দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি
Centrilobular emphysema 865 lores.jpg
সামগ্রিক রোগবিজ্ঞান এখানে সেন্ট্রিলোবিওলার এমফাইসিমা দেখা যাছে যা ধূমপান এর ফলে সাধারণত হয়। এখানে ফুসফুসের সমান্তরাল ব্যবছেদ চিত্রে অনেকগুলি গহ্বর যা কালো কার্বন কণায় ভর্তি।
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
সমার্থকশব্দক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ লাং ডিজিজ (COLD), ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ এয়ারওয়ে ডিজিজ (COAD), ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসিমা, পালমোনারি এমফাইসিমা, ইত্যাদি
বিশিষ্টতাফুসফুসবিজ্ঞান
আইসিডি-১০J৪০J৪৪, J৪৭
আইসিডি-৯-সিএম৪৯০৪৯২, ৪৯৪৪৯৬
ওএমআইএম৬০৬৯৬৩
ডিজিসেসডিবি২৬৭২
মেডলাইনপ্লাস০০০০৯১
ইমেডিসিনmed/373 emerg/৯৯
পেশেন্ট ইউকেদীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি
মেএসএইচC08.381.495.389 (ইংরেজি)

দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি বলতে ফুসফুসের কিছু রোগকে বোঝায় যার কারণে ফুসফুসে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং শ্বাস- প্রশ্বাসে সমস্যার সৃষ্টি হয়। একে ইংরেজি পরিভাষায় ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (Chronic obstructive pulmonary disease, সংক্ষেপে COPD) বলে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সাথে কফ বের হওয়া। লক্ষণগুলি সময়ের সাথে সাথে আরও ক্ষতিকর হয়ে উঠে। হাঁটাচলা করা বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠা কষ্টকর হয়ে উঠে। সর্বাধিক পরিচিত দীর্ঘস্থায়ী অবরোধক ফুসফুসীয় ব্যাধি হল ক্লোমস্ফীতি বা কলাবায়ুস্ফীতি (এমফাইসিমা, Emphysema) এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লোমনালীপ্রদাহ (ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, chronic bronchitis), তবে এদেরকে বর্তমানে আর আলাদা করে দেখা হয় না।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ[সম্পাদনা]

  • কাশি
  • শ্বাসকষ্ট
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া
  • হাঁটাচলা করলে হয়রান হয়ে যাওয়া

কাশি[সম্পাদনা]

গলা বা শ্বাসনালীতে ক্ষতিকর/উত্তেজক কোনো পদার্থের উপস্থিতির কারণে কাশি হয়ে থাকে। এই ক্ষতিকর/উত্তেজক পদার্থের উপস্থিতির কারণে মস্তিষ্ক থেকে তলপেট ও বুকের পেশীতে সংকেত পৌঁছায় যাতে ফুসফুস থেকে প্রবল বাতাস বা নিঃশ্বাসের সাহায্যে উত্তেজক পদার্থটি বের হয়ে আসে।

কাশি হলো এমন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা আকস্মিকভাবে হয়ে থাকে ও যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে শ্বাসনালী থেকে যে কোনো দূষিত পদার্থ ও জীবাণু বাইরে বেরিয়ে আসে। কাশির এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত তিনটি পর্যায়ে হয়ে থাকে। প্রথম পর্যায়ে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাতাস আবদ্ধ শ্বাসরন্ধ্রে চাপ সৃষ্টি করে এবং তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ে ফুসফুস থেকে আবদ্ধ শ্বাসরন্ধ্রের ভেতর দিয়ে জোরপূর্বক সশব্দে বাতাস বেরিয়ে আসে, যাকে আমরা কাশি বলে থাকি। কাশি ইচ্ছাকৃত বা স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে। কাশি বা কফ স্বল্পদিনের জন্য হলে তা দেহের তেমন কোনো ক্ষতি করে না। তবে এটি কয়েক সপ্তাহ বা এর বেশিদিন স্থায়ী হলে ও কফের সাথে রক্ত গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন- নিদ্রাহীনতা, মাথাব্যথা, মূত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে অসামর্থ্য হওয়া ও পাঁজরের ক্ষতি।