দ্য ট্রু ফুরকান
| লেখক | আল সাফি, আল মাহদি |
|---|---|
| মূল শিরোনাম | আল-ফুরকান আল-হক |
| অনুবাদক | আনিস শোরোশ |
| প্রকাশনার স্থান | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| ভাষা | ইংরেজি, আরবি |
| ধরন | ধর্ম |
| প্রকাশক | ওয়াইন প্রেস পাবলিশিং, এনামক্লো, ওয়াশিংটন |
প্রকাশনার তারিখ | জুন ১৯৯৯ |
| মিডিয়া ধরন | মুদ্রণ (বাঁধাই), অনলাইন সংস্করণ |
| পৃষ্ঠাসংখ্যা | ৩৬৬ |
| আইএসবিএন | ৯৭৮১৫৭৯২১১৭৫২ |
| ওসিএলসি | ৫২৭২৫০৪৯ |
দ্য ট্রু ফুরকান (আরবি: الفرقان الحق) হলো আরবি ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থ যাতে প্রথাগত খ্রিস্টীয় শিক্ষার উপাদানসমূহ সন্নিবেশিত করে কুরআনের শৈলী অনুকরণের প্রয়াস পেয়েছে।
মতামত ও প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]ব্যাপ্টিস্ট নিউজের তথ্য অনুসারে, "প্রজেক্ট ওমেগা ২০০১"-এর কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য আল-মাহদি ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে দ্য ট্রু ফুরকান প্রকাশ করেন এবং মন্তব্য করেন যে, মুসলিমরা "সুসমাচারের প্রকৃত বার্তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে"।[১] গ্রন্থটি "আল সাফি" এবং "আল মাহদি" ছদ্মনামধারী লেখকদের দ্বারা রচিত বলে দাবি করা হয় এবং এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন আনিস শোরোশ, যিনি গ্রন্থটিকে "মুসলিমদের মুক্ত করার একটি হাতিয়ার" হিসেবে অভিহিত করেছেন।[২] আনিস শোরোশ বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মদ হলেন অ্যান্টিক্রাইস্ট বা খ্রিস্টশত্রু।[৩] গ্রন্থটিতে ৭৭টি সংখ্যায়িত অধ্যায়, একটি ভূমিকা এবং একটি উপসংহার রয়েছে।[৪] শোরোশের মতে, দ্য ট্রু ফুরকান হলো কুরআনের সেই চ্যালেঞ্জের একটি যোগ্য প্রত্যুত্তর, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে কেউ কুরআনের অনুরূপ কোনো গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম নয়;[৫] এবং এটিতে ইসলামি বার্তার পরিবর্তে খ্রিস্টীয় বার্তা সংযোজিত হয়েছে।[৬] "এই গ্রন্থটি কুরআনিক শৈলীকে এতটাই নিখুঁতভাবে পুনরুৎপাদন করেছে যে, জনসমক্ষে এটি উচ্চস্বরে পাঠ করার পর আরব্য মুসলিমরা একে মূল কুরআন মনে করে পাঠকারীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে।"[৭]
খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারক ড. রে রেজিস্টার এই গ্রন্থটিকে প্রাক-ধর্মপ্রচারণা বা ইভানজেলিজমের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা কুরআনের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং যিশু ও নৈতিক জীবনযাপন সম্পর্কে প্রচলিত মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে।[৮]
গ্রন্থটিকে খ্রিস্টীয় প্রচারপত্র বা প্রোপাগান্ডা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে, কারণ এর দ্বিতীয় শ্লোকেই "পবিত্র ত্রিত্ব সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়, যা একটি সম্পূর্ণ ইসলাম-বহির্ভূত ধারণা।"[৯] এছাড়া দ্য আমেরিকান মুসলিম পত্রিকা গ্রন্থটিকে একটি "প্রবঞ্চনা" বলে অভিহিত করেছে এবং মন্তব্য করেছে যে, এটি "অবিশ্বাসী মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা, কারণ কয়েকশ বছরের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতি নগণ্য সাফল্যই অর্জিত হয়েছে"।[১০] অন্যান্য সমালোচকরা এটিকে "নিম্নমানের ও হাস্যকর বিষয়বস্তুসমৃদ্ধ" এবং "কুরআনের আয়াতের সাদৃশ্য তৈরি করে কুরআনিক শিক্ষাকে বিকৃত করার একটি করুণ প্রচেষ্টা" বলে আখ্যা দিয়েছেন।[১১]
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি পণ্ডিতগণ যুক্তি দেখিয়েছেন যে, দ্য ট্রু ফুরকান কুরআনের অদ্বিতীয়ত্ব বা তাহাদ্দি বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রচেষ্টায় ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।[১২]
