দুর্গা বাই ব্যাম
দুর্গা বাই ব্যাম | |
|---|---|
দুর্গা বাই ব্যাম চিত্রাঙ্কন করছেন | |
| জন্ম | ১৯৭৩ |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| পরিচিতির কারণ | চিত্রাঙ্কন |
| দাম্পত্য সঙ্গী | সুভাষ সিং ব্যাম |
| সন্তান | মানসিংহ ব্যাম, রজনী ব্যাম, রোশনি ব্যাম |
| পুরস্কার | পদ্মশ্রী (২০২২) |
দুর্গা বাই ব্যাম (জন্ম ১৯৭৩[২] ) একজন ভারতীয় শিল্পী। তিনি ভোপালে থাকেন এবং গোণ্ড ঐতিহ্যের উপজাতীয় শিল্পে কাজ করেন।
তিনি বেশ কয়েকটি প্রকাশনার জন্য চিত্রকর্ম তৈরি করেছেন এবং তাঁর কাজগুলি ব্যাপকভাবে প্রদর্শন করেছেন। ২০২২ সালে, শিল্পকলায় অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী প্রদান করে।[৩]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]দুর্গা বাই ব্যাম মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডলা জেলার বুরবাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[৪][৫]
ছয় বছর বয়সে, তিনি নিজের মায়ের কাছ থেকে দিগ্না শিল্প শিখেছিলেন, এটি বিবাহ এবং ফসল কাটার উৎসবের সময় বাড়ির ভেতরের ও বাইরের দেয়ালে এবং মেঝেতে জ্যামিতিক নকশা আঁকার একটি রীতি।[৫][৬] তাঁর প্রাথমিক দিগ্না কাজগুলি সম্প্রদায়ের লোকেদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পেয়েছিল।[৭]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]তিনি দিদিমার কাছে গল্প শুনতেন এবং মায়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন। এগুলি প্রাথমিক বছরগুলিতে তাঁর শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল।[৭] দুর্গা বাই ব্যাম ১৯৯৬ সালে ভোপালের ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মানব সংগ্রহালয় আয়োজিত একটি শিল্প শিবির থেকে তাঁর সৃজনশীল যাত্রা শুরু করেছিলেন।[৮] ১৫ বছর বয়সে, দুর্গা বাই মাটি ও কাঠের ভাস্কর সুভাষ ব্যামকে বিয়ে করেন।[৬] দুর্গা বাইয়ের শৈল্পিক জীবন কেবল সুভাষ ব্যামের সাথে তাঁর বিবাহের মাধ্যমেই নয়, বরং তাঁর সম্পর্কিত ভাই, প্রবীণ গোণ্ড শিল্পী, জানগড় সিং শ্যামের দ্বারা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। দুর্গা বাই এবং সুভাষ একসাথে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের গোণ্ড চিত্রকলার অবিচ্ছেদ্য উপাদানগুলি শেখান। তাদের চিত্রকলার মাধ্যমের আধুনিকীকরণের ফলে আসা পরিবর্তনগুলি তিনি তুলে ধরেন।[৯]

দুর্গা বাইয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে, জানগড় সিং শ্যাম, তাঁকে উৎসাহিত করেছিলেন এবং পরামর্শ দিয়েছিলেন যে বছরের পর বছর ধরে তাঁরা যা করে আসছেন তার পুনরাবৃত্তি না করে বরং তাঁদের দক্ষতা ব্যবহার করে নতুন জিনিস তৈরি করা।[১০] তাঁর বিষয়বস্তু আদিবাসী লোককাহিনী এবং পৌরাণিক কাহিনীতে নিহিত এবং মূলত গোণ্ড প্রধান সম্প্রদায়ের দেবতা এবং জনপ্রিয় লোককাহিনী থেকে নেওয়া।[৫][১১] তিনি বেশ কিছু দেবীর ছবিও এঁকেছিলেন, তাদের মধ্যে আছে রাতের রক্ষক রত্মাইমুরখুরী; গ্রামে প্রবেশ করা থেকে পিশাচদের দূরে রাখা মহারালিন মাতা; দুষ্ট লোকদের হাত থেকে রক্ষাকারী খেরো মাতা; ফসলের পৃষ্ঠপোষকতাকারী বুড়ি মাই; এবং ফসল বপনের সময় আরাধনা করা দেবী কুলসাহিনমাতা। দুর্গা পুরুষ দেবতাদের ছবিও আঁকেন, যার মধ্যে আছে পরমেশ্বর দেবতা বড় দেব এবং যিনি নিশ্চিত করেন যে ঘরের উনুন (চুলা) সর্বদা জ্বলবে সেই চুলা দেব।[৫]
"আমি সবসময় যে বিষয়গুলি আঁকতে পছন্দ করি তা হল নদী, গাছ - বিশেষ করে বাঁশ গাছ যা জীবনের জন্য অত্যাবশ্যক কারণ এটি থেকে তৈরি হয় বড় দেবের বাদ্যযন্ত্র বানা এবং বাঁশুরি, বাঁশি —দীপাবলি উদযাপন, কন্যাদান, ঘর এবং শিশু, বাঘ, হরিণ, শিংওয়ালা হরিণ, ময়ূর, ষাঁড়, বাগানের টিকটিকি, শূকর, গাছের উপরে বসে থাকা পাখি এবং নীচে বসে থাকা প্রাণী।"[১২]
১৯৯৬ সালে, আনন্দ সিং শ্যাম, একজন সহকর্মী গোণ্ড শিল্পী, তাঁকে মধ্যপ্রদেশের ভারত ভবনে তাঁর শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তারপর থেকে, দুর্গা বাই ভারত ও তার আশেপাশে এবং বিদেশেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রদর্শনী করেছেন।[৫] দুর্গা বাই তাঁর প্রথম বিমান যাত্রা এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় তাঁর প্রথম বিদেশ ভ্রমণ উপলক্ষে গোণ্ড শৈলীতে বিমানের একাধিক চিত্রকর্ম করেছিলেন।[১৩] তাঁর প্রতিটি চিত্রকর্ম গোণ্ড পুরাণের আদি দৃশ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত, এগুলি তাঁর স্বাক্ষর শৈলীর অবারিত ভাবমূর্ছনা এবং সাহসী কল্পনা তৈরি করে।[৮]
