বিষয়বস্তুতে চলুন

নয়াবাস্তববাদ (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নয়াবাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদ (ইংরেজি: Neorealism) হলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক একটি তত্ত্ব, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ক্ষমতার রাজনীতির ভূমিকার ওপর জোর দেয়, প্রতিযোগিতা এবং সংঘাতকে স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখে এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাকে সীমিত হিসেবে বিবেচনা করে।[] আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈরাজ্যিক অবস্থা বলতে বোঝায় যে, রাষ্ট্রগুলো অন্য রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও নিজ নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। এই কারণে তারা ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িত হতে বাধ্য হয়।

এই তত্ত্বটি সর্বপ্রথম কেনেথ ওয়াল্টজ তার ১৯৭৯ সালের গ্রন্থ থিওরি অব ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সে তুলে ধরেন।[] নয়া উদারনীতিবাদের পাশাপাশি নয়াবাস্তববাদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুটি সবচেয়ে প্রভাবশালী সমসাময়িক ধারার অন্যতম; এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গি ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্বে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।[]

নয়াবাস্তববাদ উত্তর আমেরিকার রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাখা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং এটি ই. এইচ. কার, হ্যান্স মরগেনথাউ, জর্জ কেনান এবং রেনহোল্ড নিবুরদের মতো ধ্রুপদী বাস্তববাদী এই ধারার সংস্কার সাধন করে। নয়াবাস্তববাদকে প্রতিরক্ষামূলক বাস্তববাদ এবং আক্রমণাত্মক নয়াবাস্তববাদ—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।[]

উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

নয়াবাস্তববাদ হলো হ্যান্স মরগেনথাউধ্রুপদী বাস্তববাদ বিষয়ক লেখার একটি আদর্শগত বিচ্যুতি। শাস্ত্রীয় বা ধ্রুপদী বাস্তববাদ মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল কার্যকলাপকে মানব প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছিল এবং একারণে এটিকে বিশ্বনেতাদের অহং (ego) এবং আবেগের অধীন বলে মনে করত।[] এর পরিবর্তে, নয়াবাস্তববাদী চিন্তাবিদরা প্রস্তাব করেন যে, কৌশল, অহংবাদ বা প্রেরণা নয়, বরং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আচরণ নির্ধারণ করে। জন মিয়ারশাইমার তার দ্য ট্র্যাজেডি অব গ্রেট পাওয়ার পলিটিক্স নামক বইয়ে তার নিজের আক্রমণাত্মক নয়াবাস্তবাদ সংস্করণ এবং মরগেনথাউয়ের তত্ত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

তত্ত্ব

[সম্পাদনা]

কাঠামোগত বাস্তববাদ মনে করে যে, আন্তর্জাতিক কাঠামোর প্রকৃতি তার ক্রমবিন্যাস নীতি (নৈরাজ্য), ব্যবস্থার একক (রাষ্ট্র), এবং সক্ষমতার বণ্টন (আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বৃহৎ শক্তির সংখ্যা দ্বারা পরিমাপকৃত) দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র শেষোক্তটিকেই সময়ের সাথে অর্থপূর্ণ পরিবর্তনশীল একটি স্বাধীন চলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[] আন্তর্জাতিক কাঠামোর নৈরাজ্যিক ক্রমবিন্যাস নীতিটি বিকেন্দ্রীভূত, যার অর্থ এখানে কোনো আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই; প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এই ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমান। এই রাষ্ট্রগুলো অহংবাদের যুক্তি অনুসারে কাজ করে, যার অর্থ রাষ্ট্রগুলো কেবল নিজেদের স্বার্থ খোঁজে এবং অন্য রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য নিজেদের স্বার্থকে বিসর্জন দেয় না।[]

সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয় যে, রাষ্ট্রগুলো ন্যূনতমভাবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়, কারণ এটি অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত।[] টিকে থাকার এই চালিকাশক্তিই তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার প্রধান কারণ এবং ফলস্বরূপ এটি নিশ্চিত করে যে রাষ্ট্রগুলো বৈদেশিক হস্তক্ষেপবাদের জন্য এবং তাদের আপেক্ষিক ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলবে। যেহেতু রাষ্ট্রগুলো কখনোই অন্য রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না, তাই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব দেখা দেয়। এর ফলে তাদের আপেক্ষিক ক্ষমতা হ্রাসের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হয়, যা অন্য রাষ্ট্রকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টিতে সক্ষম করতে পারে।[] অনিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট এই আস্থার অভাবকে নিরাপত্তা উভয়সংকট বলা হয়।[]

রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনের দিক থেকে একই রকম বলে মনে করা হয়, কিন্তু সেই প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতার দিক থেকে ভিন্ন। সক্ষমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থানগত স্থানই সক্ষমতার বণ্টন নির্ধারণ করে। সক্ষমতার এই কাঠামোগত বণ্টন অন্য রাষ্ট্রের আপেক্ষিক লাভের ভয় এবং অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সীমাবদ্ধ করে। প্রতিটি রাষ্ট্রের আপেক্ষিক ক্ষমতা সর্বাধিক করার ইচ্ছা এবং আপেক্ষিক সক্ষমতা একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে একটি শক্তির ভারসাম্য তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আকার দেয়। এটি সেই নিরাপত্তা উভয়সংকটেরও জন্ম দেয়, যার মুখোমুখি সব জাতিকে হতে হয়। রাষ্ট্রগুলো দুইভাবে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে: অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং বাহ্যিক ভারসাম্য। অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ঘটে যখন রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে এবং/অথবা সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বাহ্যিক ভারসাম্য ঘটে যখন রাষ্ট্রগুলো আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র বা জোটের শক্তিকে রুখতে জোট গঠন করে।[]

নয়াবাস্তববাদ রাষ্ট্রগুলোকে ব্ল্যাক বক্স হিসেবে দেখে, কারণ এখানে কার্যকারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়, ব্যবস্থার একক এবং তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের ওপর নয়।[১০]

নয়াবাস্তববাদীরা যুক্তি দেন যে, সক্ষমতার বণ্টনের পরিবর্তন অনুসারে মূলত তিন ধরনের সম্ভাব্য ব্যবস্থা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বৃহৎ শক্তির সংখ্যা দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। একটি একমেরু ব্যবস্থায় কেবল একটি বৃহৎ শক্তি থাকে, একটি দ্বিমেরু ব্যবস্থায় দুটি বৃহৎ শক্তি থাকে এবং একটি বহুমেরু ব্যবস্থায় দুইয়ের অধিক বৃহৎ শক্তি থাকে। নয়াবাস্তববাদীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি দ্বিমেরু ব্যবস্থা বহুমেরু ব্যবস্থার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল (অর্থাৎ বৃহৎ শক্তির মধ্যে যুদ্ধ এবং ব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম), কারণ এখানে ভারসাম্য শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের মাধ্যমেই ঘটতে পারে, যেহেতু জোট গঠনের জন্য অতিরিক্ত কোনো বৃহৎ শক্তি থাকে না।[১১] যেহেতু দ্বিমেরু ব্যবস্থায় শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য থাকে, বাহ্যিক ভারসাম্য নয়, তাই ভুল গণনার সুযোগ কম থাকে এবং ফলস্বরূপ বৃহৎ শক্তির মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনাও কমে যায়।[১২] এটি একটি সরলীকৃত এবং তাত্ত্বিক আদর্শ।[১৩]

নয়াবাস্তববাদীরা যুক্তি দেন যে অনুকরণ এবং প্রতিযোগিতার প্রক্রিয়াগুলো রাষ্ট্রগুলোকে পূর্বোক্ত উপায়ে আচরণ করতে পরিচালিত করে। অনুকরণ রাষ্ট্রগুলোকে সফল রাষ্ট্রগুলোর (উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধে বিজয়ী) আচরণ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে, অন্যদিকে প্রতিযোগি রাষ্ট্রগুলোকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়ে তাদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সর্বদা সতর্ক রাখে।[১৪][১৫] আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈরাজ্যিক প্রকৃতি এবং অন্য রাষ্ট্র বা সংস্থার ওপর নির্ভর করতে না পারার কারণে রাষ্ট্রগুলোকে "আত্ম-সহায়তা"-য় নিযুক্ত হতে হয়।[][১৬]

