অধ্যায়ে লেখক মদিনায় শেষ নবির দশ বছর কালানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ প্রতিটি যুদ্ধ, অলৌকিক ঘটনা ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুসারে বর্ণিত হয়েছে। ১৮তম অধ্যায়ে প্রতিনিধিদলের ইসলাম গ্রহণের বর্ণনা এবং ১৯তম অধ্যায়ে সেসব সাহাবাদের আলোচনা আছে যাদের নবি বিশেষ কাজের জন্য বাছাই করেছিলেন। ২০তম অধ্যায়ে লেখক শেষ নবি বিভিন্ন শাসকদের ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি লিখেছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২১তম অধ্যায়ে তিনি শেষ রাসূলের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২২তম অধ্যায়ে তিনি নবির কিছু অলৌকিক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ২৩তম অধ্যায়ে নবির বিভিন্ন নাম ও তার ব্যাখ্যা রয়েছে। ২৪তম অধ্যায়ে লেখক সর্বশেষ নবির বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন যা অন্যান্য নবিদের থেকে ভিন্ন। ২৫তম অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় নবির খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য বিষয়। নবির পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, সাহাবা ও খাদিমবৃন্দের আলোচনা নিয়ে ২৬তম অধ্যায়। ২৭তম অধ্যায়ে রয়েছে নবির মৃত্যুবরণের বিবরণ। ২৮তম অধ্যায়ে নবির আলমে বারযাখের বিবরণ। ২৯তম অধ্যায়ে লেখক শেষ নবির এমন দশটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন যা কিয়ামতের দিন প্রকাশ হবে। ৩০তম অধ্যায়ে লেখক শেষ নবির এমন সাতটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন যা জান্নাতে প্রকাশ হবে। ৩১তম অধ্যায়ে লেখক দেখিয়েছেন শেষ নবি আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি। ৩২তম অধ্যায়ে লেখক কুরআনের কিছু জটিল আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যাতে শেষ নবির মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। ৩৩তম অধ্যায়ে সর্বশেষ নবির ইবাদত-বন্দেগী এবং ৩৪তম অধ্যায়ে অনুগামীদের প্রতি রাসূলের ভালবাসার উল্লেখ আছে। ৩৫তম অধ্যায়ে নবির প্রতি অনুগামীদের দায়িত্বের বর্ণনা করা হয়েছে। ৩৬তম অধ্যায়ে লেখক নবির অনুগামীদের কীভাবে নবির আনুগত্য ও শ্রদ্ধা করা উচিত সে সম্পর্কে কুরআন থেকে পাঁচটি আয়াতের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। ৩৭তম অধ্যায়ে রয়েছে দুরূদের আলোচনা। ৩৮তম অধ্যায়ে থানভী ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যে, মোনাজাতে সর্বশেষ রাসূলের উসিলা জায়েয এবং সঠিক। ৩৯তম অধ্যায়ে থানভী রাসূলের আলোচনা অধিক হারে হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ৪০তম অধ্যায়ে শেষ নবিকে স্বপ্নে দেখা ও সর্বশেষ অধ্যায়ে নবির অনুগামী আহল আল-বাইত, সাহাবাআলেমদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা আছে। পরিশিষ্টে থানভী প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ইলাহী বখশ রচিত “শিয়ামূল হাবিব” পুস্তিকাটি সংযোজন করেছেন।[৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সিদ্দিকী, খালেদ সাইফুল্লাহ (৬ নভেম্বর ২০২০)। "আরশে মোআল্লায় যার পবিত্র নাম লিখিত"দৈনিক ইনকিলাব 
  2. হক, মাহফুজুল (১৪ মার্চ ২০১৫)। "হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ."বাংলানিউজ২৪.কম 
  3. খানম, খেহখাশান (২০১৮)। বিংশ শতাব্দীতে সীরাতের উপর রচিত উর্দু বইসমূহের একটি গবেষণা (উর্দু ভাষায়)। সুন্নি ধর্মতত্ত্ব বিভাগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ৭৯, ৮০। 
  4. মিয়া, আলী আলতাফ (২০১৫)। "বেঁচে থাকা আধুনিকতা: আশরাফ আলী থানভী (১৮৬৩-১৯৪৩) এবং উপনৈবেশিক ভারতে মৌলিক মুসলিম তৈরি"ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভাষায়)। 
  5. পারভেজ, মুহাম্মদ (২০০৮)। "মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কারের একটি গবেষণা"আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভাষায়): ৭০। 
  6. জাহান, ইবরাত (২০১৩)। "সীরাত সাহিত্যে দারুল উলুম দেওবন্দের অবদান"আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়: ১৩—১৬। 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]