২০০৩ সালে, দুর্গা বাইকে চেন্নাইতে তারা পাবলিশিং কর্তৃক একটি কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তখন থেকে তিনি বইয়ের চিত্রাঙ্কন করছেন। তিনি 'দ্য নাইট লাইফ অফ ট্রিজ', 'ওয়ান, টু, ট্রি!', 'সুলতানা'স ড্রিম'-এর মতো বেশ কয়েকটি শিল্পকর্মের চিত্রাঙ্কনে অবদান রেখেছেন।[১৪] ২০১১ সালে, দুর্গা বাই এবং সুভাষ ব্যাম নবায়ন কর্তৃক প্রকাশিত 'ভীমায়ণ: অস্পৃশ্যতার অভিজ্ঞতা' শিরোনামে বি আর আম্বেদকরের একটি গ্রাফিক জীবনী প্রকাশ করেন।
কোচি মুজিরিস বিয়েনাল ২০১৮-তে, শিল্পী দম্পতি সামুদ্রিক পাতলা কাঠের উপর একটি পরীক্ষামূলক গ্রাফিক আখ্যান তৈরি করেছিলেন যা ঐতিহ্যবাহী গোণ্ড প্রাচীর শিল্পকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।[১৫]
পুরস্কার এবং স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]
- ২০০৪ - হস্তশিল্প উন্নয়ন পরিষদ
- ২০০৬-২০০৭ - ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকলা কেন্দ্র বৃত্তি
- ২০০৯ - ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলায় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য রানী দুর্গাবতী পুরস্কার[১৬]
- কথা চিত্রকলা থেকে শিশুদের বই "মাই অ্যাণ্ড হার ফ্রেণ্ডস" এর জন্য রানার্স আপ পুরস্কার[১৬]
- ২০০৮ - তারা বুকস দ্বারা প্রকাশিত "দ্য নাইট লাইফ অফ ট্রিজ" শিরোনামের রাম সিং উর্বেতি এবং ভজ্জু শ্যামের সাথে চিত্রিত বইয়ের জন্য বোলোনা রাগাজ্জি পুরস্কার[১৪]
- ২০২২ - পদ্মশ্রী[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Durga Bai"। Saffronart। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১৯।
- ↑ "The Gond artist Durgabai"। Sunitanair.in। ১৭ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯।
- 1 2 "Padma Awardees 2022" (পিডিএফ)। Padma Awards। ২৫ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "Portraying India"। Tushita Travels (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 "Durga Bai | Paintings by Durga Bai | Durga Bai Painting - Saffronart.com"। Saffronart। ২৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯।
- 1 2 "Durga Bai: Telling Women's Stories With Gond Art"। ২৬ মে ২০১৪। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯।
- 1 2 Pande, Alka (২০১৬)। Many Indias। Must Arts Private Limited।
- 1 2 Vyam, Durgabai (২০১২)। "The Lyricism and Audacity of the Adivasi Imagination": ২১৯–২৩৪। আইএসএসএন 0019-5804। জেস্টোর 23345940।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ KUMARI, SAVITA (২০১১)। "Symposium on Indigenous Art, Contemporary Significance": ৯৫–৯৯। আইএসএসএন 0970-0927। জেস্টোর 41921941।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Between Memory and Museum। Tara Books। ২০১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৩১৪৫-২৯-৪।
- ↑ "Contemporary Artist Durga Bai Vyam"। Artsper। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Indigenius Artists – India। Sunita Nair। ২০১৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫৩১১-৩৮৭-২।
- ↑ Varma, Rashmi (নভেম্বর ২০১৩)। "Primitive Accumulation: The Political Economy of Indigenous Art in Postcolonial India": ৭৪৮–৭৬১। ডিওআই:10.1080/09528822.2013.857902। আইএসএসএন 0952-8822।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 "DURGA BAI – GOND ARTIST Of MADHYA PRADESH"। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯।
- ↑ "Gond artists' tryst with the folklore"। The Hindu। ২১ ডিসেম্বর ২০১৮। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯।
- 1 2 "Durga Bai"। sutragallery। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৯।