নয়াবাস্তববাদীদের কাছে, সামাজিক রীতিনীতিকে মূলত অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হয়।[১৭][১৮] এটি কিছু ধ্রুপদী বাস্তববাদীর মতের বিপরীত, যারা রীতিনীতিকে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতেন।[১৯] নয়াবাস্তববাদীরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সহজতর করার ক্ষমতা নিয়েও সন্দিহান।[][১৮]

আত্মরক্ষামূলক বাস্তববাদ

[সম্পাদনা]

মিয়ারশাইমারের দ্য ট্র্যাজেডি অব গ্রেট পাওয়ার পলিটিক্স গ্রন্থটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর কাঠামোগত বাস্তববাদ দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে—আত্মরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ। ওয়াল্টজের নয়াবাস্তববাদের মূল সূত্রকে এখন কখনও কখনও আত্মরক্ষামূলক বাস্তববাদ বলা হয়, অন্যদিকে মিয়ারশাইমারের তত্ত্বের পরিমার্জিত রূপকে আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উভয় শাখাই একমত যে ব্যবস্থার কাঠামোই রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিযোগিতায় প্ররোচিত করে, কিন্তু আত্মরক্ষামূলক বাস্তববাদ মনে করে যে অধিকাংশ রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর মনোযোগ দেয় (অর্থাৎ রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা সর্বাধিককারী), অন্যদিকে আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ দাবি করে যে সকল রাষ্ট্রই যতটা সম্ভব ক্ষমতা অর্জন করতে চায় (অর্থাৎ রাষ্ট্রগুলো ক্ষমতা সর্বাধিককারী)।[১৬] আত্মরক্ষামূলক বাস্তববাদ ক্ষেত্রে একটি মৌলিক গবেষণা হলো রবার্ট জার্ভিসের ১৯৭৮ সালের "নিরাপত্তা উভয়সংকট" সম্পর্কিত ক্লাসিক প্রবন্ধ। এটি পরীক্ষা করে যে কীভাবে অনিশ্চয়তা এবং আক্রমণ-প্রতিরক্ষা ভারসাম্য নিরাপত্তা উভয়সংকটকে তীব্র বা নরম করতে পারে।[২০] জার্ভিসের কাজের ওপর ভিত্তি করে স্টিফেন ভ্যান এভেরা একটি আত্মরক্ষামূলক বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের কারণগুলো অন্বেষণ করেন।[২১]

আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ

[সম্পাদনা]

আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ, যা মিয়ারশাইমার দ্বারা বিকশিত, রাষ্ট্রগুলো কী পরিমাণ ক্ষমতা চায় সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। মিয়ারশাইমার প্রস্তাব করেন যে রাষ্ট্রগুলো আপেক্ষিক ক্ষমতা সর্বাধিক করে এবং চূড়ান্তভাবে আঞ্চলিক আধিপত্য অর্জনের লক্ষ্য রাখে।[১৬]

মিয়ারশাইমার ছাড়াও, আরও বেশ কিছু পণ্ডিত ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যে কেন সুযোগ পেলেই রাষ্ট্রগুলো সম্প্রসারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, র‍্যান্ডাল শোয়েলার রাষ্ট্রগুলোর আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে তাদের সংশোধনবাদী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছেন।[২২] এরিক ল্যাবস যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রার সম্প্রসারণকে আক্রমণাত্মক আচরণের উদাহরণ হিসেবে গবেষণা করেছেন।[২৩] ফরিদ জাকারিয়া ১৮৬৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্কের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দাবি করেন যে, এই সময়ের বৈদেশিক হস্তক্ষেপগুলো বাহ্যিক হুমকির উদ্বেগের দ্বারা পরিচালিত ছিল না, বরং মার্কিন প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল।[২৪]

পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিতর্ক

[সম্পাদনা]

বাস্তববাদী চিন্তাধারার মধ্যে

[সম্পাদনা]

যদিও নয়াবাস্তববাদীরা একমত যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামোতে নিরাপত্তা অর্জন প্রাথমিক চালিকাশক্তি। তবে নয়াবাস্তববাদী পণ্ডিতদের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে যে, রাষ্ট্রগুলো কি কেবল টিকে থাকতে চায়, নাকি তারা তাদের আপেক্ষিক ক্ষমতা সর্বাধিক করতে চায়।[২৫][২৬] প্রথম ধারণাটি কেনেথ ওয়াল্টজের চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করে, আর দ্বিতীয়টি জন মিয়ারশাইমার এবং আক্রমণাত্মক বাস্তববাদের ধারণার প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যান্য বিতর্কের মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রগুলো কতটা শক্তির বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখে (ওয়াল্টজের মূল নয়াবাস্তববাদ এবং ধ্রুপদী বাস্তববাদ অনুসারে), বনাম রাষ্ট্রগুলো কতটা হুমকির বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখে (স্টিফেন ওয়াল্ট-এর 'দি অরিজিনস অব অ্যালায়েন্সেস' (১৯৮৭) গ্রন্থে প্রবর্তিত), অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখে (র‍্যান্ডাল শোয়েলারের 'ডেডলি ইমব্যালেন্সেস' (১৯৯৮) গ্রন্থে প্রবর্তিত)।

অন্যান্য চিন্তাধারার সাথে

[সম্পাদনা]

নয়াবাস্তববাদীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যেহেতু যুদ্ধ হলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈরাজ্যিক কাঠামোর ফল, তাই ভবিষ্যতেও এর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, নয়াবাস্তববাদীরা প্রায়ই যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্রমবিন্যাস নীতি থুসিডাইডিসের সময় থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের আবির্ভাব পর্যন্ত মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্ভাবনা কম—এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যান্য তাত্ত্বিকরা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি একটি হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেন। নয়াবাস্তববাদী তত্ত্বের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব এবং এর সহায়ক গবেষণা, যেমন নেভার অ্যাট ওয়ার গ্রন্থটি। নয়াবাস্তববাদীরা এই চ্যালেঞ্জের উত্তরে বলেন যে, গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্বের প্রবক্তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত গবেষণালব্ধ ফলাফল অর্জনের জন্য গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেন। উদাহরণস্বরূপ, কাইজার দ্বিতীয় উইলহেমের জার্মানি, হুয়ান বশের ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এবং সালভাদোর আইয়েনদেচিলিকে এই তাত্ত্বিকদের মতে "সঠিক ধরনের গণতন্ত্র" হিসেবে গণ্য করা হয় না অথবা সেখানকার সংঘাতগুলোকে যুদ্ধ হিসেবে যোগ্যতা দেওয়া হয় না। উপরন্তু, তারা দাবি করেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ কেবল গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্বের আওতার বাইরের অন্যান্য কারণে এড়ানো সম্ভব হয়েছে।[২৭]

গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্বের প্রবক্তারা গণতন্ত্রের প্রসারকে নৈরাজ্যের প্রভাব প্রশমিত করার সহায়ক হিসেবে দেখেন।[২৮] বিশ্বে যথেষ্ট সংখ্যক গণতন্ত্র থাকলে, ব্রুস রাসেট মনে করেন যে, "অন্তত সপ্তদশ শতক থেকে প্রচলিত 'বাস্তববাদী' নীতিগুলোকে (নৈরাজ্য, রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উভয়সংকট) আংশিকভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।"[২৯] জন মুলার বিশ্বাস করেন যে, গণতন্ত্রের প্রসার নয়, বরং অন্যান্য পরিস্থিতি (যেমন, ক্ষমতা) গণতন্ত্র ও শান্তি নিয়ে আসে।[৩০] মুলারের যুক্তির সাথে একমত হয়ে কেনেথ ওয়াল্টজ উল্লেখ করেন যে, "কিছু প্রধান গণতন্ত্র—উনিশ শতকে ব্রিটেন এবং বিশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—তাদের যুগের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল।"[৩০]

