নারায়ণ সূক্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নারায়ণ সূক্ত

"এই সমগ্র জগৎ-চরাচরে দৃশ্য ও শ্রাব্য যাহা কিছু রহিয়াছে,
অন্তরে ও বাহিরে—সকলই ব্যাপিয়া আছেন সেই পরমেশ্বর (নারায়ণ)।"[১]

নারায়ণ সূক্ত (সংস্কৃত: नारायण सूक्तम्) হল যজুর্বেদের অন্তর্ভুক্ত একটি সূক্ত। এটি যজুর্বেদের অন্তর্গত তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ১০ প্রপাঠকের, দশম অনুবাকে রয়েছে। কোনো কোনো টীকাকারের মতে, এটি পুরুষসূক্তের আধ্যাত্মিক পরিশিষ্ট।[২][৩] হিন্দুধর্মে নারায়ণ হলেন সর্বোচ্চ উপাস্য দেবতা। এই সূক্তে তাকে পরমাত্মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, নারায়ণ হলেন সহস্র সহস্র মস্তক, চক্ষু, হস্তপদ বিশিষ্ট বিধাতা এবং তার আরাধনা করার সময় এই সূক্তটি পঠিত হয়। পরম সত্য বা পরমাত্মা ও পরমেশ্বর হিসেবে নারায়ণ একই সাথে সৃষ্টিকর্তা বা ব্রহ্মা, পালনকর্তা বা বিষ্ণু এবং প্রলয়কর্তা বা শিব হিসেবে বিবেচিত হন এবং সকল দেবতাই তার বিভূতি। [৪]

মূল সূক্ত[সম্পাদনা]

 নারায়ণসূক্তম্
তৈত্তিরীয়ারণ্যকম্, প্রপাঠকঃ - ১০ অনুবাকঃ - ১৩
(১০.১৩.১ ১০.১৩.২)

ওঁ সহস্রশীর্ষং দেবং বিশ্বাক্ষং বিশ্বশম্ভুবং ।
বিশ্বং নারায়ণং দেবমক্ষরং পরমং পদম্ ।
বিশ্বতঃ পরমান্নিত্যং বিশ্বং নারায়ণং হরিম্ ।
বিশ্বমেবেদং পুরুষস্তদ্বিশ্বমুপজীবতি।
পতিং বিশ্বস্যাত্মেশ্বরং শাশ্বতং শিবমচ্যুতম্ ।
নারায়ণং মহাজ্ঞেয়ং বিশ্বাত্মানং পরায়ণম্ ।
নারায়ণপরো জ্যোতিরাত্মা নারায়ণঃ পরঃ ।
নারায়ণ পরং ব্রহ্ম তত্ত্বং নারায়ণঃ পরঃ ।
নারায়ণপরো ধ্যাতা ধ্যানং নারায়ণঃ পরঃ ।
যচ্চ কিঞ্চিজ্জগৎসর্বং দৃশ্যতে শ্রূয়তেঽপি বা ॥

অন্তর্বহিশ্চ তৎসর্বং ব্যাপ্য নারায়ণঃ স্থিতঃ।
অনন্তমব্যযং কবিং সমুদ্রেঽন্তং বিশ্বশম্ভুবম্।
পদ্মকোশ প্রতীকাশং হৃদয়ং চাপ্যধোমুখম্।
অধো নিষ্ট্যা বিতস্যান্তে নাভ্যামুপরি তিষ্ঠতি।
জ্বালমালাকুলং ভাতি বিশ্বস্যায়তনং মহৎ।
সন্ততꣳ শিলাভিস্তুলম্বত্যাকোশসন্নিভম্।
তস্যান্তে সুষিরং সূক্ষ্মং তস্মিন্ সর্বং প্রতিষ্ঠিতম্।
তস্য মধ্যে মহানগগ্নির্বিশ্বার্চির্বিশ্বতোমুখঃ।
সোঽগ্রভুগ্বিভজন্তিষ্ঠন্নাহারমজরঃ কবিঃ।
তির্যগূর্ধ্বমধশ্শায়ী রশ্ময়স্তস্য সন্ততা।
সন্তাপয়তি স্বং দেহমাপাদতলমস্তকঃ।
তস্য মধ্যে বহ্নিশিখা অণীয়োর্ধ্বা ব্যবস্থিতঃ।
নীলতোয়দমধ্যস্থাদ্বিদ্যুল্লেখেব ভাস্বরা।
নীবারশূকবত্তন্বী পীতা ভাস্বত্যণূপমা।
তস্যাঃ শিখায়া মধ্যে পরমাত্মা ব্যবস্থিতঃ।
স ব্রহ্ম স শিবঃ স হরিঃ সেন্দ্রঃ সোঽক্ষরঃ পরমঃ স্বরাট্॥
ঋতং সত্যং পরং ব্রহ্ম পুরুষং কৃষ্ণপিঙ্গলম্।
ঊর্ধ্বরেতং বিরূপাক্ষং বিশ্বরূপায় বৈ নমো নমঃ॥

[৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. নারায়ণ সূক্তের পঞ্চম শ্লোকের অনুবাদ
  2. David Frawley (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০)। Mantra Yoga and Primal Sound: Secret of Seed (Bija) Mantras। Lotus Press। পৃষ্ঠা 158–। আইএসবিএন 978-0-910261-94-4। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১২ 
  3. The Significance of the Narayana Sukta in Daily Invocations by Swami Krishnananda.
  4. Farrand, Thomas Ashley. Chakra Mantras: Liberate Your Spiritual Genius Through Chanting. Weiser Books, 2006. আইএসবিএন ১৫৭৮৬৩৩৬৭২. P. 40.
  5. https://sanskritdocuments.org/doc_vishhnu/narayana-sukta.html

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]