দ্য ইউরোপ ট্রাস্ট
সংস্থার লোগো | |
| গঠিত | ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | ইউরোপে ইসলামিক সংগঠনের ফেডারেশন |
| ধরন | দাতব্য সংগঠন, কোম্পানি |
| আইনি অবস্থা | নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা ও কোম্পানি |
| উদ্দেশ্য | ইউরোপীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের অর্থায়ন |
| সদরদপ্তর | মার্কফিল্ড, যুক্তরাজ্য |
যে অঞ্চলে কাজ করে | ইউরোপ |
প্রধান নির্বাহী | ড. আহমেদ কাধেম আল-রাওয়ি l |
| সম্পৃক্ত সংগঠন | ইউরোপে ইসলামিক সংগঠনের ফেডারেশন (FIOE) |
স্টাফ | ৩ |
স্বেচ্ছাকর্মী | একাধিক |
প্রাক্তন নাম | ইউরোপিয়ান ট্রাস্ট |
ইউরোপ ট্রাস্ট (ইংরেজি: The Europe Trust), পূর্বে যা ইউরোপিয়ান ট্রাস্ট নামে পরিচিত ছিল, একটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ও কোম্পানি, যার উদ্দেশ্য হিসাবে ইউরোপের সম্প্রদায়ের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পসমূহে অর্থায়নের লক্ষ্যে সম্পদভিত্তিক পোর্টফোলিও গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপে ইসলামিক সংগঠনসমূহের ফেডারেশন, যা ইউরোপে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইউরোপ ট্রাস্ট যুক্তরাজ্যের মার্কফিল্ড-ভিত্তিক একটি কোম্পানি ও দাতব্য সংস্থা, যা প্রথম ১৯৯৬ সালে "ইউরোপিয়ান ট্রাস্ট" নামে যুক্তরাজ্যে একটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং পরে ২০০৩ সালে "ইউরোপ ট্রাস্ট" নামে একটি কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।[১] ২০০৪ সালে এটি আবার "ইউরোপ ট্রাস্ট" নামে একটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ২০০৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির প্রধান কার্যক্রম ছিল সম্পদ ওয়াকফ ভিত্তিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি পোর্টফোলিও গঠন, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব।[২]
ইউরোপ ট্রাস্ট বার্লিনের ওয়েডিং (ড্রন্টহাইমার স্ট্রাসে ৩২) জেলায় চার মিলিয়ন ইউরো মূল্যে একটি সম্পত্তি ক্রয় করেছে। সেখানে একাধিক সংগঠন ও গ্রুপ অবস্থান নিয়েছে, যেগুলোকে জার্মান ফেডারেল ও রাজ্য সংবিধান সুরক্ষা অফিস পর্যবেক্ষণ করছে, অর্থাৎ সেগুলো জার্মান গৃহ নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে রয়েছে।[৩] ইউরোপ ট্রাস্টের পরিচালক ও ট্রাস্টিগণ হলেন মধ্যপ্রাচ্য বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় মুসলমান। সংস্থাটিতে তিনজন কর্মচারী এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবক কর্মরত রয়েছেন। প্রাক্তন ট্রাস্টি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. আহমেদ কাধেম আল-রাওয়ি বর্তমানে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ
[সম্পাদনা]ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং দ্য টাইমস-এর মতো প্রধান সংবাদমাধ্যমসমূহ ইউরোপ ট্রাস্টকে ইউরোপে মুসলিম ব্রাদারহুড-এর আর্থিক বাহন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ২০০৫ সালে জানায়, ইউরোপিয়ান ট্রাস্ট ইউরোপে ইসলামিক সংগঠনসমূহের ফেডারেশন এর গালফ দাতাদের ওপর থেকে আর্থিক নির্ভরতা কমাতে ১৯৯৬ সালে গঠিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ট্রাস্টটি FIOE-এর বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন তিনটি কলেজ এবং তিনটি স্থানীয় ইসলামিক কেন্দ্রকে অর্থায়ন করেছে।[৪] দ্য টাইমস জানায়, ইউরোপ ট্রাস্টের £৮.৫ মিলিয়নেরও বেশি সম্পত্তি সম্পদ রয়েছে এবং এসব সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার অর্থ ইউরোপব্যাপী মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহে পাঠানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেন মুসলিম এসোসিয়েশন অব ব্রিটেন, যা ২০১০ সালে একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী দ্বারা যুক্তরাজ্যে ব্রাদারহুডের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত হয়।[৫]
সমালোচনা
[সম্পাদনা]দ্য টাইমস অব লন্ডন ইউরোপ ট্রাস্ট ও/অথবা এর ট্রাস্টিদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন সংযোগের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইউরোপ ট্রাস্ট ওয়েলসে একটি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করেছে, যেখানে লি রিগবি হত্যার এক অপরাধী পড়াশোনা করেছিল।[৬] আহমেদ আল-রাওয়ি একবার ইসরায়েলকে “হত্যা যন্ত্র” এবং এর নেতৃবৃন্দকে “সিয়োনিস্ট যুদ্ধাপরাধী” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ২০০৪ সালে হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একত্রে ইসলামের ভূমি থেকে “দখলের অপবিত্রতা দূর” করার আহ্বান জানান।[৫]
ইউরোপ ট্রাস্টের বর্তমান ও প্রাক্তন ট্রাস্টিদের মধ্যে রয়েছেন এমন সিনিয়র ব্যক্তিরা, যারা এমন দুটি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যেগুলোকে ইসরায়েল নিষিদ্ধ করেছে এবং আমেরিকান সরকার যেগুলোকে হামাসের অর্থ স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট বলে মনে করে।[৭] এক প্রাক্তন ট্রাস্টি কুয়েতি সংগঠন লাজনাত আল-দাওয়া আল-ইসলামিয়া পরিচালনা করেন, যেটি আল-কায়েদার অর্থায়নের অভিযোগে জাতিসংঘ কর্তৃক নিষিদ্ধ। এর পাকিস্তান শাখা পরিচালনা করতেন খালিদ শেখ মোহাম্মদের ভাই, যিনি ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।[৫]
ইউরোপিয়ান ট্রাস্টের এক প্রাক্তন ট্রাস্টি ও জার্মান ইসলামী সোসাইটির প্রাক্তন প্রধান, যিনি মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অনুপস্থিত অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। জার্মান ফেডারেল পুলিশ তাকে এক সালাফি সৌদি সংগঠনের পক্ষে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের জন্য তদন্ত করে, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। সেই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বসনিয় শাখাকে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদার অর্থায়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "About the register of charities"।
- ↑ Financial Statement Europe Trust 2005
- ↑ Welt vom 11.12.2021 Ein Islamistenzentrum in Berlin – finanziert mit Geld aus England
- ↑ Ian Johnson, The Wall Street Journal; 29 December 2005; How Islamic Group's Ties Reveal Europe's Challenge; A Conduit to Mainstream, Muslim Lobbyist Also Has Some Fundamentalist Links (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
- 1 2 3 4 Andrew Norfolk (১০ জুলাই ২০১৫)। "The money trail: from student digs to 'mothership of Islamism'"। The Times।(সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
- ↑ Andrew Norfolk (১০ জুলাই ২০১৫)। "Unwitting students fund Islamist projects with their rent payments"। The Times।(সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
- ↑ Richard Kerbaj, British aid workers risk arrest in Gaza, The Times, 9 May 2008; Source: (behind pay wall)