ধারওয়াড় জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ধারওয়াড় জেলা
কর্ণাটকের জেলা
অমৃতেশ্বর মন্দির, আন্নিগেরী
অমৃতেশ্বর মন্দির, আন্নিগেরী
কর্ণাটকের মানচিত্রে ধারওয়াড় জেলার অবস্থান
কর্ণাটকের মানচিত্রে ধারওয়াড় জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১৫°২৩′ উত্তর ৭৫°০৭′ পূর্ব / ১৫.৩৯° উত্তর ৭৫.১২° পূর্ব / 15.39; 75.12স্থানাঙ্ক: ১৫°২৩′ উত্তর ৭৫°০৭′ পূর্ব / ১৫.৩৯° উত্তর ৭৫.১২° পূর্ব / 15.39; 75.12
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যকর্ণাটক
সদরধারওয়াড়
তালুচধারওয়াড়, হুবলি নগর, হুবলি গ্রামীণ, নবলগুন্দ, কুন্দগোল, কলঘাটগি, আলনাবার, আন্নিগেরী[১]
সরকার
 • ডেপুটি কমিশনার এবং জেলাশাসকনীতেশ পাটিল, আইএএস
আয়তন
 • মোট৪,২৬৫ বর্গকিমি (১,৬৪৭ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১৮,৪৭,০২৩
 • জনঘনত্ব৪৩০/বর্গকিমি (১,১০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • দাপ্তরিককন্নড়, ইংরেজি
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
টেলিফোন কোড+ ৯১ (০)৮৩৬
যানবাহন নিবন্ধনKA-25 (কেএ-২৫), KA-63 (কেএ-৬৩)
ওয়েবসাইটdharwad.nic.in

ধারওয়াড় জেলা হলো দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত কর্ণাটক রাজ্যের মধ্যস্থলে অবস্থিত একটি জেলা৷ এটি কর্ণাটকের চারটি প্রশাসনিক বিভাগের বেলগাভি বিভাগের অন্তর্গত৷ জেলাটির প্রশাসনিক সদর ধারওয়াড় শহরে অবস্থিত৷ দুগ্ধজাত দিয়ে প্রস্তুত ধারওয়াড় প্যাড়ার জন্য শহরটি উল্লেখযোগ্য৷ ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ধারওয়াড় শহরের সাথে হুবলি শহর যুক্ত হয়ে হুবলি-ধারওয়াড় যুগ্মনগরী গঠন হয়৷ এর ক্ষেত্রফল ২১৩ বর্গকিলোমিটার৷ ধারওয়াড় বেঙ্গালুরু শহর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, পুণে শহরের দক্ষিণ-পূর্বে চেন্নাই-পুণে ৪নং জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত৷ ক্রেইটস নর্থ ইউনিট অব ন্যাশনাল প্রোজেক্টস কন্সট্রাাকশন কর্পোরেশনের সদর দপ্তরটি এখানে অবস্থিত৷ কর্ণাটক উচ্চ আদালতের ধারওয়াড় বেঞ্চটিও এখানে অবস্থিত৷

১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে ধারওয়াড় জেলা ১৩,৭৩৮ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিলো৷ কিন্তু ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে পূর্বতন ধারওয়াড় জেলা থেকে নতুন গদাগ এবং হাবেরী জেলা গঠন করা হয় এবং কিছু অংশ দাবণগেরে জেলার সাথে যুক্ত করা হয়৷

ধারওয়াড় জেলার মানচিত্র

ইতিহাস[সম্পাদনা]

"ধারওয়াড়" শব্দটির অর্থ দীর্ঘ যাত্রার পর সামান্য বিশ্রাম বা এককথায় পান্থশালা। ধারওয়াড় অঞ্চলটি মালেনাড়ু এবং সমতল ভূমির মধ্যবর্তী স্থান হওয়ার ফলে বহু বছর ধরে বহু পর্যটক পর্বত অতিক্রম করে এই স্থানে বিশ্রাম নিতেন। অনুমান করা হয় এই নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'দ্বারবাড়' থেকে, যেখানে 'দ্বার' শব্দের অর্থ "দরজা" এবং 'বাট' বা 'বাড' শব্দের অর্থ বসতি বা "শহর"৷

