নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অবস্থাসক্রিয়
সেবাগ্রহণকারী অঞ্চল বাংলাদেশ
বিরতিস্থলশুরু নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
শেষ বাহাদুরাবাদ ঘাট রেলওয়ে স্টেশন
বিরতিস্থলসমূহ৪৫
ক্রিয়াকলাপ
উদ্বোধনের তারিখ
  • নারায়ণগঞ্জ-ময়মনসিংহ(১৮৮৫)
  • ময়মনসিংহ-জামালপুর(১৮৯৪)
  • জামালপুর-বাহাদুরাবাদ ঘাট(১৯১২)
মালিকবাংলাদেশ রেলওয়ে
পরিচালনাকারীপূর্বাঞ্চল রেলওয়ে
প্রযুক্তিগত
ট্র্যাক গেজ
চালন গতি৩০/৮০
পথের মানচিত্র

বাহাদুরাবাদ ঘাট
দেওয়ানগঞ্জ বাজার
মোশারফগঞ্জ
ইসলামপুর বাজার
দুরমুঠ
মেলান্দহ বাজার
জামালপুর কোর্ট
Left arrow
জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু
পূর্ব লাইন
জামালপুর
নান্দিনা
নরুন্দি
পিয়ারপুর
মশিউরনগর
নিমতলী বাজার
বিদ্যাগঞ্জ
বাইগনবাড়ী
ময়মনসিংহ রোড
ময়মনসিংহ জংশন
Right arrow
ময়মনসিংহ-গৌরীপুর
-­ভৈরব রেলপথ
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সুতিয়াখালী
ফাতেমানগর
আহমদবাড়ী
আউলিয়ানগর
ধলা
গফরগাঁও
মশাখালী
কাওরাইদ
সাত খামাইর
শ্রীপুর
ইজ্জতপুর
রাজেন্দ্রপুর
ভাওয়াল গাজীপুর
Left arrow জামতৈল-জয়দেবপুর লাইন
জয়দেবপুর
ধীরাশ্রম
Right arrow টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়া লাইন
টঙ্গী
তুরাগ নদী
বিমানবন্দর
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
বনানী
তেজগাঁও
কমলাপুর
গেন্ডারিয়া
Left arrow ঢাকা-যশোর রেলপথ
শ্যামপুর বড়ইতলা
পাগলা
ফতুল্লা
চাষাঢ়া
নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন বৃটিশ শাসনামলে তৈরি একটি রেলপথ। এই লাইনটি বাংলাদেশের রেলসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। লাইনটি সমগ্র বাংলাদেশের রেলপথের সাথে যুক্ত শাখা রেললাইন দ্বারা।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৭১ সালের মধ্যে কলকাতা থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হয়। এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ছিলো নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর। পাট রপ্তানী ও কলকাতার সাথে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে ঢাকা স্টেট রেলওয়ে কম্পানি দ্বারা নারায়ণগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১৪৪ কিলোমিটার রেলপথ চালু করা হয় ১৮৮৫/১৮৮৬ সালে এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত স্টিমার চালু করা হয়। এই লাইনটি পরে বাহাদুরাবাদ ও জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।[২]

নির্মাণকাল[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট রেলপথ চারধাপে নির্মাণ কাজ করা হয়।

  • ১ম ধাপ = ঢাকা(ফুলবাড়িয়া)-নারায়ণগঞ্জ (১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি)
  • ২য় ধাপ = ঢাকা-ময়মনসিংহ (১৮৮৫ সালের মধ্যভাগে)
  • ৩য় ধাপ = ময়মনসিংহ-জামালপুর(১৮৯৪)
  • ৪র্থ ধাপ = জামালপুর-বাহাদুরাবাদ(১৯১২)[৩]

ঘাট লাইন[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন শুরু ও শেষ প্রান্ত যথাক্রমে শীতলক্ষ্যা নদীযমুনা নদীর ঘাটে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে স্টিমার দ্বারা গোয়ালন্দ ঘাট পৌঁছে গোয়ালন্দ-শিলাইদহ রেলপথে কলকাতা পৌছানো যেত।[৪] নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীর পর্যন্ত অনেক গুলো ঘাট রেললাইন ছিলো। আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল,[৫] কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট [৬] ও গেন্ডারিয়া থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ঘাট লাইন ছিলো যা কালের বিবর্তনে এখন বিলুপ্ত।[৭] বাহাদুরাবাদ ঘাটের সাথে যমুনা নদীর ওপারে রেলফেরী দ্বারা তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত সংযুক্ত ছিলো সান্তাহার-কাউনিয়া লাইন দ্বারা।[৮]