নয়াবাস্তববাদী চিন্তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি ধারা হলো নির্মাণবাদী ধারা (নয়া উদারনীতিবাদ ছাড়াও), যা প্রায়শই নয়াবাস্তববাদীদের ক্ষমতার ওপর আলোকপাতের সাথে দ্বিমত পোষণ করে এবং পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রবণতা ব্যাখ্যার জন্য ধারণা এবং পরিচয়ের ওপর জোর দেয়। তবে সম্প্রতি, ইংলিশ স্কুল নামক একটি চিন্তাধারা নয়া-বাস্তববাদী ঐতিহ্যকে নির্মাণবাদী কৌশলের সাথে একীভূত করে সামাজিক রীতিনীতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য একটি বিস্তৃত পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

সমালোচনা

[সম্পাদনা]

নয়াবাস্তববাদ বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষণার অন্যান্য প্রধান ধারা, যেমন উদারনীতিবাদী এবং নির্মাণবাদী ধারা, তাত্ত্বিক এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের দিক থেকে নয়াবাস্তববাদী তত্ত্বের সমালোচনা করেছে। বাস্তববাদের মধ্যে, শাস্ত্রীয় বাস্তববাদীরা[৩১] এবং নব্য-শাস্ত্রীয় বাস্তববাদীরাও[৩২] নয়াবাস্তববাদের কিছু দিকের সমালোচনা করেছেন।

যেসব বিষয়ের জন্য নয়াবাস্তববাদ সমালোচিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উপেক্ষা,[৩৩][৩৪] জাতিগত বিষয়,[৩৫][৩৬] বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত লাভ,[৩৭] প্রতিষ্ঠানের শান্তিস্থাপক প্রভাব,[৩৮] এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে শাসনব্যবস্থার ধরনের প্রাসঙ্গিকতা।[৩৯]

ডেভিড স্ট্র্যাং যুক্তি দেন যে নয়াবাস্তববাদী ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সময়ের সাথে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সার্বভৌমত্বের রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ। সার্বভৌমত্বের এই রূপান্তর সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলেছে, কারণ যেসব রাষ্ট্রকে সার্বভৌম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীলতা দেখেছে।[৪০]

সমসাময়িক আন্তর্জাতিক নীতির জন্য নয়াবাস্তববাদের প্রাসঙ্গিকতার অভাব এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর পররাষ্ট্র নীতি ব্যাখ্যায় এর দুর্বলতার সমালোচনার জবাবে চার্লস গ্লেজার ২০০৩ সালে লিখেছিলেন, "এটা আশ্চর্যজনক বা গুরুতর কোনো সমস্যা নয়, কারণ যে পণ্ডিতরা আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোঝার জন্য বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করেন, তারা বাস্তববাদের মূল কেন্দ্রের বাইরের বিষয়গুলো বোঝার জন্য অসামঞ্জস্যতা বা স্ববিরোধিতা ছাড়াই অন্যান্য তত্ত্বও ব্যবহার করতে পারেন এবং করেছেন।"[৪১]

২০২৫ সালে, অ্যান্টনি হেরন ‘আঞ্চলিক নয়াবাস্তববাদ’ প্রস্তাব করেন, যা একটি তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি নয়াবাস্তববাদকে একটি আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও রাষ্ট্রের আচরণের প্রাথমিক চালক হিসেবে ভূগোলের ওপর জোর দেয়।[৪২]

