নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
| গঠিত | ২০১০ |
|---|---|
| ধরন | জাতিসংঘ সত্তা |
| সদরদপ্তর | নিউ ইয়র্ক শহর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
দাপ্তরিক ভাষা | |
Head | মিশেল বাশলে |
| ওয়েবসাইট | www |
নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ছিল নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক একাধিক সংস্থার বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী বৈঠকের (ইজিএম) একটি সুপারিশ। এই বৈঠকটি জাতিসংঘের জাতিসংঘের নারীর অবস্থা সংক্রান্ত কমিশনের ২০১০-২০১৪ সালের বহু-বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল।
২০১৩ সালে কমিশনের ৫৭তম অধিবেশনে (সিএসডব্লিউ৫৭) "নারী ও মেয়েদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতা নির্মূল ও প্রতিরোধ"কে একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
পটভূমি
[সম্পাদনা]বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী বৈঠক (ইজিএম) ২০১২ সালের ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকটি জাতিসংঘের নারী-পুরুষ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংস্থা ( ইউএন উইমেন ) নিম্নলিখিত সংস্থাগুলির সহযোগিতায় আয়োজন করে:
- জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইএসসিএপি);
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি);
- জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ);
- জাতিসংঘ শিশু তহবিল ( ইউনিসেফ ); এবং
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। [১]
বৈঠকের ফলস্বরূপ তৈরি হওয়া প্রতিবেদনে আলোচনার সারসংক্ষেপ, বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী বৈঠকে (ইজিএম) চিহ্নিত প্রধান সমস্যা, ঘাটতি ও চ্যালেঞ্জগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনটি বৈঠকের আগে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর পৃথক গবেষণাপত্র এবং প্রতিবেদক কর্তৃক প্রস্তুত করা পটভূমি নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল।[২] এটি জাতিসংঘের মহাসচিবের সিএসডব্লিউ প্রতিবেদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ২০১৩ সালের ৫৭তম অধিবেশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী বৈঠকের (ইজিএম) ১০৬ থেকে ১০৯ নম্বর সুপারিশে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি বিশ্বব্যাপী পরিকল্পনা চালুর আহ্বান জানানো হয়, যা নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হবে:
সুপারিশ ১০৯
নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চালুর সময় সদস্য রাষ্ট্রগুলো এটি অনুমোদন ও সমর্থন করবে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে:
- নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতাকে বৈশ্বিক জরুরি সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম গ্রহণ করা।
- সহিংসতা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা।
- সরকার, বহুপাক্ষিক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত করে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্রতিরোধ কৌশলের ভিত্তি গড়ে তোলা।
- নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি করা।
সুপারিশ ১১১
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে:
- জাতীয় পর্যায়ে নীতি, আইন ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা, যেখানে বৈশ্বিক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যক্রমের প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করা যাবে।
- বিদ্যমান কর্মপরিকল্পনা, নির্দেশক, সুপারিশ, কর্মপন্থা, নীতিগত এজেন্ডা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ চুক্তিভিত্তিক সংস্থাগুলো, বিশেষ প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার প্রস্তাবিত সুপারিশ পর্যালোচনা করা। এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করা।
- প্রধান অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সংহত বৈশ্বিক সম্প্রদায় গড়ে তোলা।
- শক্তিশালী সমন্বয় কাঠামো নির্ধারণ করা, যা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব দেবে।
- একটি জবাবদিহিমূলক কাঠামো গঠন করা, যেখানে নীতিমালা, আইন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিমাপের জন্য নির্দিষ্ট সূচক থাকবে এবং যা রাষ্ট্রের কার্যকারিতাকে মূল্যায়ন করতে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
জাতিসংঘের নারীর অবস্থা সংক্রান্ত কমিশন - ৫৭তম অধিবেশন
[সম্পাদনা]জাতিসংঘের নারীর অবস্থা সংক্রান্ত কমিশনের ৫৭তম অধিবেশন অধিবেশন ২০১৩ সালের ৪ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
- আইনি ও নীতিগত কাঠামোর বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা।
- নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কাঠামোগত ও মৌলিক কারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা।
- নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর সেবা, কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
- তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করা।[৩][৪]
জাতিসংঘের নারী বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক মিশেল বাশলে দ্রুত এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "কমিশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা সম্মানের সর্বোত্তম উপায় হলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখা।"[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ EGM announced, UN Women's website.[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Retrieved 28 February 2013.
- ↑ EGM: prevention of violence against women and girls. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ জুন ২০১৩ তারিখে Background papers. Retrieved 8 March 2013.
- ↑ Unedited draft. Retrieved 11 June 2013.
- ↑ আইএসএসএন 0252-0117 Final draft, pp. 1-17. Retrieved 11 June 2013.
- ↑ http://www.unwomen.org/2013/03/un-women-urges-implementation-of-historic-global-agreement-to-end-violence-against-women-and-girls/ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ মে ২০১৩ তারিখে Press release from UN Women, "UN Women urges implementation of historic global agreement to end violence against women and girls", 20 March 2013. Retrieved 11 June 2013.
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- লিঙ্গ সমতা স্থাপত্য সংস্কার
- এনজিও সিএসডব্লিউ/এনওয়াই
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৩২৫
- ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ উইমেন
- জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন তহবিল
- নারী অধিকার
- নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র
- নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র
- নারী ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলা সংক্রান্ত কনভেনশন
- সিডও