বিষয়বস্তুতে চলুন

নারদ স্টিং অপারেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নারদ স্টিং অপারেশন বা নারদা স্টিং অপারেশনটি ছিল ম্যাথু স্যামুয়েলের দ্বারা পরিচালিত একটি স্টিং অপারেশন, যা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল। এতে অনেক রাজনীতিবিদ এবং একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা একটি কোম্পানিকে অনানুষ্ঠানিক সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে নগদ ঘুষ গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ-পত্রিকা তেহেলকা জন্য ২০১৪ সালে সম্পাদিত, এটি ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল।

২০১৭ সালের জুন মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা (সিবিআই), এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও একটি সংসদীয় নীতিশাস্ত্র কমিটি তদন্ত করছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে যে অর্থ অনুদান হিসাবে নেওয়া হয়েছিল।

পটভূমি

[সম্পাদনা]
ম্যাথু স্যামুয়েল

ম্যাথু স্যামুয়েল একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও স্টিং অপারেশনের জন্য পরিচিত তেহেলকা সংবাদ পত্রিকাের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওয়েস্ট অ্যান্ড স্টিং অপারেশনের অন্যতম প্রধান অধ্যক্ষ ছিলেন, যা ২০০১ সালে একটি ক্ষুদ্র গণতান্ত্রিক সঙ্কটের জন্ম দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের পদত্যাগ করে ও পরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি বাঙ্গারু লক্ষ্মণ দোষী সাব্যস্ত হয়।[১]

তেহেলকা প্রশাসন ২০১৪ সালের দিকে একটি ভালো গল্প নিয়ে বাজারে ফিরে আসার প্রয়াসে "একটি স্টিং অপারেশনের ধারণা নিয়ে আসে"। স্যামুয়েল এবং তার দল প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রদেশ বা হিমাচল প্রদেশ রাজ্যকে বেছে নিয়েছিল, কিন্তু সুযোগগুলি কখনই বাস্তবায়িত হয়নি। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকার ছিল এবং ম্যাথু স্যামুয়েল শুধুমাত্র বিজেপি সরকারকে লক্ষ্যকারী একজন সাংবাদিক হিসাবে চিহ্নিত হতে চাননি যিনি যখন হিমাচল প্রদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এতটাই শান্ত ছিল যে তা স্টিং অপারেশনের জন্য উপযোগী ছিল না। এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গে সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ পায়।

বর্তমান স্থিতি

[সম্পাদনা]

সিবিআই ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল। রাজ্যপাল ৮ই মে সিবিআইকে চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন।[২] সিবিআই ১৭ই মে চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ (স্পিকার) বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তারগুলি বেআইনি হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন কারণ সেগুলি রাজ্যপালের অনুমতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল।[৩] ম্যাথিউ স্যামুয়েল প্রশ্ন তোলেন কেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সিবিআই গ্রেফতার করল না।[৪][৫] ব্যাঙ্কশাল কোর্ট (বিশেষ সিবিআই আদালত) চার নেতাকে গ্রেপ্তারের দিনই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে।[৬][৭] তবে কলকাতা কলকাতা উচ্চ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ডিভিশন বেঞ্চ ওই রাতেই নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ প্রদান করে।[৮][৯] এরপর উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেয়।[১০][১১] কলকাতা উচ্চ আদালতের বিচারপতি অরিন্দম সিনহা উচ্চ আদালত যেভাবে মামলা মোকাবেলা করেছে তার সমালোচনা করেছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, "আমাদের উপহাসের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।"[১২][১৩][১৪] উচ্চ আদালত ২৮শে মে গ্রেপ্তারকৃত চার নেতার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে।[১৫][১৬][১৭]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. স্যামুয়েল, ম্যাথু (১৪ মে ২০১২)। "After Eleven Years, It Stings To Say This..."আউটলুক। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  2. "Narada case: Bengal Governor sanctions prosecution of TMC's Subrata Mukherjee, Firhad Hakim by CBI"ইন্ডিয়া টুডে। ৯ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  3. "CBI arrests of Bengal ministers, others in Narada case illegal: Assembly Speaker"দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ১৭ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  4. "Why No Arrest Of Suvendu Adhikari, Now In BJP, Asks Narada Sting Editor Mathew Samuel"এনডিটিভি। ১৭ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  5. "Narada case: Paid Suvendu Adhikari too, why is he out of the loop, asks Mathew Samuel"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। ১৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  6. "Narada Case: Court Grants Bail To 4 Accused Including TMC Leaders Firhad Hakim, Subrata Mukherjee & Madan Mitra"এবিপি লাইভ। ১৭ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  7. "[BREAKING] Special CBI court grants interim bail to TMC leaders Madan Mitra, Firhad Hakim, Subrata Mukherjee, Sovan Chatterjee in Narada case"বার অ্যান্ড বেঞ্চ। ১৭ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  8. "Breaking: Calcutta HC Stays Special CBI Court's Order Granting Bail To TMC Leaders Firhad Hakim, Madan Mitra, Subrata Mukherjee & Sovan Chatterjee"লাইভ ল। ১৭ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  9. "Narada sting case: Calcutta High Court stays bail to Firhad Hakim, Subrata Mukherjee, Madan Mitra and Sovan Chatterjee"দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস। ১৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  10. "Calcutta HC orders house arrest of top TMC leaders in Narada sting case, stays bail plea"ইন্ডিয়া টুডে। ২১ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  11. "Narada case: Firhad Hakim returns home after HC orders house arrest, three others to remain in hospital due to ill health"দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ২২ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  12. "'We have been reduced to a mockery': Calcutta HC judge's letter to Acting Chief Justice"ন্যাশনাল হেরাল্ড। ২৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  13. "Sitting Judge of Calcutta HC raises questions over acting CJ intervention in Narada sting case"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ২৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  14. "'Reduced to Mockery': In Letter, Sitting Judge Slams Calcutta HC's Narada Case Handling"দ্য ওয়্যার। ২৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  15. "Narada scam: Calcutta High Court grants interim bail to four former TMC ministers"ডিএনএ ইন্ডিয়া। ২৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  16. "Narada Case: HC Grants Interim Bail to 4 Arrested TMC Leaders"দ্য কুইন্ট। ২৮ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 
  17. "TMC MLA Madan Mitra discharged, says happy on being granted bail in Narada case"দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ৩০ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ 

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  • "X FILES: TMC leaders exposed by Narada News, caught accepting bribes on camera"নারদ নিউজ। ২১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২২ (যে পৃষ্ঠায় অপারেশনের ফুটেজ প্রথম আপলোড করা হয়েছিল)