নটীর পূজা (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
নটীর পূজা
পরিচালক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রযোজক বীরেন্দ্রনাথ সরকার
রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উৎস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক 
নটীর পূজা
শ্রেষ্ঠাংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীগণ
সুরকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
চিত্রগ্রাহক নীতিন বসু
সম্পাদক সুবোধ মিত্র
প্রযোজনা
কোম্পানি
মুক্তি
  • ২২ মার্চ ১৯৩২ (১৯৩২-০৩-২২) (কলকাতা)[১]
দেশ ব্রিটিশ ভারত
ভাষা বাংলা

নটীর পূজা হল ১৯৩২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এটিই একমাত্র চলচ্চিত্র যেটিতে বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[১][২][৩] ছবিটি রবীন্দ্রনাথেরই নটীর পূজা (১৯২৬) নাটকের একটি রেকর্ডিং।[৪]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

১৯২৭ সালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে প্রথম নটীর পূজা নাটকটি মঞ্চায়িত হয়েছিল।[২] এরপর ১৯৩১ সালের শেষদিকে রবীন্দ্রনাথ আবার নাটকটি মঞ্চস্থ করার উদ্দেশ্যে শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় আসেন। সেই সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক তথা নিউ থিয়েটার্স ক্যালকাটার প্রতিষ্ঠাতা বীরেন্দ্রনাথ সরকার রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণ জানান নিউ থিয়েটার্সের ব্যানারে নাটকটিকে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত করার জন্য।[২] রবীন্দ্রনাথও মঞ্চায়নের ভঙ্গিতে নাটকটি চলচ্চিত্রায়িত করতে রাজি হন।[১]

চলচ্চিত্রায়ণ[সম্পাদনা]

স্টুডিও’র ১ নং ফ্লোরে চার দিন ধরে ছবিটির শ্যুটিং চলেছেন। রচনা ও পরিচালনা ছাড়া রবীন্দ্রনাথ এই ছবিটিতে অভিনয়ও করেছিলেন। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সিনেম্যাটোগ্রাফার ছিলেন নীতিন বসু। চলচ্চিত্রের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে নাটক মঞ্চায়নের ভঙ্গিতে ছবিটির শ্যুটিং চলেছিল।[২]

মুক্তি ও প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

১৯৩২ সালের ২২ মার্চ তারিখে নটীর পূজা নাটকের ১০,৫৭৭ ফুট দীর্ঘ চলচ্চিত্র রূপটি কলকাতার চিত্রা সিনেমা হলে মুক্তি পায়।[১][৫] নিউ থিয়েটার্স কর্তৃপক্ষ মনে করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং এই ছবিতে অভিনয় করেছেন বলে ছবিটি জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। তাঁরা লভ্যাংশের ৫০% শান্তিনিকেতন শিক্ষাপ্রকল্পে দান করতেই সম্মত হন। কিন্তু ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীকালে ছবিটির ব্যর্থতার জন্য মঞ্চায়নের ভঙ্গিতে চলচ্চিত্রায়ণের পদ্ধতিটিকেই দায়ী করা হয়।[১] বীরেন্দ্রনাথ সরকারের মনে হয়েছিল, অল্পদিনের শ্যুটিং কর্মসূচিই এই ছবির বাণিজ্যিক ব্যর্থতার কারণ।[৬]

যদিও কোনও কোনও বাঙালি সমালোচক ছবিটির "নান্দনিক মূল্যে"র (বা রাবীন্দ্রিক গুণাবলীর) প্রশংসা করেছিলেন।[১] দ্য বেঙ্গলি পত্রিকায় যে সমালোচনাটি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে ছিল:[১]

As everyone knows, apart from the charm lent to it by the Poet, the story has an intense appeal of its own. And considering the fact that the artistes were all amateurs in their teens, it may be said without hesitation that the charm has not suffered and the interest of the play has been maintained throughout. The songs, under the direction of Mr Dinendra Nath Tagore, have been well sung and are sure to be appreciated by all, especially the swan song of the dancing girl.
But the most striking feature of the film is the interpretative dance of the artiste who played the role of Srimati. To Rabindranath belongs the credit for revival of this ancient Indian art and its inclusion in this film must give an opportunity to many who have not seen it danced by the poet and his pupils during the seasonal festivals he is in the habit of celebrating in Calcutta to see and admire these dances.

বঙ্গানুবাদ:

সকলেই জানেন, কবি যে মায়াজাল বিস্তার করেছেন তার বাইরেও আখ্যানভাগের নিজস্ব একটি গভীর আবেদন বিদ্যমান। শিল্পীরা সকলেই অপেশাদার কিশোর-কিশোরী। এই কথা বিবেচনা করে নির্দ্বিধায় বলা চলে যে, উক্ত মায়াজালটি বিনষ্ট হয়নি। বরং নাটকটি আগাগোড়াই মনোগ্রাহী হয়েছে। শ্রীযুক্ত দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগীত পরিচালনায় গানগুলি সুগীত। নিশ্চিতরূপে এগুলি, বিশেষ করে নর্তকীর হংসগীতিখানি, সকলের প্রশংসা অর্জন করবে।
তবে এই চলচ্চিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যটি হল শ্রীমতীর ভূমিকায় অভিনয়কারী শিল্পীর ব্যাখ্যামূলক নৃত্যটি। প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলার পুনরুজ্জীবনের কৃতিত্ব রবীন্দ্রনাথের। কলকাতায় ঋতু-উৎসবে তিনি ও তাঁর শিষ্যশিষ্যাগণ নৃত্যসহযোগে তা উপস্থাপন করেন। যাঁরা দেখেন, তাঁরা সেই নৃত্যকলার প্রশংসা করেন। অনেকে দেখার সুযোগ পান না। এই চলচ্চিত্রটি নিঃসন্দেহে তাঁদের সেই নৃত্য দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

পরবর্তী ঘটনাবলী[সম্পাদনা]

নিউ থিয়েটার্সের একটি অগ্নিকাণ্ডে এই ছবির প্রিন্টগুলি নষ্ট হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক কালে, সেই ফিল্মগুলি পুনরুদ্ধার করা গিয়েছে।[২]

কলাকুশলী[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sharmistha Gooptu (২০১১)। Bengali Cinema: An Other Nation। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 46–। আইএসবিএন 978-0-415-57006-0। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  2. "16th KFF: Rabindranath Tagore on Celluloid"। Bollywood Trade। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১২ 
  3. Ashish Rajadhyaksha; Paul Willemen (২৬ জুন ১৯৯৯)। Encyclopaedia of Indian cinema। British Film Institute। পৃষ্ঠা 623। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  4. "Natir Puja revisited (documentary)"। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১২ 
  5. Rabindranath Tagore (১৯৬১)। A centenary volume, 1861-1961। Sahitya Akademi। পৃষ্ঠা 493। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ 
  6. "The Glory that Was: An Exploration of the Iconicity of New Theatres" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]