দৃষ্টির জড়তা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
"Persistence of Exposure" as a visual art form, using an array of lights, waved back and forth in space, with the lights controlled by wearable computer[১]

দৃষ্টির জড়তা (Persistence of vision) হল চোখে একটি দৃশ্য চলার পিছনে অক্ষিপটএ (Retina) সেই দৃশ্য প্ৰায় ১/২৫ সেকেণ্ডের (০.০৪ সেকেণ্ড) জন্য থেকে যাওয়ার ঘটনা।[২] এর অৰ্থ, সদ্য দেখা যেকোনো দৃশ্য বৰ্তমান হয়ে থাকা এবং ক্ষণেক পূর্বে হয়ে থাকা দৃশ্যের সংমিশ্ৰণ।

পরম্পরাগত বিশ্বাসমতে মানুষের গতির জড়তা (মস্তিষ্ক কেন্দ্ৰিক) দৃষ্টির জড়তার (চক্ষু কেন্দ্ৰিক) ফল। ১৯১২ সালে ওয়াৰ্থেইমার (Wertheimer) এই বিশ্বাস নাকচ করেন,[৩] যদিও বহু ধ্রুপদী এবং আধুনিক চলচ্চিত্ৰ-তত্ত্ব পাঠ্যে এই মতবাদ এখনো প্ৰচলিত।[৪][৫][৬] গতির জড়তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা অন্য একটি তত্ত্বে দ্বিবিধ ভ্ৰম সম্পৰ্কীত ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যথা: ফাই পরিঘটন (phi phenomenon) এবং বিটা সঞ্চালন (beta movement)।

এই ঘটনার কারণ হিসাবে স্মৃতির একটা রূপ "আইকনিক মেমোরী" (iconic memory)কে বর্ণনা করা হয়।[৭] মনোরোগবিদ এবং শরীরতত্ত্ববিদরা চলচ্চিত্ৰের ক্ষেত্ৰে এই ধারণা নাকচ করেছেন যদিও বহু চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ ও তাত্ত্বিকরা করেননি। একাংশের বিজ্ঞানীরা আজকাল এই সমস্ত তত্ত্বকে এক ভ্ৰান্ত ধারণা বলে মতপোষণ করেন।[৮] দৃষ্টি তত্ত্বের জন্য ফাই পরিঘটনকে মানা হলেও এই দৃষ্টি বোধ ঘটনাটি বোঝার জন্য বলা হয় যে, চোখ "ক্যামেরা নয়"। অন্য কথায়, দৃষ্টির ঘটনা কেবল একটি মাধ্যমে আলোক নিবন্ধনের মতো সরল নয়; চোখ থেকে পাঠানো বস্তুর আলোক-সংকেত মস্তিষ্ক‍ে পৌঁছে নিৰ্দিষ্ট ও যথাযথ দৃশ্য তৈরী করে। জোসেফ অ্যাণ্ডারসন ও বারবারা ফিশার যুক্তি দৰ্শান যে, সিনেমার ক্ষেত্ৰে ফাই পরিঘটন অধিক সৃষ্টিধৰ্মী মতবাদ এবং দৃষ্টির জড়তা বাস্তববাদী মতবাদ।[৮]

This animated cartoon of a galloping horse is displayed at 12 drawings per second, and the fast motion is on the edge of being objectionably jerky.

রোমান কবি লুক্ৰেটিয়াসকে (Lucretius) দৃষ্টির জড়তার আবিষ্কারক বলা হয়, যদিও তিনি এক স্বপ্নে দেখা দৃশ্যাবলীর সংযোগে এই ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন।[৯] আধুনিককালে পিটার মাৰ্ক রজেটের (Peter Mark Roget) ১৮২৪ সালে করা কিছু ষ্ট্ৰোবস্কোপিক ( stroboscopic) পরীক্ষাকে এই তত্ত্বের ভিত্তি বলে মানা হয়।[১০]

তথ্যসূত্ৰ[সম্পাদনা]

  1. Metaveillance, CVPR 2016
  2. "Persistence of Vision"। MediaCollege.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৫-০৪ 
  3. Wertheimer, 1912. Experimentelle Studien über das Sehen von Bewegung. Zeitschrift für Psychologie 61, pp. 161–265
  4. Bazin, André (1967) What is Cinema?, Vol. I, Trans. Hugh Gray, Berkeley: University of California Press
  5. Cook, David A. (2004) A History of Narrative Film. New York, W. W. Norton & Company.
  6. Metz, Christian (1991) Film Language: A Semiotics of The Cinema, trans. Michael Taylor. Chicago: University of Chicago Press.
  7. Coltheart M. "The persistences of vision." Philos Trans R Soc Lond B Biol Sci. 1980 Jul 8;290(1038):57–69. PMID 6106242.
  8. Anderson, Joseph; Anderson, Barbara (১৯৯৩)। "The Myth of Persistence of Vision Revisited"Journal of Film and Video45 (1): 3–12। ২০০৮-০৫-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Anderson1993" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  9. Herbert, S. (2000). A history of pre-cinema. London. Routledge. p 121
  10. Maltby, R. (2004). Hollywood cinema. [Oxford]: Blackwell Publishing. p 420

বহিঃ সংযোগ[সম্পাদনা]