বিষয়বস্তুতে চলুন

নাজদাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নজদাত ছিল খারেজী আন্দোলনের একটি উপ-সম্প্রদায়। তারা নজদা ইবনে আমির আল-হানাফির অনুসারী ছিল এবং ৬৮২ সালে মধ্য ও পূর্ব আরবের ঐতিহাসিক প্রদেশ ইয়ামামাবাহরাইন-উমাইয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে।

নজদাতের বিশ্বাসের মধ্যে ছিল:

  • সুন্নিদের আধিপত্য বিস্তারকারী অঞ্চলে থাকলে তাদের প্রকৃত বিশ্বাস গোপন রাখার অনুমতি দেওয়া।
  • পাপী মুসলমানদের অবিশ্বাসী হিসেবে বহিষ্কার করা হয়নি। নজদাতরা বিশ্বাস করত যে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করতে পারেন। কেবলমাত্র যারা তার পাপে অবিচল থাকে এবং বারবার তা করে, তাদেরই অবিশ্বাসী বলা যেতে পারে।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

৬৫৬ সালে প্রাদেশিক বিদ্রোহীদের দ্বারা তৃতীয় খলিফা উসমানের হত্যার পর, খিলাফত গৃহযুদ্ধে শুরু হয়। উসমানের আত্মীয় এবং সিরিয়ার গভর্নর মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান নতুন খলিফা আলির বৈধতা মেনে নেয়নি। ৬৫৭ সালের জুলাইয়ে সিফিনে তাদের মধ্যে একটি অনিষ্পন্ন যুদ্ধ সালিসি চুক্তিতে শেষ হয়। আলির কিছু সৈন্য দাবি করে যে, মানুষের সালিসি অবৈধ কারণ আল্লাহর নির্দেশ স্পষ্ট যে বিদ্রোহীদের (এ ক্ষেত্রে মুআবিয়া) বিরুদ্ধে লড়তে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে। এই বিচ্ছিন্নতার পর তাদের খারিজি বলা হত।[] পরে তারা ৬৫৮ সালের জুলাই মাসে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং খলিফার হাতে পরাজিত হয়। ৬৬১ সালে খারেজি কর্তৃক আলীর হত্যার পর, মুয়াবিয়া একমাত্র শাসক হন এবং উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। []তার শাসনকালে খারিজিরা দক্ষিণ ইরাকের বসরা শহরে সমৃদ্ধ হয়।[] ইরাকি গভর্নর জিয়াদ ইবনে আবিহ এবং পরবর্তীতে উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের দ্বারা কঠোরভাবে দমনের পর খারিজিরা ৬৮০ সালের দিকে আরবে পালিয়ে যায়।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

৬৮০ সালে মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর মুসলিম সাম্রাজ্য গৃহযুদ্ধে পতিত হয়। নতুন খলিফা ইয়াজিদের নিন্দা জানিয়ে, কুরাইশ নেতা আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়ের মক্কার পবিত্র স্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।দ[] ৬৮৩ সালে ইয়াজিদ বিদ্রোহ দমনের জন্য সেনাবাহিনী পাঠালে এবং মক্কা অবরুদ্ধ হলে খারিজিরা আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়রকে শহর রক্ষায় সহায়তা করে।[] কিন্তু ইয়াজিদ ৬৮৩ সালের নভেম্বরে মারা গেলে ইবনে আল-জুবায়র নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। কিন্তু খারিজিরা জানতে পারে যে, ইবনে জুবাইর উসমানের বিরুদ্ধে তাদের মতবাদ সমর্থন করেন না এবং তার হত্যাকে নিন্দা করেন। ফলে তারা তার পক্ষ ত্যাগ করে। [] তাদের কিছু অংশ আবু তালুতের নেতৃত্বে মধ্য আরবের ইয়ামামায় চলে যায়। আর বেশিরভাগ বসরায় যায়। ইতিমধ্যে, বসরান উপজাতি নেতারা ইবনে জিয়াদকে বহিষ্কার করেন এবং শহরটি উপজাতি যুদ্ধে পতিত হয়। নাফি ইবনে আল-আজরাকের নেতৃত্বে খারিজিরা শহর দখল করে। ইবনে জিয়াদের নিযুক্ত উপ-প্রতিনিধিকে হত্যা করে এবং ইবনে জিয়াদের কারাগার থেকে ১৪০ সঙ্গীকে মুক্ত করে। []শীঘ্রই বসরাবাসীরা ইবনে আল-জুবায়রকে স্বীকৃতি দেয় এবং তিনি উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে মামারকে সেখানে গভর্নর নিযুক্ত করেন। উমর খারিজিদের বসরা থেকে বিতাড়িত করেন এবং তারা আহওয়াজে পালিয়ে যায়।[] [] নাফি এবং আরেকজন নেতা নজদা এর মধ্যে মতবিরোধের কারণে দলটির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়।[]