মাইকেল আর. লিকোনা দ্য ট্রু ফুরকান এবং বার্নাবাসের সুসমাচারের মধ্যে একটি সাদৃশ্য অঙ্কন করেছেন; উভয় গ্রন্থই একটি ধর্মের শাস্ত্রীয় শৈলী অনুকরণ করে অপর ধর্মের মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করে, যদিও এক্ষেত্রে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের ভূমিকা বিপরীতমুখী।[১৩]:৯৯
কিছু ইসলামি বিশ্বাসী মনে করেন যে, দ্য ট্রু ফুরকান মার্কিন বা ইজরায়েলি সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে। মিশরের সংবাদপত্র আল-উসবু তাদের ৬ ডিসেম্বর ২০০৪ সংস্করণে দাবি করে যে, "দ্য ট্রু কোরান সরাসরি ইজরায়েলি অংশগ্রহণ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশের প্রত্যক্ষ নির্দেশে খসড়া করা হয়েছিল।"[১৪] তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দ্য ট্রু ফুরকান রচনায় মার্কিন সরকারের কোনো ধরণের অংশগ্রহণের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।[১৪] অনুবাদক আনিস শোরোশের মতে, "এই গ্রন্থ প্রস্তুতিতে কোনো ইজরায়েলি সম্পৃক্ততা ছিল না।"[১৪]
নিষেধাজ্ঞা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "C.S. Arthur, "New book answers challenge issued by Islam's holy book", Baptist News, 28 May 1999"। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Anis Shorrosh's home page
- ↑ "Yohanna Katanacho, "Palestinian Protestant Theological Responses to a World Marked by Violence", p. 5 (also in Missiology 36, no. 3 (2008))" (পিডিএফ)। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Table of Contents
- ↑ সূরা ১৭:৮৮ (কুরআনের অনুরূপ কেউ রচনা করতে পারবে না), সূরা ১১:১৩ (কুরআনের মতো দশটি সূরা কেউ তৈরি করতে পারবে না), সূরা ২:২৩ (কুরআনের মতো একটি সূরাও কেউ রচনা করতে পারবে না)
- ↑ Yohanna Katanacho, "Palestinian Protestant Theological Responses to a World Marked by Violence", p. 6 (also in Missiology 36, no. 3 (2008)) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে.
- ↑ Qureshi, Nabeel (২০১৪)। Seeking Allah, Finding Jesus: A Devout Muslim Encounters Christianity। Grand Rapids, Michigan: Zondervan। পৃ. ২২৯। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১০৫১৫০২৯।
- ↑ Ray Register, "Discipling Middle Eastern Believers", St Francis Magazine Nr. 2 Vol. V (April 2009) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১১-০৭-২১ তারিখে, p. 41
- ↑ Whitaker, Brian "The Nashville Qur'an" Guardian 8 February 2007
- ↑ "Sheila Musaji, "The 'True Furqan' Qur'an Hoax", The American Muslim"। ১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ The Middle East, abstracts and index, Library Information and Research Services, vol. 4, 2005, p.456
- ↑ NajarZadegan, Fath Allah; Haftador, Hassan Rezaee; Shahmoradi, Muhammad Mahdi (জানুয়ারি ২০১৭)। "The Methodology of Assessing the "The True Furqan's" Challenge of the Qur'an" (পিডিএফ)। Man in India। ৯৭ (14): ৩৬৭–৩৭৮। ৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Licona, Michael (২০০৯)। "Using the Death of Jesus to Refute Islam" (পিডিএফ)। Journal of the International Society of Christian Apologetics। ২ (1): ৮৭–১১০।
- 1 2 3 State Department Press Release, "A New American Koran?", 21 April 2005 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে
- ↑ Notification No. 78 /2005-Customs (N.T.) (Archived from the original on 24 April 2015.)
- ↑ Suroor, Hasan (৩ মার্চ ২০১২)। "You can't read this book"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।