নামের ইতিহাস প্রসঙ্গে আরেকটি জনশ্রুতি রয়েছে যে ধারওয়াড়ে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সময়ে বিজয়নগরের রাজারা এই অঞ্চলে ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে একজন সামন্তকে প্রেরণ করেন, যার নাম ছিল "ধারব"। তার নাম থেকেই এই অঞ্চলটি ধারওয়াড় নামে পরিচিত হয়। বেশকিছু শিলা লেখ থেকে পাওয়া গেছে যে ধারওয়াড়ের পুরাতন নাম ছিল কম্পনস্থান।

নিকটবর্তী নরেন্দ্র গ্রামের দুর্গা দেবী মন্দিরের সংলগ্ন স্থান এবং আরএলএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দী প্রাচীন শিলালেখগুলিতে ধারওয়াড়ের উল্লেখ রয়েছে। অতএব বলা যায় ধারওয়াড় ৯০০ বছর কিংবা তারও অধিক পুরনো। ধারওয়াড় শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গরগ গ্রামটির বোক্যাপুর হ্রদের পার্শ্ববর্তী হনুমান মন্দির থেকেও একটি শিলালেখ উদ্ধার করা হয়েছে।

খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে চালুক্য রাজারা ধারওয়াড় অঞ্চলে শাসন করতেন। একটি অনুশাসন থেকে পাওয়া গেছে যে ১১১৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এইখানে ভাস্করদেব নামে একজন রাজা ছিলেন। খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতকে প্রথমবার বাহমানি সালতানাত|বাহমানি নবাবরা এই অঞ্চলের দখল নেন, যদিও পরবর্তীকালে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের হিন্দু রাজারা এই অঞ্চলটি নিজেদের সামাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন৷ জনশ্রুতি অনুসারে ঐ সাম্রাজ্যের ধর রাও নামে এক সরকারি উচ্চপদস্থ ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে ধারওয়াড় শহরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন৷ ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে তালিকোটের যুদ্ধে বিজয়নগরের রাজারা পরাজিত হলে কিছু বছরের জন্য ধারওয়াড় স্থানীয় হিন্দু শাসকের অধীনস্ত হয়৷ ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহ ধারওয়াড়ের দখল নেন এবং নিজের সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত করেন৷ [২] আদিলশাহ এখানে একটি দুর্গ নির্মান করে, যা স্থানীয়দের নিকট মন্না কেল্লা নামে পরিচিত হয়, কিন্তু পরে তিনি এটির নাম রাখেন নজরাতাবাদ৷ এই দুর্গটি নির্মাণ এরপর থেকেই ধারওয়াড় বাকি সকল রাজা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে এবং ঔরঙ্গজেব, শিবাজী ঔরঙ্গজেবের পুত্র মোয়াজ্জম, পেশোয়া, বালাজি বাজিরাও পেশোয়া, হায়দার আলী, টিপু সুলতান প্রভৃতি শাসকবর্গের পর অন্তিমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে এই দূর্গটি মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব দখল করেন। ধারওয়াড়ে মোগল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে এই অঞ্চলটি মারাঠা সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীকালে তা আবার পুনের পেশোয়াদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে মহীশূর সাম্রাজ্যের শাসক ধারওয়াড়ের অধিকাংশ অঞ্চল নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিনি ধারওয়াড় দুর্গ দখল করেন। ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে মারাঠারা হায়দার আলীর থেকে এই দূর্গটি পুনরুদ্ধার করেন। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পুণের পেশোয়াদের পরাস্ত করে এটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন৷ ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বোম্বাই প্রেসিডেন্সীর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ছিলো ধারওয়াড়৷ [২] ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে ব্রিটিশ ভারতের আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা স্থানীয় শাসকরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন৷ এর মধ্যে নরগুন্দের বাবাসাহেব এবং কিত্তুরের রাণী চেন্নাম্মা উল্লেখযোগ্য৷