নজদা তার অনুসারীদের নিয়ে ইয়ামামায় ফিরে আসেন এবং এই দলটি নজদাত নামে পরিচিতি লাভ করে। [] ৬৮৫ সালে, কিছু বিশেষ সাফল্যের পর, আবু তালুতের খারেজী উপদল নজদাকে তাদের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। নাজদা ইবনে আল-জুয়াবিরের রাজ্যের শহরগুলিতে অভিযান শুরু করে। [১০]৬৮৭ সালে আতিয়া ইবনে আল-আসওয়াদের নেতৃত্বে একটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে সিস্তানে যায় এবং সেখানে নিজস্ব খারিজি শাখা প্রতিষ্ঠা করে। একই বছরে নাজদা ইয়েমেন আক্রমণ করে এবং সানা দখল করে। তার সহযোগী আবু ফুদায়ক হাদরামৌত জয় করেন। নাজদাতরা খিলাফত বাহিনীর নিপীড়ন এড়াতে এখন খিলাফতের সবচেয়ে প্রান্তিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। নাজদাতরা তারপর হিজাজে তাদের বিজয় অভিযান শুরু করে।সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়রের পরাজয়ের পর তারা মুহাম্মদের চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের আক্রমণের মুখোমুখি হয়। এখানে তারা মক্কা ও মদিনায় সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং তাইজকে বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু পবিত্র গ্রামগুলো আক্রমণ করতে চায়নি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]

এই সময়ে নাজদাতরা প্রায় পুরো আরবের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। তবে, মতাদর্শগত বিভেদ তাদের শ্রেণীকে বিভক্ত করে—যারা উমাইয়া "অনধিকারীদের" বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চায় এবং যারা দামেস্কের সাথে চুক্তির পক্ষে ছিল। পরবর্তীতে নাজদার কিছু সমর্থক তার কিছু বিশ্বাসের বিরোধিতা করে এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।কট্টরপন্থীরা আতিয়া আল-হানাফির নেতৃত্বে, ইরানের হেলমান্দ অঞ্চলে আশ্রয় নেয় এবং আতাওয়িয়া উপাধি গ্রহণ করে। আরও উগ্র নাজদাতরা, আবু ফুদায়কের নেতৃত্বে ৬৯১ সালে নাজদাকে হত্যা করে এবং তার স্থান দখল করে। তারা পরে উমাইয়া খলিফা আবদ আল-মালিক ইবনে মারওয়ানের বিরুদ্ধে লড়তে চেষ্টা করে। ৬৯২ সালে ফুদায়ক বসরা থেকে একটি খিলাফত আক্রমণ প্রতিহত করে। কিন্তু ৬৯৩ সালে মুশাহহারের যুদ্ধে তারা খিলাফতের কাছে পরাজিত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]

রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর নাজদাতরা অজ্ঞাত হয়ে পড়ে এবং দশম শতকের দিকে হারিয়ে যায়।[১১][১২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Watt 1973, পৃ. 12–14।
  2. Donner 2010, পৃ. 166–167।
  3. Watt 1973, পৃ. 19।
  4. 1 2 Wellhausen 1901, পৃ. 27।
  5. Donner 2010, পৃ. 177, 181।
  6. 1 2 3 Rotter 1982, পৃ. 80।
  7. Morony 1984, পৃ. 473।
  8. Watt 1973, পৃ. 21।
  9. Rubinacci 1960, পৃ. 810–811।
  10. Dixon 1971, পৃ. 169–170।
  11. Crone 1998, পৃ. 56।
  12. Gaiser 2010, পৃ. 131।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]