উল্লেখযোগ্য নয়াবাস্তববাদী

[সম্পাদনা]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]
  1. Jervis, Robert (১৯৯৯)। "Realism, Neoliberalism, and Cooperation: Understanding the Debate"International Security২৪ (1): ৪২–৬৩। ডিওআই:10.1162/016228899560040আইএসএসএন 0162-2889জেস্টোর 2539347এস২সিআইডি 57572295
  2. According to Sagan 2004, পৃ. 91 n.4, Waltz's book remains "the seminal text of neorealism".
  3. Powell 1994, পৃ. 313.
  4. "Security Under Anarchy: Defensive Realism Reconsidered"ciaotest.cc.columbia.edu। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৩
  5. Morgenthau, Hans J. Politics Among Nations: The Struggle for Power and Peace, 5th Edition, Revised. (New York: Alfred A. Knopf, 1978, pp. 4–15)
  6. 1 2 3 4 Waltz, Kenneth (২০০৩)। "The Anarchic Structure of World Politics"International Politics: Enduring Concepts and Contemporary Issues, 6th Edition
  7. 1 2 Mearsheimer, John J. (২০১৪)। The Tragedy of Great Power Politics। New York, NY: Norton। পৃ. আইএসবিএন ৯৭৮-০৩৯৩০২০২৫০Three features of the international system combine to cause states to fear one another: 1) The absence of a central authority that sits above states and can protect them from each other (anarchy), 2) the fact that states always have some offensive military capability, and 3) the fact that states can never be certain about other states' intentions. Given this fear - which can never be wholly eliminated - states recognize that the more powerful they are relative to their rivals, the better their chances of survival.
  8. Rosato, Sebastian (২০২১)। Intentions in Great Power Politics: Uncertainty and the Roots of Conflict। Yale University Press। ডিওআই:10.2307/j.ctv1k03gb9আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-২৫৩০২-৩জেস্টোর j.ctv1k03gb9এস২সিআইডি 233588498
  9. Waltz 2000
  10. Kapstein, Ethan B. (১৯৯৫)। de Mesquita, Bruce Bueno; Lalman, David; Rosecrance, Richard; Stein, Arthur A.; Snyder, Jack (সম্পাদকগণ)। "Is Realism Dead? The Domestic Sources of International Politics"International Organization৪৯ (4): ৭৫১–৭৭৪। ডিওআই:10.1017/S0020818300028502আইএসএসএন 0020-8183জেস্টোর 2706925এস২সিআইডি 143895142
  11. Waltz 1979, পৃ. 132–3.
  12. Waltz 1979, পৃ. 133.
  13. Humphreys 2012.
  14. Waltz 1979
  15. Posen, Barry R. (১৯৯৩)। "Nationalism, the Mass Army, and Military Power"International Security১৮ (2): ৮০–১২৪। ডিওআই:10.2307/2539098আইএসএসএন 0162-2889জেস্টোর 2539098এস২সিআইডি 154935234
  16. 1 2 3 Mearsheimer 2001.
  17. Sandholtz, Wayne; Stiles, Kendall W. (২০০৯)। International Norms and Cycles of Change (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩৮০০৮-৮
  18. 1 2 Mearsheimer, John J. (১৯৯৪)। "The False Promise of International Institutions"International Security১৯ (3): ৫–৪৯। ডিওআই:10.2307/2539078আইএসএসএন 0162-2889জেস্টোর 2539078এস২সিআইডি 153472054
  19. Carr, Edward H. (১৯৩৯)। Twenty Years' Crisis, 1919-1939 (ইংরেজি ভাষায়)। Harper Collins। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-১৩১১২২-২ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  20. Jervis, Robert (1978). "Cooperation under the Security Dilemma." World Politics 30 (2): 167–214.
  21. Van Evera, Stephen (1999). Causes of War: Power and the Roots of Conflict. Ithaca, NY: Cornell University Press.
  22. Schweller, Randall L. (1994). "Bandwagoning for Profit: Bringing the Revisionist State Back In." International Security 19 (1): 72–107.