সময়ের সাথে সাথে জায়গীররা একাধিক পদবীতে ভূষিত হতে থাকেন, এমনি কিছু ক্ষেত্রে তার দেশীয় রাজ্য গঠনে সমর্থ হয়ে উঠে নিজেদের ঐসমস্ত ছোটো রাজ্যের রাজা বলে দাবী করা শুরু করেন৷ জায়গীররা মূলত ব্রিটিশ দ্বারা উৎখাতিত স্থানীয় সামন্ত ছিলেন৷ ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এরকম উদাহরণ ছিলো প্রচুর৷ জায়গীরদাররা রাজ্যের ভূমি করের বেশকিছুটা অংশ ভোগ করতেন এবং পরিবর্তে তাদের সৈন্যসামন্ত দিতে হতো ব্রিটিশদেরকে৷ গড়ে প্রতি জায়গীরে থাকতো প্রায় ৫,০০,০০০ হেক্টর জমি তথা ৫০-১৫০ টি গ্রাম৷ মুঘলরা ঐ জায়গীরদারদের বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব ও তার প্রসারকোদমিয়ে রাখতেন৷ সপ্তোদশ শতাব্দীতে জায়গীরদারি প্রথা বংশানুক্রমিক হওয়া শুরু হয় এবং অষ্টোদশ শতাব্দীতে স্থায়িত্বপ্রাপ্ত হয়৷

ধারওয়াড়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কর্ণাটকের স্বাধীনতা যুদ্ধি এবং কর্ণাটক কুলপুরোহিত শ্রী আলুর বেঙ্কটরাও। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল "কর্ণাটক গাঁথা বৈভব" সংগঠনটি সকলকে একত্রিত করে একটি রাজ্যের দাবি তুলেছিলো।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ধারওয়ার যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিল। এই সময় ব্রিটিশরা প্রথম ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু করেন। ধারওয়াড়ে প্রথম ইংরেজী মাধ্যম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে। এরপর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বাসেল মিশন অর্গানাইজেশন আরেকটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু করেন।‌ ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশরা বারমল স্কুল নামে একটি নতুন ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়চালু করেন যা পরবর্তীকালে একটি প্রশিক্ষণ কলেজে পরিণত হয়। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে সীতাপুর, লক্ষ্মণহাল্লি, হাবেরীপেটে, বাগতলন, মড়িহাল,গলগঞ্জিকোপ, মালাপুর, কমলাপুর, নারায়ণপুর, সপ্তপুর, আত্তিকোলা এবং হোশায়েল্লাপুর অঞ্চলগুলি ধারওয়াড় নগর নিগমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি রেল স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯০১ খ্রিস্টাব্দে জনগণনা অনুসারে শহরটির জনসংখ্যা ছিল ৩১,২৭৯ জন, এবং এই সময় এখানে একটি কার্পাস কারখানা এবং দুটি বিদ্যালয় ছিল যে গুলির মধ্যে একটি পরিচালনা করতো ব্রিটিশ সরকার এবং অপরটি পরিচালনা করতো বাসেল মিশন।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বোম্বে প্রেসিডেন্সি স্বাধীন ভারতের বোম্বে রাজ্যে পরিণত হয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন আইন এর মাধ্যমে এই বোম্বে রাজ্যের দক্ষিনে অবস্থিত কন্নড় ভাষাভাষী জেলাগুলিকে (ধারওয়াড় সহ) মহীশূর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে রাজ্যটির নাম কর্ণাটক রাখা হয়।[৩] ধারওয়াড়ের মহাবিদ্যালয়গুলি কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত, এখানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সাইন্সেস অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ধারওয়াড়ের জনসংখ্যা ছিল ৪৭,৯৯২ জন।[৪] ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে এই জেলার ধারওয়ার এবং হুবলি শহর দুটিকে একত্রিত করে হুবলি-ধারওয়াড় শহর গঠন করা হয়। এই যুগ্ম শহরের জনসংখ্যা কর্নাটকের অন্যান্য শহর গুলির মধ্যে দ্বিতীয়, রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুর পরে। ১৯৮১ থেকে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শহরটির জনসংখ্যা ২২.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,২৭,১০৮ থেকে ৬,৪৮,২৯৮ জনে দাঁড়ায়৷ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে ধারওয়াড়ে কর্ণাটক উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়, মুম্বই-কর্ণাটক অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছে৷

