দ্বিতীয় বাহাউদ্দিন সাম
| বাহা আল-দীন সাম দ্বিতীয় | |
|---|---|
| বামিয়ান উপত্যকার মালিক | |
| রাজত্ব | ১১৯২–২৪ ফেব্রুয়ারি ১২০৬ |
| পূর্বসূরি | আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ |
| উত্তরসূরি | জালালউদ্দিন আলি |
| জন্ম | ১২শ শতাব্দী বামিয়ান উপত্যকা |
| মৃত্যু | ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২০৬ গজনীর কাছে |
| দাম্পত্য সঙ্গী | আলাউদ্দিন আতসিজের কন্যা |
| বংশধর | জালালউদ্দিন আলি আলাউদ্দিন মুহাম্মদ |
| প্রাসাদ | ঘুরি সাম্রাজ্য |
| পিতা | শামস আল-দীন মুহাম্মদ ইবনে মাসুদ |
| মাতা | গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মাদের বোন |
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম |
বাহা আল-দীন সাম দ্বিতীয় (ফার্সি: بهاء الدین سام) ১১৯২ থেকে ১২০৬ সাল পর্যন্ত বামিয়ান উপত্যকার ঘুরি সাম্রাজ্য শাখার চতুর্থ শাসক ছিলেন।
উৎস এবং উত্থান
[সম্পাদনা]বাহা আল-দীন সাম দ্বিতীয় ছিলেন শামস আল-দীন মুহাম্মদ ইবনে মাসুদ এবং তার আত্মীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মাদের এক (নামহীন) বোনের পুত্র। বাহা আল-দীনের আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ নামে একজন বড় সৎ ভাই ছিল, যার মা ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত। ১১৯২ সালে তাদের পিতার মৃত্যু হলে আব্বাস শীঘ্রই সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে গিয়াসউদ্দিন এবং তার ভাই মুহাম্মাদ ঘুরি অল্প সময়ের মধ্যেই আব্বাসকে ক্ষমতাচ্যুত করেন এবং তার পরিবর্তে বাহা আল-দীনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।[১]
শাসনকাল
[সম্পাদনা]সিংহাসনে আরোহণের কিছুকাল পরেই বাহা আল-দীন তার প্রজাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং বিশিষ্ট ইরানি দার্শনিক ফখরুদ্দীন আল রাযির মতো অনেক পণ্ডিতকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। ১১৯৮ সালে বাল্খের গভর্নরের মৃত্যুর পর বাহা আল-দীন শহরটি কারা-খিতানদের নিয়ন্ত্রণ থেকে ছিনিয়ে নেন। একই বছরে ঘুরিদের সাথে খোয়ারিজমীয় রাজবংশের যুদ্ধ শুরু হয়, যাদের সমর্থনে ছিল তাদের আধিপত্যবাদী কারা-খিতানরা; খোয়ারিজমীয়রা হেরাত আক্রমণ করে, অন্যদিকে কারা-খিতানরা গুজগান আক্রমণ করে এবং বাহা আল-দীনের কাছে কর দাবি করে।[২] তবে ঘুরিরা শীঘ্রই এই দুই সাম্রাজ্যকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয় এবং এই সুযোগটি ব্যবহার করে তারা মার্ভ, সারখাস, নাসা, আবিওয়ার্দ, তুস এবং নিশাপুর জয় করে।[২] শীঘ্রই বেশ কয়েকজন ঘুরি রাজপুত্রকে এই শহরগুলোর গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে বাহা আল-দীনের দাদা ফখর উদ্দিন মাসুদের ভাইপো তাজ আল-দীন জাঙ্গি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
১২০৩ সালের মার্চ মাসে গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মদ অসুস্থতায় মারা যান এবং ঘুরি রাজবংশের প্রধান হিসেবে তার ভাই মুইজ আদ-দীন মুহাম্মদ (মুহাম্মাদ ঘুরি) স্থলাভিষিক্ত হন। গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যুর পরপরই খোয়ারিজম-শাহ দ্বিতীয় মুহাম্মদ ঘুরি সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন এবং হেরাত অবরোধ করেন। মুইজ তার জেনারেল হুসাইন ইবনে খারমিলকে সাথে নিয়ে দ্রুত মুহাম্মদকে হেরাত থেকে বিতাড়িত করেন এবং তাকে খাওয়ারেজম পর্যন্ত ধাওয়া করেন, যেখানে ঘুরি সেনাবাহিনী খোয়ারিজমীয় রাজধানী গুরগঞ্জ অবরোধ করে। তবে ঘুরিরা শীঘ্রই ঘোর প্রদেশে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় এবং পিছু হঠার সময় এক মারাত্মক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়। ঘোরে ফিরে আসার পর মুইজ এবং বাহা আল-দীন খোয়ারিজমে একটি নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নেন। একই সময়ে আলাউদ্দিন আতসিজ নামে একজন ঘুরি রাজপুত্র বাহা আল-দীনের এক কন্যাকে বিবাহ করেন।
তবে মুইজ আদ-দীন ১২০৬ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন, যার ফলে একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়; স্থানীয় ইরানি সৈন্যরা বাহা আল-দীন সামকে সমর্থন করে, অন্যদিকে তুর্কি গিলমান বা দাস সৈন্যরা গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মাদের পুত্র গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে সমর্থন দেয়।[৩] তবে বাহা আল-দীন সাম দ্বিতীয় এর কয়েকদিন পরেই অসুস্থতায় মারা যান,[৪] এবং তার পুত্র জালাল আল-দীন আলী স্থলাভিষিক্ত হন। জালাল আল-দীন এবং তার ভাই আলাউদ্দিন মুহাম্মদ তাদের পিতার সমর্থকদের সমর্থন লাভ করেছিলেন।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Richards 2010, পৃ. 95।
- 1 2 Bosworth 1968, পৃ. 164।
- 1 2 Bosworth 1968, পৃ. 165।
- ↑ Richards 2010, পৃ. 96।
উৎসসমূহ
[সম্পাদনা]- C. Edmund, Bosworth (২০০১)। "GHURIDS"। Encyclopaedia Iranica, Online Edition। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১৪।
- Bosworth, C. E. (১৯৬৮)। "The Political and Dynastic History of the Iranian World (A.D. 1000–1217)"। Frye, R. N. (সম্পাদক)। The Cambridge History of Iran, Volume 5: The Saljuq and Mongol periods। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ১–২০২। আইএসবিএন ০-৫২১-০৬৯৩৬-X।
- Richards, D.S. (২০১০)। The Chronicle of Ibn al-Athir for the Crusading Period from al-Kamil fi'l-Ta'rikh. Part 3। Ashgate Publishing। পৃ. ১–৩৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৫৪৬-৬৯৫২-৪।
| পূর্বসূরী আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ |
বামিয়ান উপত্যকার মালিক ১১৯২–১২০৬ |
উত্তরসূরী জালাল আল-দীন আলী |