বিষয়বস্তুতে চলুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা
লেখকবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
প্রকাশিতসেপ্টেম্বর ২০২২
প্রকাশকজনসংযোগ অধিশাখা
মিডিয়া ধরনশক্তমলাট, পিডিএফ
পৃষ্ঠাসংখ্যা১৯
ওয়েবসাইটwww.ecs.gov.bd

২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন হাবিবুল আউয়াল কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন, চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, আইন সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের করণীয়, দলগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের কাজ প্রভৃতি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ফলে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় করে ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে।

নির্বাচনের লক্ষ্য

[সম্পাদনা]

কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচনের ৫টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  1. ইচ্ছুক সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
  2. কমিশন কর্তৃক নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সকলের অবগতির জন্য ওয়েব-সাইটে প্রকাশ, পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীদের অবাধে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ।
  3. সকল প্রার্থীর প্রতি সমআচরণ, নির্বাচন কমিশনের অধিক সংখ্যক যোগ্য কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং-সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনের দায়িত্ব-পালনকারী কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রমাণ পেলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি/নির্বাচনি আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  4. কমিশন কর্তৃক সংবিধান, আইন, বিধি অনুযায়ী সকল কার্যক্রম গ্রহণ এবং যথাযথ প্রয়োগ; যাতে নির্বাচনের ফলাফল সকল ভোটার ও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
  5. নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরবর্তী আইন-শৃ্ঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে রাখা, প্রার্থী বা সমর্থক যেন নির্বাচনি আচরণ বিধি মেনে চলেন তা নিশ্চিত করা, অমান্যকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সকল প্রার্থী যেন আচরণ বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারে তা নিশ্চিত করা।

চ্যালেঞ্জ

[সম্পাদনা]

নির্বাচন কমিশন ১৪টি চ্যালেঞ্জ ঠিক করেছে। যথা:

  1. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা সৃষ্টি।
  2. নির্বাচনের দায়িত্বে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা বিশেষ করে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন।
  3. ব্যবহৃত ইভিএম এর প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা সৃষ্টি।
  4. অর্থ ও পেশীশক্তির নিয়ন্ত্রণ।
  5. নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
  6. সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ।
  7. নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে বিপক্ষ/প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী/সমর্থক/পুলিশ/প্রশাসন কর্তৃক কোন রকম বাধার সম্মুখীন না হওয়া।
  8. জালভোট/ভোটকেন্দ্র দখল/ ব্যালট ছিনতাই রোধ।
  9. প্রার্থী/এজেন্ট/ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে অবাধ আগমন
  10. ভোটারদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি।
  11. নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা/কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান।
  12. পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিতকরণ।
  13. পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিতকরণ।
  14. নিরপেক্ষ দেশী/বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োজিতকরণ।

চ্যালেঞ্জসমূহ উত্তরণের উপায়

[সম্পাদনা]

কর্মপরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জসমূহ উত্তরণের জন্য ১৯টি উপায় নির্ধারণ করা হয়েছে। যথা:

  1. বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুনলবার সাথে মতবিনিময় সভায় সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী যে সুপারিশগুলো অধিকাংশজন করেছেন তা বাস্তবায়ন।
  2. সকল রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনি প্রচারকার্য নির্বিঘ্নে করতে পারে সে বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখা।
  3. সরকারের কোনো সংস্থা কর্তৃক হয়রানীমূলক মামলা না করা।
  4. প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী-সমর্থক দ্বারা প্রার্থী, সমর্থক ও তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ না করা। এমন হলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
  5. নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া।
  6. মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন, জননিরাপত্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর সচিব, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি এর প্রধানগণের সাথে সভা করে তাঁদের অধিনস্থ কর্মকর্তা যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন তারা যেন আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন সে বিষয়ে অধিনস্তদের নির্দেশ দেয়া।
  7. প্রত্যেক ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।
  8. ভোট কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়ন করা।
  9. ইভিএম এর ব্যবহার সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে সীমাবদ্ধ রাখা। শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন ও জেলা সদরের আসনগুলোতে ব্যবহার করা।
  10. নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পরদিন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ।
  11. নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ, ভংগকারীর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সাথে সাথে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
  12. আরপিও ও নির্বাচনি আচরণ বিধিতে কতিপয় প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা।
  13. রিটার্নিং অফিসার, সহকারি রিটার্নিং অফিসার যতদূর সম্ভব নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া।
  14. রিটার্নিং অফিসার, সহকারি রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পূর্বেই শুরু করা যাতে যথাযথভাবে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয়।
  15. যে সকল প্রিজাইডিং/সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের বিষয়ে প্রার্থীর যুক্তিসংগত আপত্তি থাকবে তাদের নিয়োগ না দেয়া।
  16. দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও তাঁদের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে ব্রিফিং করা।
  17. গণমাধ্যম কর্মী নিয়োগ ও তাঁদের জন্যও ব্রিফিং এর ব্যবস্থা করা।
  18. নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অনীহা, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন-১৯৯১ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
  19. প্রার্থীদের জনসভা করার জন্য স্থান, তারিখ, সময় সিডিউল করে দেয়া।

প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

নির্বাচন কমিশনের এই কর্মপরিকল্পনাকে আবেদনহীন আখ্যা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ[১] বিএনপি বলেছে এটি আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র।[২]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]