গতিসীমা[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট রেললাইনে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার কিন্তু রেলপথ সংস্কারের অভাবে কিছু কিছু স্থানে ৩০ কিলোমিটার গতিতেও ট্রেন চলে।[৯][১০]

শাখা লাইন[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন শাখা রেললাইন দ্বারা সারা বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা সচল রেখেছে। শাখা লাইন গুলো হচ্ছে:

ঢাকা-যশোর রেলপথ[সম্পাদনা]

নির্মাণাধীন এই রেলপথটি ঢাকা জেলার গেন্ডারিয়া থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে যশোরে দর্শনা জংশন-খুলনা লাইনে সংযুক্ত হবে। এই রেলপথ হবে ব্রডগেজ এপথের মোট দূরত্ব ১৭২ কিলোমিটার। ভাঙ্গা থেকে মাওয়া ৫২ কিলোমিটার রেলপথ ২০২১ সালে চালুর আশা করছে সরকার।[১১]

টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়া রেলপথ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে উত্তর,দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলকে যুক্ত করেছে এই মিটারগেজ রেলপথটি। এই রেলপথটি চালু হয় ১৯১০-১৯১৪ সালের মধ্যে।

জয়দেবপুর-জামতৈল রেলপথ[সম্পাদনা]

জয়দেবপুর-জামতৈল রেলপথটি বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হলে, ঢাকার সাথে সরাসরি রেলপথে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে যুক্ত করতে তৈরি করা ২০০৩ সালের মধ্যে।

ময়মনসিংহ-গৌরীপুর-ভৈরব রেলপথ[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ-ভৈরববাজার রেলওয়ে কম্পানি দ্বারা এই মিটারগেজ রেলপথ তৈরি করা হয় ১৯১২-১৯১৮ সালের মধ্যে।

জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলপথ[সম্পাদনা]

জামালপুর থেকে তারাকান্দি হয়ে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন ১৮৯৯ সালে তৈরি করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হলে ঘাট স্টেশন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জনগণের দাবী প্রেক্ষিতে সরকার ২০১২ সালে তারাকান্দি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত রেলপথ বর্ধিত করে।[১২]

স্টেশন তালিকা[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইনে থাকা রেলওয়ে স্টেশন গুলোর তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:

ফেরী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে ফেরী ছিলো রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অংশ। যমুনা নদীর দুইটি প্রধান ঘাটের মাধ্যমে রেলফেরী যোগাযোগ চালু ছিলো একটি হচ্ছে এই বাহাদুরাবাদ ঘাটতিস্তামুখ ঘাটের মাধ্যমে ও অন্যটি হচ্ছে জগন্নাথগঞ্জ ঘাটসিরাজগঞ্জ ঘাটের মাধ্যে।[১৩] ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশাল পরিবর্তন ঘটায়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হলে ঘাটের রেলফেরী ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কেবলমাত্র সীমিত মালবাহী ফেরী চালু ছিলো। ২০১০ সালে ঘাটের সীমিত মালামাল পরিবহন ব্যাবস্থাও বন্ধ হয়ে যায় নদীতে চর গঠনের কারণে।[১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বাংলাদেশ রেলওয়ে অতীত-বর্তমান"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  2. "[IRFCA] Mymensingh District (1917)"www.irfca.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৬ 
  3. "রেলওয়ে - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  4. "নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন"। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  5. "একনেকে পুরাতন রেলপথে চাষাঢ়া-আদমজী মহাসড়কের অনুমোদন"pressnarayanganj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  6. "নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাবনা"NewsNarayanganj24.net। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  7. "শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর সদরঘাট"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  8. "১৯৩৮ সাল, যখন ফেরীতে পার হতো ট্রেন"প্রবাসীর দিগন্ত। ২০১৯-১১-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  9. "ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে ট্রেনের গতি গড়ে ৩০ কিমি"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  10. "বসতির চাপে গতিহারা ট্রেন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  11. "ভাঙ্গা-মাওয়া ট্রেন আগামী বছরেই"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  12. "পাঁচ জেলার মানুষের স্বপ্নের যমুনা সেতু লিংক রেলপথ"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  13. "বাহাদুরাবাদ ঘাটের ফেরি চালু এ বছরই : ত্রিমোহিনী-বালাসীঘাট রেলপথ মেরামতের উদ্যোগ নেই"www.bhorerkagoj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭ 
  14. "Drastic fall in Jamuna water level hampers transport"archive.thedailystar.net (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-২৭