দোলমাবাচে প্রাসাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দোলমাবাচে প্রাসাদ
قصر يلدز.JPG
বসফোরাস প্রণালি থেকে দোলবাচে প্রাসাদ
দোলমাবাচে প্রাসাদ ইস্তানবুল-এ অবস্থিত
দোলমাবাচে প্রাসাদ
সাধারণ তথ্য
ধরনপ্রাসাদ (১৪৫৩–১৮৫৩)
স্থাপত্য রীতিবারোক স্থাপত্য
অবস্থানইস্তাম্বুল, তুরস্ক
নির্মাণ শুরু হয়েছে১৮৪৩
সম্পূর্ণ১৮৫৬
গ্রাহকউসমানীয় সুলতান
স্বত্বাধিকারীতুরস্ক
নকশা এবং নির্মাণ
স্থপতিগারাবেট বালিয়ান

দোলমাবাচে প্রাসাদ (তুর্কী: Dolmabahçe Sarayı দোল্‌মাবা(হ্‌)চে সারায়ি) ইস্তাম্বুলের বেসিকতাসে অবস্থিত একটি উসমানীয় প্রাসাদ, যা বসফোরাস প্রণালির ইউরোপীয় তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এই প্রাসাদ ১৮৫৩ সালে নির্মাণ করা হয়। এই প্রাসাদ ১৮৫৬-১৯২২ সাল পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বসফোরাস প্রণালি থেকে প্রাসাদের ক্লোজ-আপ ভিউ
প্রাসাদেরধ্যভাগের ভিউ

দোলমাবাচে প্রাসাদ তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের ৩১তম সম্রাট সুলতান প্রথম আব্দুল মজিদের আদেশে নির্মাণ করা হয়। ১৮৪৩-১৮৫৬ সালের মধ্যে এটি নির্মিত হয়। হাচি সাইদ আয়া এই প্রাসাদ নির্মাণের প্রধান দায়িত্ব পালন করেন। যদিও এর স্থপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন গারাবেত বালিয়ান, তাঁর পুত্র নিগোয়ায়োস বালিয়ান এবং এভানিস কালফা। এই প্রাসাদ তৈরিতে ব্যয় হয় তৎকালীন পঞ্চাশ লক্ষ অটোম্যান মেসিডিই স্বর্ণমুদ্রা, যা বর্তমানে ৩৫ টন স্বর্ণের সমান।

গঠনশৈলি[সম্পাদনা]

এই প্রাসাদ মোট ১,১০,০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।[১][২]

প্রাসাদটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।

  • মাবেইন-ই হুমায়ুন (এই অংশ পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত)
  • মুয়ায়েদে সালোনু (বাণিজ্যিক হল)
  • হারেম-ই হুমায়ুন (সুলতানের পরিবারবর্গের বাসস্থান)

মূল প্রাসাদটির আয়তন ৪৫,০০০ বর্গ মিটার (১১.২ একর)। এই প্রাসাদে মোট ২৮৫ টি কক্ষ, ৪৬ টি হলরুম, ৬ টি রাজকীয় স্নানাগার (হামাম) এবং ৪৮ টি টয়লেট রয়েছে।

মেধল হল (প্রধান প্রবেশ)[সম্পাদনা]

এই প্রাসাদ দেখতে গেলে প্রথমেই মেধল হল পড়ে। এই হলরুম সমুদ্র ও তীরের সম্মুখভাগে অবস্থিত। এই রুমটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হত।

রাজ্যের সচিবদের কক্ষ[সম্পাদনা]

মেধল হলের পরেই ডানদিকে তৎকালীন রাজ্যের হিসাবরক্ষকদের হল অবস্থিত। এই রুমটি “টাইল্ড রুম” হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মূল্যবান চিত্রশৈলি এই হলে রয়েছে, যা হলের দেয়ালে শোভা বৃদ্ধি করেছে।

মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের কক্ষ[সম্পাদনা]

মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক স্বাধীন তুরস্কের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি এই প্রাসাদে তাঁর জীবনের শেষ সময়গুলো কাটান চিকিৎসার জন্য। তিনি ১০ নভেম্বর, ১৯৩৮ সালে সকাল ৯.০৫-এ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি যেই ঘরে থাকতেন, সেই ঘরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যা বর্তমানে যাদুঘরের একটি অংশ হিসেবে সংরক্ষিত। সে সময় পুরো প্রাসাদের সকল ঘড়ি ৯.০৫ এ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা আর চালু করা হয় নি। কিন্তু পরবর্তীতে পুরাতন ঘড়িগুলোর পাশাপাশি নতুন ঘড়ি লাগানো হয়। তবে পুরাতন ঘড়িগুলো এখনো ৯.০৫-এ বন্ধ আছে।

ভিজিট আওয়ার[সম্পাদনা]

দলমাবা’চ প্রাসাদ যাদুঘরটি সরকারী ছুটির দিন (সোমবার ও বৃহস্পতি বার ব্যতীত) সকাল ৯.০০ থেকে বিকাল ৪.০০ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Dolmabahçe Palace Museum"। ১৭ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৩ 
  2. "Turkish Ministry of Tourism site about Dolmabahçe Palace"। ১০ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]