বিষয়বস্তুতে চলুন

ধোঁয়াশা (হেজ্)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবুজায় হার্মাত্তান ধোঁয়াশা
২০১৬ সালের উত্তর অয়নান্তের সূর্যাস্তের সময় ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার একটি দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশা যখন মোহাভি মরুভূমির ওপর ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো ফিল্টার ছাড়াই সূর্যের ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল।
২০১৬ সালের জুন মাসে ইনল্যান্ড এম্পায়ারের দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশা যখন মোহাভি মরুভূমির ওপর ধোঁয়া-দূষণ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা সূর্য এবং সামগ্রিক ভূপ্রকৃতির দৃশ্যমান বৈপরীত্য বা কন্ট্রাস্ট হ্রাসের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

ধোঁয়াশা মূলত একটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা, যেখানে ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং বাতাসে ভেসে থাকা অন্যান্য শুষ্ক সূক্ষ্ম কণা দৃশ্যমানতা এবং আকাশের স্বচ্ছতাকে ব্যাহত করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা তাদের 'ম্যানুয়াল অফ কোড্স্'-এ অণুভূমিক দৃশ্যমানতা হ্রাসকারী কণাসমূহকে নিম্নলিখিত বিভাগগুলোতে শ্রেণীবদ্ধ করেছে: ঘন কুয়াশা, বরফ কুয়াশা, বাষ্প কুয়াশা, কুয়াশা/কুয়াশিকা, ধোঁয়াশা, ধোঁয়া, আগ্নেয়গিরির ছাই, ধূলিকণা, বালু , এবং তুষার।[] ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী কণাগুলোর উৎসের মধ্যে রয়েছে কৃষি কার্যক্রম (যেমন ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো বা শুষ্ক আবহাওয়ায় জমি চাষ), যানবাহন, শিল্পকারখানা, ঝড়ো আবহাওয়া, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা এবং দাবানল।দূর থেকে লক্ষ্য করলে (যেমন কোনো অগ্রসরমান উড়োজাহাজ থেকে) এবং সূর্যের সাপেক্ষে দেখার কোণের ওপর ভিত্তি করে ধোঁয়াশাকে বাদামী বা নীলাভ মনে হতে পারে, যেখানে কুয়াশিকা (mist) সাধারণত নীলাভ ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। যদিও ধোঁয়াশাকে সাধারণত শুষ্ক বাতাসে ঘটা একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কুয়াশিকা তৈরির প্রক্রিয়াটি মূলত সম্পৃক্ত ও আর্দ্র বাতাসে ঘটে থাকে। তবে, ধোঁয়াশার কণাগুলো অনেক সময় ঘনীভবন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে যা জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে কুয়াশার জলকণা তৈরিতে সহায়তা করে; ধোঁয়াশার এই বিশেষ রূপটি 'সজল ধোঁয়াশা' (wet haze) নামে পরিচিত।

আবহাওয়া বিজ্ঞানের সাহিত্যে, 'ধোঁয়াশা' শব্দটি সাধারণত বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকা সজল প্রকৃতির অ্যারোসলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা দৃশ্যমানতা হ্রাস করে। এই ধরণের অ্যারোসল সাধারণত কিছু জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়; দহন প্রক্রিয়ার সময় নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস যখন বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত হয়ে সালফিউরিক অ্যাসিডের তরল ক্ষুদ্র বিন্দুকণায় রূপান্তরিত হয়, তখনই এটি ঘটে। সূর্যের আলো, উচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের অনুপস্থিতিতে এই বিক্রিয়াগুলো আরও ত্বরান্বিত হয়। সজল-ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী অ্যারোসলের একটি ক্ষুদ্র অংশ গাছপালা থেকে নির্গত বিভিন্ন যৌগ (যেমন - টারপিন) থেকেও তৈরি হতে পারে। এই সকল কারণে, সজল ধোঁয়াশা মূলত একটি উষ্ণ ঋতু বা গ্রীষ্মকালীন প্রাকৃতিক ঘটনা। প্রতি গ্রীষ্মে যখন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করে, তখন হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এমন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হতে পারে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "WMO Manual on Codes" (পিডিএফ)। ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