  23. Labs, Eric J. (1997). "Beyond Victory: Offensive Realism and the Expansion of War Aims." Security Studies 6 (4): 1–49.
  24. Zakaria, Fareed (1998). From Wealth to Power: The Unusual Origins of America’s World Role. Princeton, NJ: Princeton University Press.
  25. Mearsheimer 1995, পৃ. 11 n.27, 16 n.27.
  26. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Mearsheimer 20012 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  27. Waltz 2001, পৃ. 5–41.
  28. Waltz 2000, পৃ. 4.
  29. Russett 1993, পৃ. 24.
  30. 1 2 Waltz 2000, পৃ. 9.
  31. Kirshner, Jonathan (২০১৫)। "The Economic Sins of Modern IR Theory and the Classical Realist Alternative"World Politics (ইংরেজি ভাষায়)। ৬৭ (1): ১৫৫–১৮৩। ডিওআই:10.1017/S0043887114000318আইএসএসএন 0043-8871এস২সিআইডি 146756741
  32. Rose, Gideon (১৯৯৮)। "Neoclassical Realism and Theories of Foreign Policy"World Politics৫১ (1): ১৪৪–১৭২। ডিওআই:10.1017/S0043887100007814আইএসএসএন 0043-8871জেস্টোর 25054068এস২সিআইডি 154361851
  33. Milner, Helen V. (৩০ জুন ২০২০)। Interests, Institutions, and Information: Domestic Politics and International Relations (ইংরেজি ভাষায়)। Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-২১৪৪৯-৮
  34. Milner, Helen (১৯৯১)। "The Assumption of Anarchy in International Relations Theory: A Critique"Review of International Studies১৭ (1): ৬৭–৮৫। ডিওআই:10.1017/S026021050011232Xআইএসএসএন 0260-2105জেস্টোর 20097244এস২সিআইডি 145793567
  35. Freeman, Bianca; Kim, D.G.; Lake, David A. (১১ মে ২০২২)। "Race in International Relations: Beyond the "Norm Against Noticing""Annual Review of Political Science (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ (1): annurev–polisci–০৫১৮২০-১২০৭৪৬। ডিওআই:10.1146/annurev-polisci-051820-120746আইএসএসএন 1094-2939এস২সিআইডি 244446582
  36. Maass, Richard W. (২০২০)। The Picky Eagle: How Democracy and Xenophobia Limited U.S. Territorial Expansion (ইংরেজি ভাষায়)। Cornell University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫০১৭-৪৮৭৫-২
  37. Moravcsik, Andrew (১৯৯৭)। "Taking Preferences Seriously: A Liberal Theory of International Politics"International Organization (ইংরেজি ভাষায়)। ৫১ (4): ৫১৩–৫৫৩। ডিওআই:10.1162/002081897550447আইএসএসএন 1531-5088এস২সিআইডি 7058364
  38. Keohane, Robert O. (২০০৫)। After Hegemony: Cooperation and Discord in the World Political Economy। Princeton: Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০৮-২০২৬-৯
  39. Owen, John M (২০০৪)। "Democratic Peace Research: Whence and Whither?"International Politics (ইংরেজি ভাষায়)। ৪১ (4): ৬০৫–৬১৭। ডিওআই:10.1057/palgrave.ip.8800096আইএসএসএন 1740-3898এস২সিআইডি 144053631
  40. Strang, David (১৯৯১)। "Anomaly and commonplace in European political expansion: realist and institutional accounts"International Organization (ইংরেজি ভাষায়)। ৪৫ (2): ১৪৩–১৬২। ডিওআই:10.1017/S002081830003304Xআইএসএসএন 1531-5088এস২সিআইডি 154734299
  41. Glaser, Charles L. (২০০৩)। "Structural Realism in a more complex world"Review of International Studies (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ (3): ৪০৩–৪১৪। ডিওআই:10.1017/S0260210503004030আইএসএসএন 1469-9044এস২সিআইডি 36248283
  42. Heron, Anthony (২০২৫)। "Regional Neorealism: Rethinking Geography and Geopolitical Competition"

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন

[সম্পাদনা]

গ্রন্থ

[সম্পাদনা]

নিবন্ধ

[সম্পাদনা]