বিষয়বস্তুতে চলুন

নানসেন পাসপোর্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নানসেন পাসপোর্ট
নানসেন পাসপোর্টের সম্মুখভাগ (সবুজ ডোরাকাটা), ফরাসি ভাষায় লেখা — যেটি ছিল তৎকালীন কূটনৈতিক ভাষা
প্রচলন শুরুর তারিখ১৯২২
প্রদানকারী সংস্থাসম্মিলিত জাতিপুঞ্জ
প্রকারপাসপোর্ট
উদ্দেশ্যপরিচয়পত্র
প্রদানের যোগ্যতারাষ্ট্রহীন শরণার্থীদের জন্য
মেয়াদ১৯৩৮

নানসেন পাসপোর্ট — যা মূলত ও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত ছিল রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নামে। এটি একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত শরণার্থীদের ভ্রমণ নথি ছিল, যা ১৯২২ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে প্রচলিত ছিল। এটি শরণার্থীদের জন্য প্রথম চালু করে সম্মলিত জাতিপুঞ্জ হাইকমিশনার কার্যালয়।[১] এটি খুব দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠে "নানসেন পাসপোর্ট" নামে, এর প্রবর্তক নরওয়েজীয় রাষ্ট্রনায়ক ও মেরু অন্বেষক ফ্রিদয়োফ নানসেনের নামে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ অস্থিরতা দেখা দেয়, যার ফলে এক বিশাল শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়। একাধিক সরকার পতনের পর জাতীয় সীমানাগুলি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়, প্রায়শই জাতিগত ভিত্তিতে। কিছু দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ, নিপীড়ন বা এর আশঙ্কার কারণে বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই বিশৃঙ্খলার কারণে বহু লোক পাসপোর্টহীন হয়ে পড়ে কিংবা এমন জাতির নাগরিক ছিল যেগুলি আর অস্তিত্বেই ছিল না, ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যাহত হয় এবং শরণার্থীরা কোথাও আটকে পড়ে।

নানসেন পাসপোর্ট চালুর পেছনে প্রধান কারণ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নতুন সরকার ১৯২১ সালে বিদেশে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের ঘোষণা করে। যার ফলে রুশ গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রায় ৮ লাখ শরণার্থী রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে।[২] এরপর ফ্রিডতিয়োফ নানসেনের আহ্বানে ১৯২২ সালের ৩–৫ জুলাই জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘রাশিয়ান শরণার্থীদের জন্য পরিচয়পত্র বিষয়ক আন্তঃসরকারি সম্মেলনে’ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে প্রথম নানসেন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।[৩] তিনি তখন জাতিপুঞ্জের পক্ষে শরণার্থীদের জন্য উচ্চ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।[৪] ১৯৪২ সাল নাগাদ ৫২টি দেশের সরকার এই পাসপোর্টকে স্বীকৃতি দেয়।

১৯২৪ সালে এই ব্যবস্থা আর্মেনীয়দের জন্য এবং ১৯২৮ সালে আসিরীয়, বুলগেরীয় ও তুর্কি শরণার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত করা হয়।[৫] আনুমানিক ৪,৫০,০০০ নানসেন পাসপোর্ট প্রদান করা হয়[৬] এমন সকল রাষ্ট্রহীন মানুষ ও শরণার্থীদের, যারা জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভ্রমণ নথি পেতে অক্ষম ছিল।

১৯৩০ সালে নানসেনের মৃত্যুর পর এই পাসপোর্ট ইস্যুর দায়িত্ব যায় নানসেন আন্তর্জাতিক শরণার্থী অফিসের ওপর, যা জাতিপুঞ্জের অন্তর্গত ছিল। তখন থেকে এই পাসপোর্টে ১৯২২ সালের সম্মেলনের কোনো উল্লেখ থাকত না, বরং তা জাতিপুঞ্জের নামেই ইস্যু হতো। ১৯৩৮ সালে এই অফিস বন্ধ হয়ে গেলে লন্ডনে অবস্থিত জাতিপুঞ্জের আওতাধীন শরণার্থীদের জন্য উচ্চ কমিশনারের দপ্তর এই দায়িত্ব গ্রহণ করে।[৭][৮]

চিত্র প্রদর্শনী

[সম্পাদনা]
১৯২৯ সালে বুলগেরিয়ায় ইস্যু করা নানসেন পাসপোর্ট।

ঐতিহ্য

[সম্পাদনা]

নানসেন আন্তর্জাতিক শরণার্থী অফিস নানসেন পাসপোর্ট প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৩৮ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।[৯][১০]

যদিও নানসেন পাসপোর্ট এখন আর ইস্যু করা হয় না, তবে বিদ্যমান জাতীয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষসমূহ, যেমন জাতিসংঘ, এখনো রাষ্ট্রবিহীন ব্যক্তি ও শরণার্থীদের জন্য ভ্রমণ নথিপত্র ইস্যু করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে পরিচয় সনদপত্র (বা "এলিয়েনের পাসপোর্ট") এবং শরণার্থী ভ্রমণ নথি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "The Little-Known Passport That Protected 450,000 Refugees" অ্যাটলাস অবস্কিউরা। সংগ্রহের তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০১৭
  2. ↑ নানসেন দ্য হিউম্যানিস্ট, সংগ্রহের তারিখ: ১১ ডিসেম্বর ২০১২
  3. ↑ "Refworld – Arrangement with respect to the issue of certificates of identity to Russian Refugees"। United Nations High Commissioner for Refugees। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৮।
  4. ↑ "Documents from the League of Nations Archives"। Refugee Survey Quarterly। ২২ (1): ৭১–৭৩। ২০০৩। ডিওআই:10.1093/rsq/22.1.71।
  5. ↑ "Arrangement of 12 May 1926 relating to the Issue of Identity Certificates to Russian and Armenian Refugees League of Nations, Treaty Series Vol. LXXXIX, No. 2004" (পিডিএফ)। refworld.org। ৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৮।
  6. ↑ নানসেন-পাস স্টোর নরস্কে লেক্সিকন। সংগ্রহের তারিখ: ১১ ডিসেম্বর ২০১২
  7. ↑ "Office of the High Commissioner for Refugees under the Protection of the League – Yearbook Profile – Union of International Associations"। uia.org। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৮।
  8. ↑ দ্য নানসেন অফিস আরকিভভারকেট। সংগ্রহের তারিখ: ২ ডিসেম্বর ২০১৪
  9. ↑ ফ্রিদতিওফ নানসেন, নোবেল ফাউন্ডেশন, ১৯২২। সংগ্রহের তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১১।
  10. ↑ "The Nansen International Office for Refugees – Nobel Lecture"। Nobel Foundation। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১৮।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]