নবি ক্লার্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নবি ক্লার্ক[১]
Nobby Clark cricketer 1934.jpg
১৯৩৪ সালে ভারত গমনকালীন নবি ক্লার্ক
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক১৭ আগস্ট ১৯২৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট১৮ আগস্ট ১৯৩৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩৮
রানের সংখ্যা ৩৬ ১৯৭১
ব্যাটিং গড় ৯.০০ ৬.২৫
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ১০ ৩০
বল করেছে ১৯৩১ ৬০৯৯৭
উইকেট ৩২ ১২০৮
বোলিং গড় ২৮.০৯ ২১.৪৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ৬৩
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৫
সেরা বোলিং ৫/৯৮ ৮/৫৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ১০২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৮

এডওয়ার্ড উইনচেস্টার নবি ক্লার্ক (ইংরেজি: Nobby Clark; জন্ম: ৯ আগস্ট, ১৯০২ - মৃত্যু: ২৮ আগস্ট, ১৯৮২) হান্টিংডনশায়ারের এল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ফাস্ট বোলার ছিলেন। পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন নবি ক্লার্ক

আন্তঃযুদ্ধের সময়কালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেন। ঐ সময়ে ক্লাবটি বেশ দূর্বল ছিল। পরবর্তীতে এ ক্লাবটিকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে প্রভূতঃ সহায়তা করেন নবি ক্লার্ক।

তাস্বত্ত্বেও প্রকৃত পেস বোলার হিসেবে নবি ক্লার্ক বলকে সুইং করাতে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। মাঝামাঝি সময়ে বাঁক ঘুরিয়ে ব্যাটসম্যানকে স্লিপে ক্যাচ দিতে প্রলুদ্ধ করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শীর্ষে আরোহণকালে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলারের মর্যাদা লাভ করেছেন। ডগলাস জারদিনের নেতৃত্বে বিল ভোসের ন্যায় তিনিও লেগ-সাইডে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন। তবে, সুন্দর ভঙ্গীমায় বোলিং করলেও তিনি সফলতা পাননি। বিল ভোসের মতো ক্লার্কও প্রায়শঃই রাউন্ড দি উইকেট বোলিং করেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবনের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হ্যারল্ড লারউড বাদে পেশাদার বোলারদের মধ্যে অন্যতম দ্রুতগতির বোলার ছিলেন নবি ক্লার্ক। তার সুন্দর বোলিং ভঙ্গীমার দরুণ প্রচুর সময় ধরে বোলিং করতেন। তবে নটিংহ্যামশায়ারের শর্ট লেগে অবস্থানকারী ফ্রেড বেকওয়েল বাদে অন্যদের কাছ থেকে ফিল্ডিংয়ে খুব কমই সহায়তা পেয়েছেন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রকৃতপক্ষে বেশ দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। জুলাই, ১৯২৫ থেকে জুন, ১৯২৭ সাল পর্যন্ত পঁয়ষট্টিটি ইনিংস খেললেও কোন রানকেই দুই অঙ্কের কোঠায় পৌঁছিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০-এর অধিক রান তুলতে পারেননি।

পিটারবোরার কাছাকাছি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন নবি ক্লার্ক। ইয়র্কশায়ার লীগ ক্রিকেটে সফলতা লাভের পর কিশোর অবস্থাতেই ১৯২২ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ১৯২৫ সালে নিজেকে মেলে ধরেন। কেন্টের বিপক্ষে এগারো উইকেট নিয়ে বিস্ময়করভাবে দলকে জয় এনে দেন। জাতীয় গড়ে শীর্ষ বিশে ছিলেন। ১৯২৮ সালে টেস্টের প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিলেও আঘাতের কারণে অ্যাশেজ সফর থেকে দূরে সরে দাঁড়ান।

১৯২৯ সালে মাত্র একটির জন্য দেড়শত উইকেট লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। কেনিংটন ওভালে প্রথম টেস্ট খেলেন। তবে, লেগ-থিওরির কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। মারাত্মকভাবে আর্থিক সঙ্কটে নিপতিত হবার কারণে নর্দাম্পটনশায়ারকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে বাইরে চলে আসতে হয়। এরফলে নবি ক্লার্ককে জুলাই, ১৯৩০ সালে লীগ ক্রিকেটের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ১৯৩২ সালে তিনি পুণরায় কাউন্টি দলটিতে ফিরে আসেন।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[২][৩] এ সময়ে তিনি এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত ও সিলন গমন করেন।

১৯৩৩ মৌসুমে জর্জ ম্যাকাউলি তার খেলার মান উত্তরণের সঙ্কেত দেন ও সাত বছর পর পুণরায় টেস্ট দলে অন্তর্ভূক্ত হন। শুরুরদিকে তাকে দলে না নেয়ায় উইজডেন বিরূপ মন্তব্য করে। তবে, খেলা শুরুর পূর্বে ই. ডব্লিউ. ক্লার্ক বাদ পড়লে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলেন।[৪] ১৯৩৩ সালের শুরুতে অবিস্মরণীয় বোলিং করেন। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম খেলায় ১০/৬১ পান। প্রথম ছয় খেলায় ৫৭৪ রান দিয়ে ৫২ উইকেট দখল করেন। তবে, আঘাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে খেলতে না পারলেও দুই টেস্টে এগারো উইকেট লাভ করেন। এরফলে ঐ মৌসুমের শীতকালে ভারতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সফরে যাবার জন্য মনোনীত হন।

১৯৩৪ সালে আবারো আঘাতের কবলে পড়েন। তাস্বত্ত্বেও নবি ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে খুব সুন্দর বোলিং করলেও দূর্ভাগ্যবশতঃ কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ টেস্টে ৫/৯৮ পান। তন্মধ্যে, বিল ব্রাউন, বিল পন্সফোর্ড, স্ট্যান ম্যাককাবেঅ্যালান কিপাক্সের ন্যায় শক্তিধর ব্যাটসম্যানকে আউট করেছিলেন। এছাড়াও দুইবার অল্পের জন্য ডন ব্র্যাডম্যানকে আউট করতে ব্যর্থ হন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৩৫ সালে একাকী বোলিং করে নর্দাম্পটনশায়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ক্লাবটি ধারাবাহিকভাবে তেরো খেলায় পরাভূত হয়েছিল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে খেলেন। তবে আবারো আঘাতগ্রস্ত হন। ১৯৩৬ সালে ব্যাটিং সহায়ক পিচে ভালো বোলিং করলেও বয়সের ভারে কয়েক ওভার পরই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। এরপর তাকে আর টেস্ট দলের উপযোগীরূপে গণ্য করা হয়নি।

নরফোকের কিংস লিন এলাকায় ৮০ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. CricketArchive – confirmation of "Nobby" as universally used name.
  2. ACS (১৯৮২)। A Guide to First-Class Cricket Matches Played in the British Isles। Nottingham: ACS। 
  3. "Marylebone Cricket Club Players"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭ 
  4. "England v West Indies 1933"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। ১৯৩৪। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]