নওয়াজেস আহমদ
নওয়াজেস আহমদ | |
|---|---|
| পূর্ব পাকিস্তানের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ | |
| গভর্নর | আব্দুল মোতালেব মালিক |
| প্রশাসক | আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী |
| পূর্বসূরী | অজ্ঞাত |
| উত্তরসূরী | বিলুপ্ত |
| পূর্ববঙ্গ আইনসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ – ১২ মার্চ ১৯৫৪ | |
| নেতা | খাজা নাজিমুদ্দিন নুরুল আমিন |
| পূর্বসূরী | নওয়াজেস আহমদ |
| উত্তরসূরী | আসন বিলুপ্ত |
| নির্বাচনী এলাকা | নদীয়া পূর্ব |
| বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল ১৯৪৬ – ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ | |
| নেতা | হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খাজা নাজিমুদ্দিন |
| পূর্বসূরী | আফতাব হোসেন জোয়ার্দার |
| উত্তরসূরী | নওয়াজেস আহমদ |
| নির্বাচনী এলাকা | নদীয়া পূর্ব |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৯১৬ রানাঘাট, নদীয়া জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ১৩ মার্চ ২০০০ (বয়স ৮৩–৮৪) চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ মুসলিম লীগ |
| অন্যান্য রাজনৈতিক দল | কাউন্সিল মুসলিম লীগ (১৯৬২–১৯৭১) পাকিস্তান মুসলিম লীগ (১৯৪৭–১৯৬২) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (প্রাক ১৯৪৭) |
| বাসস্থান | শরণ বাড়ি, কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা |
| শিক্ষা | কলাবিদ্যায় স্নাতক আইনবিদ্যায় স্নাতকোত্তর |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | মাজদিয়া রেলবাজার উচ্চ বিদ্যালয় কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | আইনজীবী |
নওয়াজেস আহমদ (১৯১৬-২০০০) একজন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন।[১]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]তিনি ১৯১৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নদীয়া জেলার রানাঘাটের শ্যামনগরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৮ সালে মাজদিয়া রেলবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি দুই বছর পর কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় পাশ করে স্নাতক অর্জন করেন এবং রিপন কলেজ থেকে কলাবিদ্যায় স্নাতক ও আইনে স্নাতকোত্তর তথা এলএলএম অর্জন করেন।[২][৩]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]তিনি ১৯৩৮ সাল থেকে রানাঘাট আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৪৬ সালের বঙ্গীয় আইনসভা নির্বাচনে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ হিসেবে অংশ নিয়ে নদীয়া পূর্ব আসনের আইনসভা সদস্য হোন।[২][৪] ভারত বিভাজনের আগে সপরিবারে তিনি জেলার চুয়াডাঙ্গা মহকুমার বাস্তুপুরে স্থানান্তরিত হোন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি এর নবগঠিত পূর্ববঙ্গ প্রদেশের কুষ্টিয়া জেলার প্রথম চেয়ারম্যান,[২] কুষ্টিয়া জেলা স্কুল বোর্ডের সভাপতি এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগের সংসদীয় দলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।[৩] তিনি ষাটের দশকে কাউন্সিল মুসলিম লীগের সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মালেক মন্ত্রিসভায় তাকে মন্ত্রী বানানো হয়।[৫] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল।[৬] ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রিসভার আটক সদস্যদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করায় তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।[৭] স্বাধীনতার পর নওয়াজেস বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।[৭] তিনি চুয়াডাঙ্গা আদালতে কাজ করেছেন এবং চুয়াডাঙ্গা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।[২]
ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু
[সম্পাদনা]তার বাবার নাম মনির উদ্দীন। চুয়াডাঙ্গা মহকুমার ৯টি গ্রামে তার জমিদারী ছিল।[২] তাকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ খান সাহেব উপাধি প্রদান করেছিল যা তিনি ১৯৪৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের আহ্বানে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।[৩] তার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার কোর্ট রোডে অবস্থিত নিজ বাসভবনে বসবাস করতেন এবং সেখানেই ১৩ মার্চ ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ মোমেন, এম এ (৬ মার্চ ২০২১)। "পাকিস্তানের বিখণ্ডীকরণ ঠেকাতে..."। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 রোকন, শরিফুল ইসলাম (২১ জুলাই ২০২২)। "আমাদের রাজনীতির কালপুরুষেরা- পর্ব ২"। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 "সংক্ষিপ্ত পরিচিতি"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
- ↑ Assembly Proceedings Official Report Bengal Legislative Assembly Second Session, 1946 (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ৭১। বেঙ্গল গভর্মেন্ট প্রেস। পৃ. iii।
- ↑ হাসান হাফিজুর রহমান, সম্পাদক (২০০৯) [১৯৮২]। "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র"। খণ্ড সপ্তম খণ্ড। হাক্কানী পাবলিশার্স। পৃ. ৫৪০।
- ↑ ইশতিয়াক, আহমাদ (২৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১: সাবেক গভর্নর ডা. এ এম মালিকসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আটক"। দ্য ডেইলি স্টার।
- 1 2 একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র। ১৯৯২ [১৯৮৭]। পৃ. ২১, ১৮৬।
- ১৯১৬-এ জন্ম
- ২০০০-এ মৃত্যু
- পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী
- বাংলাদেশী আইনজীবী
- নদিয়া জেলার ব্যক্তি
- বাঙালি জমিদার
- পূর্ববঙ্গ আইনসভার সদস্য ১৯৪৭-১৯৫৪
- বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ১৯৪৬-১৯৪৭
- বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- পাকিস্তান মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ
- কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ব্যক্তি
- চুয়াডাঙ্গার ব্যক্তি