বিষয়বস্তুতে চলুন

দৈনিক দিনকাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দৈনিক দিনকাল
ধরনদৈনিক পত্রিকা
ফরম্যাটব্রডশিট ও অনলাইন সংস্করণ
প্রকাশকআতিকুর রহমান রুমন
সম্পাদকআতিকুর রহমান রুমন
পরিচালনার সম্পাদকঅ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (ব্যবস্থাপনা সম্পাদক)
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৮৬; ৪০ বছর আগে (1986)[]
ভাষাবাংলা
পুনঃপ্রতিষ্ঠাকাল১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সদর দপ্তরতেজগাঁও, ঢাকা, বাংলাদেশ
দেশবাংলাদেশ
প্রচলন১৫,৫৮০[][]
ওয়েবসাইটdainikdinkal.news

দৈনিক দিনকাল হলো বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক সংবাদপত্র। ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটি বিএনপির মুখপত্র হিসেবেও পরিচিত।[] ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ ঘোষণা করে, তবে পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট পত্রিকাটি প্রকাশের অনুমোদন দেওয়া হয়।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৮৬ সালে দৈনিক দিনকাল প্রকাশনা শুরু হয়। প্রথমদিকে এটি সানাউল্লাহ নূরীর সম্পাদনায়[] এবং মাজেদুর রহমানের প্রকাশনায় প্রকাশিত হতো। প্রকাশনার শুরুর সময়ে দিনকাল মূলত জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শকে কেন্দ্র করে সংবাদ পরিবেশন করত। নব্বইয়ের দশকে পত্রিকাটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বিএনপি-সমর্থিত পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ২০০২ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে পত্রিকাটির প্রকাশক ও মুদ্রাকরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলবিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান[] এর ফলে পত্রিকাটি সরাসরি বিএনপি নেতৃত্বের অধীনে চলে আসে এবং দলীয় নীতি-আদর্শ প্রচারে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকে। পত্রিকাটির সম্পাদকীয় দলে সময়ে সময়ে পরিবর্তন এসেছে। প্রয়াত রেজওয়ান সিদ্দিকি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সময়ে দিনকাল রাজনৈতিক সংবাদ ছাড়াও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক ইস্যুতে বিশেষ সংখ্যাও প্রকাশ করেছে। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ অনেক গণমাধ্যমের মতো দিনকালও চাপের মুখে পড়ে। প্রকাশনা ও বিতরণে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পত্রিকাটি আবার নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। বর্তমানে দিনকালকে বিএনপি-সমর্থিত প্রধান দৈনিক হিসেবে গণ্য করা হয়। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, মতামত, এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করে থাকে।

প্রকাশনা বন্ধ ঘোষণা

[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রকাশনা শাখা থেকে দৈনিক দিনকাল পত্রিকা বাতিলের অফিস আদেশ জারি করা হয়।[] উক্ত অফিস আদেশে পত্রিকার প্রকাশক কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের ঠিকানা ও ছাপাখানা পরিবর্তন করায় তারেক রহমানের নামে পত্রিকা মুদ্রণের যে ঘোষণাপত্র দেয়া হয়েছিলো তা বাতিল করা হয়। ফলে তখনই পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ রাখা হয়।[][][]

পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজওয়ান সিদ্দিকির মতে, ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রিকার মালিকানা তারেক রহমান থেকে মনোনীত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে এবং আইনি ডকুমেন্টস লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেয়।[][]

দৈনিক দিনকাল পত্রিকার পক্ষ থেকে বাতিলের স্থগিতাদেশ চেয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে আপিল করলে ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।[] সবশেষ, কয়েক দফা শুনানির পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আপিল খারিজ করে পত্রিকা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে পত্রিকাটির মুদ্রণ বন্ধ থাকে।[][]

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে পত্রিকা বন্ধের তীব্র নিন্দা জানান।[] এদিন জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক উদ্বেগ প্রকাশ করেন।[১০] ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ "একটি সংবাদপত্র বন্ধ করা গণতান্ত্রিক নীতির লঙ্ঘন" উল্লেখ করে দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বাতিলে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস তাদের ওয়েবসাইটে বিবৃতি দেয়।[১১] ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশে অবস্থিত মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন-এর স্মাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ মোট ৯টি দেশ প্রকাশনা ও মুদ্রণের অনুমোদন বাতিলে উদ্বেগ প্রকাশ করে।[১২][১৩] ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এই ডিক্লারেশন বাতিলের প্রতিবাদে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ এতে অংশগ্রহণ করে।[১৪]

পুনঃপ্রকাশ

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আন্দোলনের চাপে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং এর ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দৈনিক দিনকাল পুনঃপ্রকাশের অনুমোদন পায়। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ঢাকার জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান এক অফিস আদেশে পত্রিকাটির পুনঃপ্রকাশের অনুমোদন দেন।[] এর মাধ্যমে বিএনপি-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দৈনিক আবারও প্রকাশনার সুযোগ লাভ করে। গেল ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে দিনকাল পুনরায় প্রকাশনা শুরু করে।[১৫] পুনঃপ্রকাশের পর পত্রিকাটি আবারও রাজনৈতিক সংবাদ, মতামত, এবং বিশ্লেষণ প্রকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। পুনঃপ্রকাশকে অনেক বিশ্লেষক বিএনপি-সমর্থিত গণমাধ্যমের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হওয়া দিনকালকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "দুইশ বছরের দোরগোড়ায় বাংলা সংবাদপত্র"দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  2. 1 2 3 4 "Daily Dinkal publication stops as press council rejects appeal"নিউ এজ। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  3. "পত্র-পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও বিজ্ঞাপন হার"চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  4. 1 2 3 4 5 "তারেক রহমানের প্রকাশনায় চলা দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বাতিল"বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  5. 1 2 "দেড় বছর পর প্রকাশের অনুমতি পেল দৈনিক দিনকাল"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৪
  6. "দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বন্ধ"বিডিনিউজ ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  7. "Daily Dinkal suspends publication after govt scraps declaration"New Age। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  8. "দৈনিক দিনকাল প্রকাশের অনুমতি"দৈনিক কালের কণ্ঠ। আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৪
  9. "দৈনিক দিনকালের ডিক্লেয়ারেশন বাতিল, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ"বাংলা নিউজ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  10. "দৈনিক দিনকাল বন্ধে জাতিসংঘের উদ্বেগ"মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  11. "দৈনিক দিনকাল বন্ধ করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আক্রমণ: সিপিজে"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  12. "দৈনিক দিনকাল বন্ধে বাংলাদেশে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের বিবৃতি"বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  13. "Dainik Dinkal: Media Freedom Coalition worried over scrapping of declaration"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  14. "১৫ দিনের মধ্যে দিনকাল পত্রিকা খুলে না দিলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুমকি সাংবাদিক নেতাদের"prothomalo.com। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  15. {{ওয়েব উদ্বৃতিইউআরএল=https://dailyinqilab.com/national/news/682281শিরোনাম=১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশিত হবে দৈনিক দিনকালশেষাংশ=স্টাফ রিপোর্টারতারিখ=2024-08-30ওয়েবসাইট=দৈনিক ইনকিলাবসংগ্রহের-তারিখ=2025-03-22}}