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

হুবলি
জলবায়ু লেখচিত্র
জাফেমামেজুজুসেডি
 
 
 
২৯
১৫
 
 
 
৩২
১৬
 
 
১০
 
৩৫
১৯
 
 
৪০
 
৩৬
২১
 
 
৬০
 
৩৫
২১
 
 
১৫০
 
২৮
২১
 
 
২১০
 
২৬
২১
 
 
২০০
 
২৬
২০
 
 
১১০
 
২৮
২০
 
 
৬০
 
২৯
১৯
 
 
৩০
 
২৯
১৭
 
 
 
২৮
১৫
সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ এবং সর্বোনিম্ন গড়
মিলিমিটারে বৃষ্টিপাতের মোট পরিমাণ
উৎস: YR

কর্ণাটক রাজ্যের উত্তর কর্ণাটকের পশ্চিম ভাগে রয়েছে ধারওয়াড় জেলা। জেলাটি ১৫°০২' উত্তর অক্ষাংশ থেকে ১৫°৫১' উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৩°৪৩' পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৭৫°৩৫' পূর্ব দ্রাঘিমা অবধি মোট ৪,২৬৩ বর্গ কিলোমিটার ক্ষেত্রফল জুড়ে বিস্তৃত। জেলাটির উত্তর দিকে রয়েছে বেলগাভি জেলা, পূর্ব দিকে রয়েছে গদাগ জেলা, দক্ষিণ দিকে রয়েছে হাবেরী জেলা এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে উত্তর কন্নড় জেলা। ধারওয়াড় জেলার সাথে অন্য রাজ্যের সীমাবন্টন নেই।

জনতত্ত্ব[সম্পাদনা]

২০১১ খ্রিস্টাব্দের ভারতের জনগণনা অনুসারে ধারওয়াড় জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ১৮,৪৭,০২৩ জন,[৫] যা মোটামুটি ভাবে কসোভো রাষ্ট্র[৬] বা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া রাজ্যের জনসংখ্যা সমতুল্য। [৭] ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যার বিচারে এই জেলাটি ২৫৬ তম স্থান অধিকার করেছে। [৫] জেলাটির জনঘনত্ব ৪৩৪ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (১,১২০ জন/বর্গমাইল)। [৫] ২০০১ থেকে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৫.১৩ শতাংশ।[৫] ধারওয়াড় জেলায় প্রতি হাজার পুরুষে ৯৬৭ জন মহিলা বাস করেন। [৫] জেলাটির সর্বমোট সাক্ষরতার হার ৮০.০০ শতাংশ যেখানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৮৬.৩৭ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৭৩.৪৬ শতাংশ। [৫]

ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.ব.প্র. ±%
১৯০১৪,২১,৬১৯—    
১৯১১৩,৮৮,২৮৯−০.৮২%
১৯২১৩,৯৭,৯০২+০.২৪%
১৯৩১৪,৩০,৫৫৪+০.৭৯%
১৯৪১৪,৬৬,২০৭+০.৮%
১৯৫১৫,৫১,৪৬৬+১.৬৯%
১৯৬১৬,৯০,৬৬৮+২.২৮%
১৯৭১৮,৭৫,৪৬৫+২.৪%
১৯৮১১১,৪৯,১৫৩+২.৭৬%
১৯৯২১৩,৭৪,৮৯৫+১.৬৪%
২০০১১৬,০৪,২৫৩+১.৭৩%
২০১১১৮,৪৭,০২৩+১.৪২%
উৎস:[৮]

পর্যটন[সম্পাদনা]

ধারওয়াদ জেলায় পর্যটকদের জন্য একাধিক ঐতিহাসিক স্থান এবং মন্দির রয়েছে।[৯]

