দেবব্রত চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পণ্ডিত দেবব্রত (দেবু) চৌধুরী
Pandit debu chaudhuri 2014-06-24 10-36.jpg
পণ্ডিত দেবব্রত (দেবু) চৌধুরী
জন্ম
দেবব্রত (দেবু) চৌধুরী

১৯৩৫
ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ)
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষাসেনিয়া ঘরানা
পরিচিতির কারণসংগীত (সেতার)
উল্লেখযোগ্য কর্ম
৬টি বই প্রকাশ করেছেন, ৮টি রাগ সৃষ্টি করেছেন
দাম্পত্য সঙ্গীমঞ্জুশ্রী চৌধুরী
পুরস্কারপদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী
Patron(s)ওস্তাদ মুস্তাক আলী খান
ওয়েবসাইটwww.ptdebuchaudhuri.com

পণ্ডিত দেবব্রত (দেবু) চৌধুরী (জন্ম: ১৯৩৫) বিশিষ্ট সেতার বাদক ও শিক্ষক। তিনি পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পুরস্কার বিজয়ী। তিনি ছয়টি বই লিখেছেন, আটটি নতুন রাগের রচয়িতা এবং অসংখ্য সংগীত রচনা করেছেন। ১৯৬৩ সাল থেকে তিনি অসংখ্য বেতার সম্প্রচারে উপস্থিত হয়েছেন এবং তিনি ওস্তাদ মুস্তাক আলী খানের শিষ্য।[১] তাঁকে যুদ্ধোত্তর যুগের একজন শীর্ষস্থানীয় সেতার বাদক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।[২] তিনি সেনিয়া শৈলী (ঘরানা)র অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা হিসাবে বিবেচিত।[৩] দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত অনুষদের প্রাক্তন ডিন এবং প্রধান।[৪] তাঁর সংগীতটি মধুর ধ্বনির জন্য বিখ্যাত[৫] তিনি বর্তমানে নতুন দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে পুত্রবধূ এবং ভাগ্নীর সাথে রয়েছেন।

জন্ম[সম্পাদনা]

পণ্ডিত চৌধুরী ১৯৩৫ সালে ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[৬] তিনি চার বছর বয়স থেকে সেতার বাজানো শুরু করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে আঠারো বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তাঁর প্রথম সেতার বাদন সম্প্রচারিত হয়েছিল।

শিক্ষণ[সম্পাদনা]

তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেছিলেন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ডীন ও সংগীত বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত আইওয়ার মহাঋষি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (বর্তমানে মহাঋষি ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট নামে পরিচিত) বহিরাগত অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[৭] তিনি প্রয়াত পাঁচু গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ মুস্তাক আলী খানের অধীনে সেতারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।[৮]

সঙ্গীত[সম্পাদনা]

তিনি চার বছর বয়স থেকেই সেতার বাজানো শুরু করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে, আঠারো বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তাঁর প্রথম সম্প্রচারটি হয়েছিল।[৯] তিনি ৮টি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন, সেগুলি হল, বিশ্বেশ্বরী, পলাশ-সারং, অনুরঞ্জনী, আশিকী ললিত, স্বানন্দেশ্বরী, কল্যাণী বিলাওয়াল, শিবমঞ্জরী এবং প্রভাতী মঞ্জরী (তাঁর স্ত্রী মঞ্জুর স্মৃতিতে)। তিনি ভারতীয় সংগীতের ওপর তিনটি বই লিখেছেন, যার নাম ‘সেতার এন্ড ইটস টেকনিকস’, ‘মিউজিক অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘অন ইন্ডিয়ান মিউজিক’। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিনের ২৪ ঘন্টায় ২৪টি সিডি রেকর্ড করেছেন।[১০]

শৈলী[সম্পাদনা]

ফ্রেট জুড়ে স্ট্রিংটি টান দিয়ে, বিকল্প মূল স্ট্রোকিং চালিয়ে যাওয়ার আগে সেই আওয়াজটি শেষ হবার সময় দিয়ে, দ্বিতীয় স্ট্রিংয়ের টোনিক পিচ (এটি জোড়ি নামেও পরিচিত) এর সাথে পেডাল টোনটি (এটি জোড় নামেও পরিচিত) স্পষ্টভাবে বারবার বাজানোর ক্ষেত্রে তিনি শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা হিসাবে বিবেচিত হন। ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ, রবিশঙ্কর এবং নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তাঁকে যুগের অন্যতম সেরা সেতার বাদক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।[২] তিনি ১৭টি ফ্রেটের সেতার ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও অনন্য; কারণ অন্যান্য বেশিরভাগ সংগীতজ্ঞ ১৯টি ফ্রেটের সেতার ব্যবহার করেন।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. India today। Thomson Living Media India Ltd.। ২০০৮। পৃষ্ঠা 78। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  2. James McConnachie; Rough Guides (Firm) (২০০০)। World music: the rough guide। Rough Guides। পৃষ্ঠা 72। আইএসবিএন 978-1-85828-636-5। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  3. John Shepherd (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩)। Continuum encyclopedia of popular music of the world: VolumeII: Performance and production। Continuum International Publishing Group। পৃষ্ঠা 446। আইএসবিএন 978-0-8264-6322-7। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  4. Dilip Ranjan Barthakur (২০০৩)। The music and musical instruments of North Eastern India। Mittal Publications। পৃষ্ঠা 5। আইএসবিএন 978-81-7099-881-5। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  5. The beat। Bongo Productions। ১৯৯২। পৃষ্ঠা 53। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  6. Sruti। P.N. Sundaresan। ১ জানুয়ারি ১৯৯৮। পৃষ্ঠা 17। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  7. Ravi Bhushan (২০০৩)। Reference India: A-F। Rifacimento International। পৃষ্ঠা 256। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  8. Subhra Mazumdar (২০১০)। "Tied to His Strings"। The Open Magazine। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-১৯ 
  9. Abhay (২০০৮)। "Pandit Debu Chaudhuri"। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-১৯ 
  10. RANEE KUMAR (২০০৫)। "Classicist to the core"। the Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৩-১৯