দাহহাক ইবনে কায়স আল-ফিহরি
দাহহাক ইবনে কায়স আল-ফিহরি | |
|---|---|
| الضَّحَّاك بْنِ قَيْس الْفِهْرِيّ | |
| দামেস্কের উমাইয়া গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ৬৮০–৬৮৪ | |
| সার্বভৌম শাসক | দ্বিতীয় মুয়াবিয়া (ব. ৬৭৩–৬৮৪) প্রথম ইয়াজিদ (ব. ৬৮০–৬৮৩) |
| কুফার উমাইয়া গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ৬৭৫–৬৭৮ | |
| সার্বভৌম শাসক | প্রথম মুয়াবিয়া (শা. ৬৬১–৬৮০) |
| পূর্বসূরী | আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে উসাইদ |
| উত্তরসূরী | আবদুর রহমান ইবনে উম্মে হাকিম |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| মৃত্যু | ১৮ আগস্ট, ৬৮৪ মার্জ রহিত (দামেস্কের উত্তর প্রান্ত) |
| সম্পর্ক | ফাতিমা বিনতে কায়েস (বোন) |
| সন্তান | আবদুর রহমান ইবনে দাহহাক |
| পিতামাতা | কায়েস আল-ফিহরি |
দাহহাক ইবনে কায়স আল-ফিহরি ( আরবি: الضَّحَّاك بْنِ قَيْس الْفِهْرِيّ; মৃত্যু: আগস্ট, ৬৮৪) ছিলেন একজন উমাইয়া সেনাপতি, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান এবং প্রথম মু'আবিয়া, প্রথম ইয়াজিদ ও দ্বিতীয় মু'আবিয়ার শাসনামলে দামেস্কের গভর্নর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উমাইয়াদের অনুগত থাকলেও দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর উমাইয়া-বিরোধী আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের পক্ষে যোগদান করেন।
জীবনী
[সম্পাদনা]দাহহাক ইবনে কায়স আল-ফিহরি মক্কার কুরাইশের ফিহর গোত্রের একজন প্রধান ছিলেন।[১][২] দাহহাক বনু মুহারিব ইবনে ফিহরের শাখার অন্তর্গত ছিলেন।[৩] প্রাথমিকভাবে তিনি সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সমর্থক ছিলেন এবং তার শাসনামলে সাহিব আল-শুর্তার (নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান) হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে মুয়াবিয়া তাকে জুন্দ দিমাশকের (দামেস্ক সামরিক জেলা) গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করেন। ৬৫৬ সালে দাহহাক হাররান ও রাক্কার মধ্যে অবস্থিত সমতলভূমিতে খলিফা আলীর পক্ষের সেনাপতি মালিক আল-আশ্তারকে পরাজিত করেন এবং তাকে মসুলে ফিরে যেতে বাধ্য করেন। খলিফা আলি ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধে তিনি সিরীয় পদাতিক বাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। পরে তাকে হেজাজে আলি ইবনে আবি তালিবের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করা হয়; কিন্তু তার ৩,০০০ সৈন্যের বাহিনী আলির স্থানীয় কমান্ডার হুজর ইবনে আদি আল-কিন্দির কাছে পরাজিত হয়।[৪]
এরপর মুয়াবিয়া তাকে কুফার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন, যা ইরাকের দুটি প্রধান আরব শহরের একটি ছিল। তিনি ৬৭৩/৭৪ বা ৬৭৪/৭৫ সালে কুফার গভর্নর হন। তবে তিন বা চার বছর পর তাকে পদচ্যুত করা হয়। ৬৮০ সালে প্রথম মুয়াবিয়া যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি দাহহাক ও মুসলিম ইবনে উক্ববাকে নিজের পরামর্শদাতা নিযুক্ত করেন এবং তার ছেলে ইয়াজিদের উত্তরাধিকারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। দাহহাক মুযাবিয়ার জানাজার নামাজ পড়ান এব এবং ইয়াজিদের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করেন। পরে ইয়াজিদ তাকে আবার জুন্দ দিমাশকের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন।[৪]