ধারওয়াড়

  • ধারওয়াদ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আমিনভাবিতে রয়েছে ২৪ তীর্থঙ্কর বাসড়ি অবং হীরেমাতা মন্দির ও গুহা৷ এই মন্দিরে রয়েছে কিত্তুর থেকে আনা কাঠের ওপর একাধিক চিত্র৷
হুবলি-ধারওয়াড়ের উনকালে অবস্থিত চন্দ্রমৌলেশ্বর মন্দির
আন্নিগেরির অমৃতেশ্বর মন্দির

হুবলি

  • চন্দ্রমৌলেশ্বর মন্দির হলো পশ্চিমা চালুক্য সাম্রাজ্যকালে তৈরী একটি শিব মন্দির৷ এর সংলগ্ন রয়েছে উনকাল হ্রদ৷
  • উনকাল হ্রদ হুবলি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ এটি বর্তমানে চরৈবেতি ও উদ্যানের কাজে ব্যবহৃত হয়, এটা ছোটোদের খেলার উদ্যান ও নৌকাবাইচের ব্যবস্থা রয়েছে৷
উনকাল হ্রদ
  • ভবানীশঙ্কর মন্দির চালুক্য আমলে তৈরী এই মন্দিরে হয়েছে বিষ্ণুর দশাবতার মূর্তি ও শিব-পার্বতী মূর্তি৷
  • আসার বা ন্যায়গৃহ ১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ আলি শাহ দ্বারা নির্মিত৷ এখানে ঐ ধর্মপ্রচারকের দুটি কেশ রয়েছে৷ মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই৷
  • নৃপতুঙ্গ পাহাড় হুবলির উত্তর-পূর্বদিকে অবস্থিত একটি শৃঙ্গ৷ এখান থেকে হুবলি-ধারওয়াড় শহরটির শোভা দর্শন করা যায়৷
সিদ্ধরূধ মঠ
  • সিদ্ধরূধ মঠ একটি ধর্মীয় স্থান, এখানে সিদ্ধরূধ স্বামীর অদ্বৈত দর্শন প্রচার করা হয়৷ এটি হুবলি শহরের বাইরে অবস্থিত৷
  • গ্লাস হাউজ, ভারতের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই কাঁচের সংগ্রহশালাটি ঈদ্বোধন করেছিলেন৷
  • বাণশঙ্করী মন্দির, অমরগোল-এ রয়েছে শঙ্কর লিঙ্গ এবং বাণসুন্দরী দেবী মূর্তি৷ এটি নবনগরে অবস্থিত৷
  • আন্নিগেরীতে রয়েছে কল্যাণী চালুক্য রাজবংশের একিধিক কীর্তি ও মন্দির৷
শম্ভুলিঙ্গ মন্দির, কুন্দগোল
  • কুন্দগোল ধারওয়াড় থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত৷ এটি শম্ভুলিঙ্গ মন্দির-এর জন্য বিখ্যাত৷ হিন্দুস্থানী শাস্ত্র সঙ্গীতের জন্যও এই স্থানটি চর্চিত৷[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এটি স্বামী গন্ধর্ব, ভারতরত্ন পণ্ডিত ভীমেশ যোশী, গাঙ্গুবাই হাঙ্গলের জন্মস্থান৷
  • কলঘাটগি:
    • কলঘাটগি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাম্বুরে রয়েছে বাসবান্না মন্দির এবং দেবীকোপ্পা বনাঞ্চল
    • শ্রী বাসবেশ্বর মন্দির কলঘাটগি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ভোগেনগরকোপ্পাতে অবস্থিত৷
    • মহালক্ষ্মী মন্দির
    • শান্তিনাথ বাসড়ি জৈনমন্দির

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Reports of National Panchayat Directory:"। Ministry of Panchayati Raj, Government of India। ৭ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  2.  One or more of the preceding sentences একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেচিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Dharwar"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ8 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 143। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]]
  3. "Reorganisation of states" (PDF)। Economic Weekly। 
  4. Columbia-Lippincott Gazetteer. p. 511
  5. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  6. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১১Kosovo 1,825,632 July 2011 est. 
  7. "2010 Resident Population Data"। U.S. Census Bureau। ১৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১West Virginia 1,852,994 
  8. Decadal Variation In Population Since 1901
  9. "Chapter XIV, Karnataka, The Tourist Paradise"। ৪ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০০৯