দোস্ত মুহাম্মদ (মঘুল খান)
| দোস্ত মুহাম্মদ খান | |
|---|---|
| খান | |
| পূর্ব মঙ্গোলিস্তানের (উইঘুরিস্তান) খান | |
| রাজত্ব | ১৪৬২–১৪৬৮ |
| পূর্বসূরি | দ্বিতীয় এসেন বুকা |
| উত্তরসূরি | কেবেক সুলতান |
| জন্ম | আনু. ১৪৪৫ |
| মৃত্যু | ১৪৬৮ |
| প্রাসাদ | বোরজিগিন বংশ |
| পিতা | দ্বিতীয় এসেন বুকা |
| ধর্ম | ইসলাম |
দোস্ত মুহাম্মদ খান (চাগাতাই ও ফার্সি: دوست محمد خان; চীনা: 笃思忒马黑麻; ফিনিন: Dǔsītè Mǎhēimá; আনু. ১৪৪৫ – ১৪৬৮/৯) ছিলেন ১৪৬২ সাল থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত মঙ্গোলিস্তানের আকসু অঞ্চলের খান। তিনি দ্বিতীয় এসেন বুকার পুত্র ছিলেন।
১৪৬২ সালে যখন এসেন বুকা মারা যান, তখন দুঘলাত আমীররা দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন যে তারা তার ১৭ বছর বয়সী পুত্র দোস্ত মুহাম্মদকে অনুসরণ করবেন নাকি তার ভাই ইউনুস খানকে।[১] মুহাম্মদ হায়দার মির্জা, যিনি কাশগড় নিয়ন্ত্রণ করতেন, তিনি ইউনুস খানের খালাতো ভাই ছিলেন (তার মাতা ছিলেন ওয়াইস খানের বোন উজুন সুলতান খানম)। তবে তিনি দোস্ত মুহাম্মদকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তিনি আগে থেকেই এসেন বুকার সমর্থক ছিলেন এবং এসেন বুকার কন্যা দৌলত নিগার খানমকে বিয়ে করেছিলেন। অন্যদিকে সানিজ মির্জা, যিনি ইয়ারকন্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন, তিনি ইউনুস খানের পক্ষ নেন এবং মুহাম্মদ হায়দারকে কাশগড় থেকে বহিষ্কার করেন। এরপর মুহাম্মদ হায়দার আকসুতে দোস্ত মুহাম্মদের সাথে যোগ দেন। দুই বছর পরে ১৪৬৪ সালে, সানিজ মির্জা শিকারে গিয়ে আহত হয়ে মারা যান। এরপর দোস্ত মুহাম্মদ ইয়ারকন্দের বিরুদ্ধে অভিযান চালান; শহরের আমীররা তাকে সানিজ মির্জার বিধবা স্ত্রী জামাল আঘা, তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা আবু বকর, ওমর মির্জা এবং কন্যা খান সুলতান খানমকে তুলে দিলে তিনি অভিযান বন্ধ করে তাদের আকসুতে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি কাশগড়ের বিরুদ্ধে অভিযানে যান, কিন্তু মুহাম্মদ হায়দার ততক্ষণে শহরে ফিরে এসেছিলেন। দোস্ত মুহাম্মদ তাকে কাশগড় থেকে তাড়িয়ে দেন এবং শহর লুণ্ঠন করেন। এই ঘটনায় দুঘলাত আমীর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং তিনি ইউনুস খানের পক্ষে চলে যান।
দোস্ত মুহাম্মদের প্রধান শহর ছিল আকসু। তিনি তার বোন হুসন নিগার খানমকে তরুণ মির্জা আবু বকরের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আবু বকর তার চাচা মুহাম্মদ হায়দার মির্জার কাছে পালিয়ে যান এবং দোস্ত মুহাম্মদ খান তার বোন হুসন নিগার খানমকে তার পিছু পিছু কাশগড়ে পাঠিয়ে দেন। দোস্ত মুহাম্মদ অত্যন্ত সাহসী এবং উদার ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি এতটাই দীর্ঘদেহী ছিলেন যে একশ মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকলেও যে কেউ তাকে দেখলে মনে করত তিনি ঘোড়ায় চড়ে আছেন। তবে তার মানসিক অবস্থা অস্থিতিশীল ছিল এবং ১৪৬৮ বা ১৪৬৯ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।[২] তার মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইউনুস খান আকসু দখল করে নেন, এবং দোস্ত মুহাম্মদের পুত্র কেবেক সুলতানকে তুরফানে শাসনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Barthold, V. V. (১৯৬২)। Four Studies on the History of Central Asia। Brill। পৃ. ১৪৯।
The town of Aqsu (in Chinese Turkestan) and the region to the west of it were ruled, down to 873/1468-9, by Esen-buqa's son Dost-Muhammad, after whose death Yunus occupied Aqsu.
- ↑ Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain & Ireland। Cambridge University Press for the Royal Asiatic Society। ১৮৯৮। পৃ. ৭২৫।
The author of the "Tarikh-i-Rashidi" gives the following chronogram of the death of Dost Muhammad Khan of Aksu: = 877 H. "That pig died."
| পূর্বসূরী দ্বিতীয় এসেন বুকা |
পূর্ব মঙ্গোলীয় খান ১৪৬২–১৪৬৮/৯ |
উত্তরসূরী কেবেক সুলতান |