৬৮৩ সালে ইয়াজিদ মারা গেলে তার পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়া ক্ষমতায় আসেন; কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজের মৃত্যুর পূর্বে মুয়াবিয়া দাহহাককে নতুন খলিফা না নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত দামেস্কে মুসলিমদের নামাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে দাহহাক গোপনে আব্দুল্লাহ ইবনুল যুবায়রের পক্ষে যোগদান করেন। ইবনুল যুবায়ের ছিলেন উমাইয়াদের প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা ছিলেন, যিনি মক্কায় অবস্থান করতেন। এরপর দাহহাক প্রকাশ্যে ইবনুল যুবায়রের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। ইবনুল যুবায়ের তাকে দামেস্কের গভর্নর হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং হিমস ও কিন্নাসরিনের দায়িত্বও তাঁর ওপর অর্পণ করেন।[৪]
পরবর্তীতে উমাইয়া সেনাপতি উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ দাহহাককে আবার উমাইয়াদের দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন এবং তাকে কুরাইশদের প্রধান করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। দাহহাকের অনুগতরা ইবনুল যুবায়রের খিলাফতের দাবির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জাহির করে। অন্যদিকে, উবায়দুল্লাহ মুয়াবিয়ার সমর্থকদের সহায়তায় এবং ইয়েমেনি গোত্রের প্রধানদের সমর্থনে মারওয়ান ইবনুল হাকামকে খলিফার প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। দাহহাক দামেস্ক ছেড়ে উত্তর দিকে মার্জ রহিত সমভূমিতে কায়সী গোত্রকে সংগঠিত করতে যান। একই সময়ে, উবায়দুল্লাহ শহরে প্রবেশ করে শুক্রবারের নামাজে মারওয়ানকে নতুন খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পরে মারওয়ান ও তার সমর্থকরা দাহহাকের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। ৬৮৪ সালের শেষের দিকে প্রায় বিশ দিনের মার্জ রাহিতের যুদ্ধে দাহহাক নিহত হন এবং তার বাহিনী পরাজিত হয়।[৪]
তার পুত্র আব্দুর রহমান পরে উমাইয়াদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং দ্বিতীয় ইয়াজিদের (৭২০–৭২৪) অধীনে মদিনার গভর্নর হিসেবে কাজ করেন। দাহহাকের নির্মিত কিছু স্থাপনা; যেমন তার আবাসস্থল ও দামেস্কের সাধারণ শৌচালয় শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল। দ্বাদশ শতাব্দীর পণ্ডিত ও ইতিাহাসবিদ ইবনে আসাকির এসব উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও দামেস্কের দক্ষিণ প্রাচীরের কাছে তার অধীনে নির্মিত একটি মসজিদ ছিল, যা ১৬ শতকের ইতিহাসবিদ আল-আলমাঈ উল্লেখ করেছেন।[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Donner 1981, পৃ. 182।
- ↑ Theophilus of Edessa 2011, পৃ. 175, note 461।
- ↑ Ibn 'Abd Rabbih 2011, পৃ. 234।
- 1 2 3 4 Dietrich 1965, পৃ. 89।
- ↑ Dietrich 1965, পৃ. 90।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Dietrich, A. (১৯৬৫)। "Al-Dahhak ibn Kays al-Fihri"। Lewis, B.; Pellat, Ch.; Schacht, J. (সম্পাদকগণ)। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume II: C–G। Leiden: E. J. Brill। পৃ. ৮৯–৯০।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|lastauthoramp=উপেক্ষা করা হয়েছে (|name-list-style=প্রস্তাবিত) (সাহায্য); অবৈধ|ref=harv(সাহায্য) - Donner, Fred M. (১৯৮১)। The Early Islamic Conquests। Princeton: Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০৮-৪৭৮৭-৭।
- Ibn 'Abd Rabbih (২০১১)। Boullata, Emeritus Issa J. (সম্পাদক)। The Unique Necklace, Volume III। Reading: Garnet Publishing Limited & Southern Court। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫৯৬৪-২৪০-৫।
- Theophilus of Edessa (২০১১)। Hoyland, Robert G. (সম্পাদক)। Theophilus of Edessa's Chronicle and the Circulation of Historical Knowledge in Late Antiquity and Early Islam। Liverpool: Liverpool University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৬৩১-৬৯৭-৫।